জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টার ‘ব্যথার দান’। কর্র্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনায় এখানে পড়ে থেকে নষ্ট হতে চলেছে প্রায় ১৫ লাখ টাকার মেডিকেল সরঞ্জাম। মেয়াদ না থাকায় ইতিমধ্যে ২৫ হাজার টাকার ল্যাবরেটরি সংশ্লিষ্ট ওষুধ ফেলে দিতে হয়েছে। কর্র্তৃপক্ষ বলছে, জনবল সংকটে মেডিকেল সেন্টার পরিপূর্ণভাবে শিক্ষার্থীদের সেবায় ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না। চাহিদা দেওয়া হয়েছে। নিয়োগ হলে সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, চারজন চিকিৎসকসহ ১০ জনবল নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে ব্যথার দান। নার্স, ফার্মাসিস্ট, ল্যাব টেকনোলজিস্ট ও প্যাথলজিক্যাল চিকিৎসক নেই। ফলে যেসব সরঞ্জাম আছে, সেগুলোর সঠিক ব্যবহার হচ্ছে না। লোকবল নিয়োগের পর যন্ত্রাংশ কেনার নিয়ম থাকলেও, তা মানছে না কর্র্তৃপক্ষ। ফলে বছরের পর বছর যন্ত্রাংশ এনে নষ্ট করা হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে মেডিকেল সেন্টারের জন্য ৭ লাখ ৩৮ হাজার ৯২১ এবং ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৭ লাখ ৩৫ হাজার টাকার সরঞ্জাম কেনা হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত এগুলো ব্যবহার করা হয়নি। তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, মেডিকেল সেন্টারটি অপরিচ্ছন্ন। ঠিকমতো সেবা পাওয়া যায় না। স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে স্বাস্থ্য কার্যক্রম চলছে। সাত হাজার শিক্ষার্থীর জন্য মাত্র একটি অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে। শিক্ষার্থী সাইমুন হক শিতন বলেন, ‘২৪ ঘণ্টা মেডিকেল সেন্টার খোলা রাখার কথা বলা হলেও, তা থাকে না। অভিজ্ঞ ডাক্তার না থাকায় চিকিৎসা পাচ্ছি না। ওষুধ লিখলেও তা বাইরে থেকে কিনতে হয়।’
সিনিয়র মেডিকেল অফিসার ডা. আবুল খায়ের মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন জানান, অনেক সংকট নিয়ে চলছে ব্যথার দান। মাসে গড়ে ২৫ হাজার টাকার ওষুধ দেওয়া হয়, যা অল্প দিনেই শেষ হয়ে যায়। বিপুল অর্থে যন্ত্রাংশ কেনা হলেও, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রয়োজনীয় জনবল না দেওয়ায় তা কাজে লাগছে না। এভাবে পড়ে থাকলে যন্ত্রগুলো নষ্ট হয়ে যাবে। মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ছাড়া ল্যাব পরিচালনা করা সম্ভব নয়। এজন্য মেয়াদ উত্তীর্ণ ২৫ হাজার টাকার ওষুধ ফেলে দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) কৃষিবিদ ড. হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও চাহিদা বিবেচনায় জনবল নিয়োগ দেয় প্রশাসন। চাহিদা অনুযায়ী সরঞ্জাম না কেনায় প্রায় ১৫ লাখ টাকা নষ্ট হতে চলেছে, এটি ঠিক হয়নি। জনবল নিয়োগসহ দ্রুত সব সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হবে।’