বাড়িতেই ডিজেল-পেট্রোল-গ্যাস উৎপাদন করছেন আসলাম

জয়পুরহাটের যুবক আসলাম হোসেন। দর্জির কাজ করে অল্প আয়ে তার সংসারের দারিদ্রতা যেন পিছু ছাড়তো না। ভাগ্য ফেরাতে কাজে লাগালেন পরিত্যক্ত পলিথিন ও প্লাস্টিককে।

পলিথিন আর প্লাস্টিক দিয়ে জ্বালানি তেল, গ্যাস ও প্রিন্টারের কালি উৎপাদন করছেন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা আসলাম হোসেন।

নিজের মেধা, শ্রম ও কিছু পুঁজি দিয়েই এসব উৎপাদন করছেন তিনি। আসলাম মনে করেন ঋণ সহায়তা ও প্রশিক্ষণ পেলে এ কাজে স্বাবলম্বী হওয়া যাবে।

এদিকে স্থানীয়রা মনে করছেন সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে আসলামের মতো তারাও এ কাজে যুক্ত হয়ে বেকারত্ব দূর করাসহ এলাকার জ্বালানি চাহিদা মেটাতে পারবেন।

জয়পুরহাট সদরের ভাদসা পার্বতীপুর গ্রামে আসলামের বাড়ি। কয়েক মাস আগে নিজ বাড়িতে কিছু নোংরা ও পরিত্যক্ত কুড়ানো পলিথিন, প্লাস্টিক ছোট একটি টিনের ড্রামের মধ্যে বিশেষ প্রক্রিয়ায় জ্বালানি তেল উৎপাদন শুরু করে নিজের পরিবারের চাহিদা মেটাতেন।

এরপর স্থানীয় এনজিও থেকে ২০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে এ বছরের ৭ নভেম্বর বাড়ির পাশে জমিতে বড় একটি লোহার ফাঁকা ড্রামের ভেতরে পরিত্যক্ত কুড়ানো পলিথিন ও প্লাস্টিক ভরে প্রায় এক ঘণ্টা ড্রামের নিচে খড়ি ও কয়লা দিয়ে জ্বাল দেন। ড্রাম থেকে নির্গত গ্যাস স্টিলের পাইপের মধ্যদিয়ে নির্দিষ্ট জায়গাতে জমা হয়ে, সেখানে পাইপটি পানিতে ঠান্ডা হয়ে পেট্রোল এবং ডিজেল ছোট কন্টেইনারে জমা হচ্ছে।

এক কেজি পলিথিন থেকে প্রায় ৭০০ গ্রাম জ্বালানি তেল, গ্যাস ও ড্রামের তলাতে প্রিন্টারের কালি বের করতে সক্ষম হয়েছেন তিনি।

উৎপাদিত পেট্রোল-ডিজেল মোটরসাইকেল ও শ্যালো মেশিনে ব্যবহার করা হচ্ছে। কালিগুলো ব্যবহার হচ্ছে প্রিন্টারে। উৎপাদিত গ্যাস ধারণ করার মতো কোনো যন্ত্রপাতি অর্থের অভাবে কিনতে পারেননি আসলাম।

উদ্যোক্তা আসলাম হোসেন বলেন, ‘প্রথমে আমি নিজের বাড়িতে করি এবং তারপরে স্থানীয় এনজিও থেকে ২০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে বাড়ির পাশে ফাঁকা জমিতে বুদ্ধি খাটিয়ে এটি তৈরি করেছি। বর্তমানে ২০ লিটার পর্যন্ত পেট্রোল-ডিজেল, ৩দিন পরপর ২/৩ কেজি করে ড্রামের কালি ৬০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। অর্থের অভাবে গ্যাস ধারণ করার মতো যন্ত্রপাতি কিনতে পারছি না। সরকার সহযোগিতা করলে এটি আরও উন্নত করতে পারবো।

স্থানীয় মুন্না পারভেজ, রাজু মণ্ডল, মাহবুব আলম বাবুসহ অনেকে বলেন, ‘পরিত্যক্ত পলিথিনগুলো ফসলে ক্ষতিসহ পরিবেশের অনেক ক্ষতি করে। সেগুলো থেকেই এসব উৎপাদন হচ্ছে। এতে আমরা সাধুবাদ জানাই। সেই সঙ্গে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা, ঋণ সহায়তা ও প্রশিক্ষণ পেলে আসলাম আরও ভালো কিছু করতে পারবে এবং তার দেখাদেখি এই এলাকার বেকার যুবকরাও এ উদ্যোগ নেবে। এতে বেকাররা স্বাবলম্বী হবে। এলাকার কিছুটা হলেও জ্বালানি চাহিদা মিটবে। তাই সরকারের সহযোগিতা করা উচিত।

জয়পুরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিল্টন চন্দ্র রায় এই ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাকে স্বাগত জানিয়ে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সরকারিভাবে যদি কোনো সহযোগিতা করার সুযোগ থাকে তাহলে অবশ্যই দেওয়া হবে। সেই সঙ্গে পরিবেশ বান্ধব হবে।

জয়পুরহাট বিসিকের উপ-ব্যবস্থাপক আকতারুল আলম চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, এটি একটি ভালো উদ্যোগ। সরকারের পক্ষ থেকে প্রশিক্ষণ, ঋণ সহায়তা পেলেই তাদের দেওয়া হবে এবং আমরা চেষ্টা করবো তাদের সহযোগিতা করার জন্য।