দ্বিতীয়ার্ধে ওমান ঝড়ে বিধ্বস্ত বাংলাদেশ

বাংলাদেশকে কঠিন বাস্তবতা বোঝাতে ওমান সময় নিল ৪৫ মিনিট। প্রথমার্ধ ছিল সমান সমান। প্রবল প্রতিপক্ষ ওমানকে তাদের মাটিতে প্রথমার্ধে গোলহীন রেখে একপ্রকার সফল বিশ^ র‌্যাংকিংয়ে ১০০ ধাপ পিছিয়ে থাকা বাংলাদেশ। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধেই তাসের ঘরের মতো গুঁড়িয়ে গেছে সব প্রতিরোধ। মাসকট সুলতান কাবুজ স্পোর্টস কমপ্লেক্সে ওমান ম্যাচটা জিতেছে ৪-১ ব্যবধানে। এই হার বিশ^কাপ বাছাইপর্বে আগের ম্যাচে ভারতের সঙ্গে ড্র করে উড়তে থাকা বাংলাদেশকে নামিয়ে আনল মাটিতে।

প্রথমার্ধে কোচ জেমি ডে’র শেখানো রক্ষণাত্মক কৌশল বাস্তবায়নে পুরোপুরি সফল ফুটবলাররা। প্রতি আক্রমণে নিজেরা একটি ভালো সুযোগ নষ্ট না করলে হয়তো এগিয়ে থেকেই প্রথমার্ধ শেষ করতে পারত বাংলাদেশ। ঘর সামলে আক্রমণে যাওয়া খুব বেশি না হলেও, শক্তিশালী ওমানকে সেভাবে আক্রমণ গড়তে দেয়নি বাংলাদেশ। ১১ মিনিটে প্রতি আক্রমণ থেকে গোল পেতে পারত বাংলাদেশ। কিন্তু দলের অধিনায়ক জামাল ভুঁইয়ার দূরপাল্লার শট ফেরান ওমান গোলরক্ষক। ২৯ মিনিটে আশরাফুল ইসলাম রানার প্রতিরোধে গোলবঞ্চিত থাকে ওমান। ফরোয়ার্ড মোহসিন আল খালদির বক্সের বাইরে থেকে জোরালো শট কোনোমতে ফেরান রানা। ৩৬ মিনিটে ফের ত্রাতা রানা হতাশ করেছেন মুহসেন আল ঘাসানিকে। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই অবশ্য বাংলাদেশের রক্ষণে ফাটল ধরান মহসিন আল খালদি। সতীর্থের পাস ধরে বক্সের ওপর থেকে তার শট রুখতে পারেননি রানা। ৬৮ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ হয় ওমানের। সতীর্থের ক্রসে আল-মানধার পা ছুঁইয়ে স্বাগতিকদের এগিয়ে নেন। ১০ মিনিট পর বাংলাদেশ ডিফেন্ডার রিয়াদুল হাসানের ক্লিয়ারেন্সে মিডফিল্ডার আরশাদের জোরালো শটে ৩-০ হলে ম্যাচ থেকে বলতে গেলে ছিটকে যায় বাংলাদেশ। ৮০ মিনিটে নাবিব নেওয়াজ জীবন হেড করে বিপলু আহমেদকে বাড়ালে তাতে তার ডান পায়ের শট দূরের পোস্টে দিয়ে জালে জড়ালে ব্যবধান কমে বাংলাদেশের। কিন্তু যোগ করা সময়ে আমরান সাইদ গোল করে ওমানের বড় জয় নিশ্চিত করেন।

আগের তিন ম্যাচের দুটিতে হারলেও জেমির শিষ্যরা খেলেছে উপভোগ্য ফুটবল। কাল সেই খেলাটা ধরে রাখতে পারেনি বলেই বড় হার নিয়ে দেশে ফিরতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। তাদের অপর ম্যাচ আগামী বছর ২৬ মার্চ আফগানিস্তানের বিপক্ষে ঢাকায়।

‘ই’ গ্রুপের অপর ম্যাচে শেষ মুহূর্তে গোল করে আফগানিস্তানের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছে ভারত।