বাবা-মায়ের বিচ্ছেদে হাইকোর্ট দেখল ৩ বছরের শিশু

কয়েক মাস আগে বিচ্ছেদ হয়েছে ডা. শরীফুল ইসলাম ও ফারিহা আনজুম স্বর্ণার। শরীফুলের অভিযোগ, বিচ্ছেদের পর স্ত্রী স্বর্ণা ছেলে জাবিরকে তার কাছে আসতে দিচ্ছেন না। ছেলেকে কাছে পেতে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করেছিলেন শরীফুল। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত জানিয়েছে, প্রতি শনিবার ছেলের সান্নিধ্য পাবেন শরীফুল।

শিশু জাবিরের বয়স প্রায় তিন বছর। তাকে সঙ্গে নিয়ে মা ফারিহা আনজুম স্বর্ণাকে হাইকোর্টে হাজির হতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। গতকাল ছোট্ট জাবিরকে সঙ্গে নিয়ে আদালতে আসেন স্বর্ণা। শিশুটির বাবা শরীফুল ইসলামও আদালতে আসেন। বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি

 মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ আদেশে জানায়, প্রতি শনিবার সকালে স্বর্ণার বাসা থেকে শিশুটিকে শরীফুলের বাসায় নিয়ে যাবেন তার ফুফু। এছাড়া জাবিরের খরপোষের ব্যাপারে দুই পক্ষের আইনজীবী এবং স্বর্ণা ও শরীফুল নির্ধারণ করবেন বলে জানায় আদালত। আগামী বুধবার এ বিষয়ে আদালতকে অবহিত করতে হবে।

শরীফুলের রিট আবেদন গ্রহণ করে গত ২৮ অক্টোবর আদেশে ১৩ নভেম্বর জাবিরকে সঙ্গে নিয়ে স্বর্ণাকে হাজির হতে বলা হয়েছিল। ওইদিন এ বিষয়ে শুনানি না নিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার উভয় পক্ষকে হাজির হতে বলা হয়। আদালতের আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে স্বর্ণা ছেলে জাবিরকে সঙ্গে নিয়ে আদালতে হাজির হন। এরপর আদালত সমাধান হিসেবে ওই আদেশ দেয়।

আদালতে শরীফুল ইসলামের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী জামিউল হক ফয়সাল। স্বর্ণার পক্ষে ছিলেন আইনজীবী রেজা মো. সাদেকীন। দুই পক্ষের আইনজীবী শিশুটিকে নিজ নিজ হেফাজতে রাখার পক্ষে মতামত তুলে ধরেন। শিশুটির খরপোষের বিষয়টিও শুনানিতে আসে। স্বর্ণার আইনজীবী এই বলে মত দেন যে, শিশু জাবির মায়ের কাছেই থাকবে। বাবা শরীফুল মায়ের বাসায় এসে ছেলেকে দেখে যাবেন। এতে আপত্তি জানান শরীফুলের আইনজীবী। হাইকোর্ট এ সময় বলে, ‘সম্পর্ক যেহেতু নেই সেখানে এভাবে ছেলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করা একটু সমস্যা। বিচ্ছেদ হলে প্রিয় মানুষও শত্রু হয়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে দুই পক্ষকে সহনশীল হতে হবে। বাচ্চাটির ভবিষ্যতের চিন্তা করতে হবে।’ একপর্যায়ে এ বিষয়ে করণীয় নির্ধারণে দুই পক্ষের আইনজীবীকেই সিদ্ধান্ত নিতে বলে আদালত। এরপর প্রতি শনিবার সকালে শিশুটিকে বাবা শরীফুলের কাছে নেওয়া হবে এবং বিকেলে মা স্বর্ণার কাছে ফিরিয়ে নেওয়া হবে এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছান দুই পক্ষের আইনজীবী। আদালতও তাতে সম্মতি দেয়। 

সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা জানান, বনশ্রী রামপুরার বাসিন্দা শরীফুল ইসলামের সঙ্গে বাড্ডার বাসিন্দা ফারিহা আনজুম স্বর্ণার বিয়ে হয় ২০১৪ সালের নভেম্বরে। ২০১৬ সালের ১৭ নভেম্বর তাদের কোলজুড়ে আসে জাবির। চলতি বছরের জুলাইয়ে শরীফুল ও স্বর্ণার বিচ্ছেদ হয়। শরীফুলের অভিযোগ, বিচ্ছেদের পর থেকে তাকে ছেলের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না। এরপর ছেলেকে কাছে পেতে গত ২৫ অক্টোবর হাইকোর্টে রিট আবেদনটি করেন শরীফুল।