মিয়ানমারের রোহিঙ্গা গণহত্যায় তার নির্বাক ভূমিকা নিয়ে বিশ্বজুড়ে এতদিন চলেছে সমালোচনা। কয়েক দেশ থেকে বাতিল হয়েছে পুরস্কার। কিন্তু আইনি পদক্ষেপ বলে তেমন কিছু ছিল না। অং সান সু চির বিরুদ্ধে এবার সেটি নিয়েছে রোহিঙ্গা এবং লাতিন আমেরিকার মানবাধিকার সংগঠন।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, বুধবার সুচিসহ কয়েকজন সামরিক নেতার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে আর্জেন্টিনায়। তার বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতা-বিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।
আর্জেন্টিনায় মামলা করার যুক্তি হিসেবে আইনজীবী টমাস ওজিয়া এএফপিকে বলেন, ‘আমাদের অভিযোগ গণহত্যার জন্য ষড়যন্ত্র করার বিরুদ্ধে। আর্জেন্টিনার মাধ্যমে আমরা এটি করছি কারণ অন্য কোনো জায়গায় ফৌজদারি অভিযোগ আনার সম্ভাবনা নেই।’
মিয়ানমার তাদের সংখ্যালঘু আদিবাসী রোহিঙ্গাদের স্বীকৃতি দেয় না। তারা এই সম্প্রদায়কে বাঙালি বা প্রতিবেশী বাংলাদেশের ‘অবৈধ অভিবাসী’ বলে বর্ণনা করে থাকে। তাদের তাড়াতে গত কয়েক বছর ধরে নির্মম নির্যাতন চালাচ্ছে দেশটি। প্রাণ বাঁচাতে রোহিঙ্গাদের বিরাট একটা অংশ বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।
শান্তিতে নোবেলজয়ী সু চি রোহিঙ্গা ইস্যুতে বরাবর নীরবই থেকেছেন। কখনো রোহিঙ্গাদের প্রতি খুব বেশি সহানুভূতি দেখাননি তিনি। ২০১৫ সালের নভেম্বরে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনের আগে প্রচারাভিযানের সময় সু চি রাখাইনের সহিংসতার ইস্যুটি সরাসরি এড়িয়ে যান।
এখন মূলত ‘ইউনিভার্স জুরিসডিকশন’ বা ‘বৈশ্বিক বিচার দায়বদ্ধতার’ আওতায় আর্জেন্টিনায় তার বিরুদ্ধে মামলা হল। যুদ্ধাপরাধ কিংবা মানবতাবিরোধী অপরাধ বেশি ভয়াবহ হলে যেকোনো দেশেই তার বিচার হতে পারে, এমন ধারণা থেকে এই আইন করা হয়েছিল।