মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল তৈরি নিয়ে বিশ্বের সমালোচনা, কংগ্রেসের বিরোধিতা কোনো কিছুই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল ট্রাম্পকে থামাতে পারেনি। মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণে ইতিমধ্যে তহবিলও জোগাড় হয়ে গেছে ট্রাম্প প্রশাসনের। দেশটির প্রতিরক্ষা তহবিল থেকেই ট্রাম্প দেয়ালের খরচ নিতে পারবেনÑ সর্বোচ্চ আদালতের এমন এক আদেশের পরে এখন সময়ের অপেক্ষা কেবল। তবে এর মধ্যে ওই দেয়াল নির্মাণের অভিনব এক প্রতিবাদ জানিয়েছে জার্মানির একটি বেরসকারি সংস্থা। ডাই অফেন গেজেলশাফট নামের ওই সংস্থাটির উদ্যোগে বার্লিন দেয়ালের এক টুকরোতে দেয়ালমুক্ত বিশ্ব গড়ার আহ্বান জানিয়ে ট্রাম্প বরাবর লেখা হয়েছে চিঠি।
আড়াই টনের বেশি ভারী ওই পাথর টুকরোর চিঠিটি ‘বার্লিনবাসীর’ পক্ষ থেকে পাঠানো হয় যুক্তরাষ্ট্রে, হোয়াইট হাউজের ঠিকানায়। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। অভিনব ওই চিঠিটি এখন ট্রাকের পিঠে চড়ে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য ঘুরে বেড়াচ্ছে, মানুষ ভিড় করে দেখছে, পড়ছে। দ্য ওয়াল এগেইনস্ট ওয়ালস প্রজেক্ট নামের এই কর্মসূচির কর্মীরাও ঘুরছেন এর সঙ্গে সঙ্গে।
বার্লিন দেয়াল পতনের ৩০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ৯ নভেম্বর কংক্রিট ও স্টিলের দেয়ালের ওই খণ্ডাংশে লেখা হয়
সেটি। চিঠিতে লেখা হয়েছে,
‘প্রিয় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প,
এটা বার্লিন প্রাচীরের আসল টুকরো। এটি দীর্ঘ ২৮ বছরে ধরে পূর্ব ও পশ্চিমকে আলাদা করে রেখেছিল। আলাদা করে রেখেছিল পরিবার ও বন্ধুদেরও। দেয়ালটি শুধু বার্লিন আর জার্মানকেই আলাদা করেনি, সারা বিশ্বেরই বিভেদের প্রাচীর হয়ে উঠেছিল এটি। ওই প্রাচীর পেরোতে গিয়ে মারা পড়েছে স্বাধীনভাবে বাঁচতে চাওয়া অসংখ্য মানুষ। আজ সেই দেয়াল পতনের ৩০ বছর পূর্ণ হলো। জার্মানি ফের একতাবদ্ধ এবং দেশজুড়ে ওই দেয়ালের মাত্র কয়েক টুকরোই অবশিষ্ট আছে।
যুক্তরাষ্ট্র এই বিভেদের দেয়াল ভাঙার জন্য দশকের পর দশক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে এসেছে। জন এফ কেনেডি থেকে শুরু করে রোনাল্ড রিগ্যান পর্যন্ত সব প্রেসিডেন্টই এই দেয়ালের বিরুদ্ধে লড়েছেন।
আমরা আপনাকে সেই পতিত দেয়ালের খণ্ডাংশ উপহার হিসেবে দেওয়ার মাধ্যমে ‘দেয়ালমুক্ত বিশ্ব’ গড়তে যুক্তরাষ্ট্রের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করিয়ে দিতে চাই।
বার্লিনের অধিবাসীরা’
ওই প্রজেক্টের সদস্য মারকোস ক্লেইনের ভাষ্য, তারা এর মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে বলতে চান, দেয়াল নির্মাণ আসলে কোনো কাজের বিষয় নয়। দেয়ালের পতন অবধারিত। পূর্ব ও পশ্চিম জার্মানির মধ্যে দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে বিভেদ তৈরি করে রাখা দেয়ালের টুকরোতে চিঠি দিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে সেটাই বোঝাতে চেয়েছি। পাশাপাশি সীমান্ত দেয়ালমুক্ত বিশ্ব গড়ার বিষয়ে জনমত গঠনের লক্ষ্যে দ্য ওয়াল এগেইনস্ট ওয়ালস প্রজেক্ট নামের ওয়েবসাইটে ওই চিঠির একটি ভার্চুয়াল অনুলিপিতে সবার স্বাক্ষর করার সুযোগও রাখা হয়েছে।
ডাই অফেন গেজেলশাফটের পরিচালক ফিলিপ হোসেম্যান জানিয়েছেন, দেয়ালের টুকরোটি এক ব্যবসায়ীর থেকে কিনে নেওয়া হয়েছে। তবে এ জন্য তিনি দাম অনেক কম রেখেছেন। তিনি জানান, টুররো সংগ্রহ থেকে শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানোর সব খরচই বহন করা হয়েছে মানুষের স্বেচ্ছা অনুদানের টাকায়।