পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পাবিপ্রবি) আজ শুক্রবার হতে যাওয়া প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা পাবনায় আসতে শুরু করেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল থেকেই তারা জেলা প্রশাসন নির্ধারিত থাকার জায়গাগুলোতে এসে উঠতে শুরু করেন। ভর্তি পরীক্ষার্থী ওতাদের সঙ্গে আসা অভিভাবকদের দুর্ভোগ লাঘবে থাকার জন্য এসব জায়গার ব্যবস্থা করেছে পাবনার জেলা প্রশাসন।
পাবনার জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে এই প্রথমবারের মতো জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে জেলা পুলিশ, জেলা পরিষদ, সদর উপজেলা পরিষদ, জেলা চেম্বার অব কমার্স এবং অন্যান্য বিভিন্ন দপ্তরের সহযোগিতায় এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এদিকে জেলা প্রশাসকের এমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন পরীক্ষার্থী ও তাদের সঙ্গে আসা অভিভাবকরা।
ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের সেবায় বিভিন্ন সংগঠনের কয়েকশ স্বেচ্ছাসেবক নিয়োজিত আছেন। শহরের স্কুল-কলেজ, মসজিদ ও মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে বিনাখরচে তাদের রাখা হচ্ছে। শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের যাতায়াত, খাওয়া-দাওয়া এবং প্রাথমিক চিকিৎসাসহ সব ধরনের নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশ একযোগে কাজ করছে।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জয়নাল আবেদীন গতকাল সন্ধ্যায় দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘শহরের ৪১টি শিক্ষা ও ধর্মীয়প্রতিষ্ঠানে ইতিমধ্যেই পরীক্ষার্থীরা আসতে শুরু করেছেন। তবে সিরাজগঞ্জে ট্রেন দুর্ঘটনার জন্য অনেকেই রাস্তায় আটকা পড়েছেন। তাদের আসতে আরও কিছুটা সময় লাগবে।’
পরীক্ষা দিতে এসে পুলিশ লাইনস স্কুল অ্যান্ড কলেজে ওঠা রাজবাড়ী জেলা সদরের ভবানীপুর গ্রামের জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, ‘পাবনার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার একটি মহতী উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। পরীক্ষা দিতে এসে এ ধরনের সুযোগ পাব তা চিন্তাই করতে পারিনি।’ এই পরীক্ষার্থীর বাবা গোলাম পীর সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ‘সত্যিই আমাদের মতো অভিভাবকরা নিশ্চিন্তে সন্তানদের এখানে রেখে পরীক্ষা দেওয়াতে পারছি।’
কুড়িগ্রামের রাজাহাট থেকে মেয়ে মাসুমা আকতারকে সঙ্গে নিয়ে আসা মোস্তাকিম রহমান বলেন, ‘খুবই বিপদে ছিলাম। পরে হোটেল খুঁজে না পেয়ে শহরের একটি হেল্প লাইনে গিয়ে খোঁজ করতেই তারা আমাকে পুলিশ লাইন স্কুলের কথা বলে। পরে সেখানে আমার মেয়েকে রেখে আমি নিশ্চিন্ত হই।’
পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক ইয়াহিয়া বেপারী আকাশ বলেন, ‘জেলা প্রশাসন এবং পুলিশ প্রশাসন যে উদ্যোগটি গ্রহণ করেছে তা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টার ধারাবাহিকতা রক্ষা করা প্রয়োজন।’
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পাবনার জেলা প্রশাসক কবির মাহমুদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘পাবনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষাটি পাবনাবাসীর জন্য উৎসবের মতো। পরীক্ষা দিতে আসা ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী এবং তাদের অভিভাবকরা আমাদের অতিথি। তাদের থাকা-খাওয়ার দায়িত্ব আমাদের। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে আমরা শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।’
পাবিপ্রবির এ বছরের ভর্তি পরীক্ষায় ২৫ হাজারের মতো শিক্ষার্থীর অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।