ফরিদপুরের সালথায় সম্মেলন স্থগিতের জের ধরে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। গুলি, সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
শুক্রবার সাড়ে ৫টার দিকে সালথা বাজার এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের সময় বেশ কিছু ঘরবাড়ি ও বাজারের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন সমর্থক আহত হন।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগের সম্মেলন স্থগিত হওয়ার খবর প্রকাশিত হলে বিকেলে গট্টির রসুলপুর গ্রাম থেকে ওদুদ মাতুব্বরের (অনুপ্রবেশকারী হিসেবে পরিচিত) উদ্যোগে মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি নিয়ে সালথা বাজারের নিকটে কাউলিকান্দা স্কুল মাঠে উপস্থিত হয়ে তারা প্রতিবাদ সভা করে। সভায় সাজেদা চৌধুরীর এপিএস শফিউদ্দিন চৌধুরীও অংশ নেন।
সভা শেষে প্রতিবাদকারীরা মিছিল করে সালথা বাজার এলাকার দিকে এগোতে থাকে। ওই সময় সাব্বির চৌধুরীর (সালথা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক) নেতৃত্বে একটি মিছিল সালথা বাজার এলাকা থেকে এসে ওই মিছিলের সঙ্গে যুক্ত হয়।
মিছিলের মধ্যে সাব্বির চৌধুরীর সমর্থকরা সাজেদা চৌধুরীর কনিষ্ঠ পুত্র শাহদাব আকবর চৌধুরীর সম্পর্কে কটূক্তি করেছেন বলে গুজব রটে যায়। এ গুজবের ফলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেঁধে যায়।
সংঘর্ষ সালথা বাজারসহ আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় বেশ কিছু ঘরবাড়ি, দোকানপাট ভাঙচুর ও আহত হওয়ার ঘটনা ঘটে। তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কতগুলি বাড়িঘর ও দোকান পাট ভাঙচুর করা হয়েছে বা উভয় পক্ষের কতজন আহত হয়েছে সে সংখ্যা জানা সম্ভব হয়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ফরিদপুর পুলিশ লাইনস, গোয়েন্দা পুলিশ, বিভিন্ন থানা থেকে আগত অতিরিক্ত পুলিশ ও র্যাব সদস্যরা এসে সন্ধ্যা ৭টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষ থামতে পুলিশ গুলি, সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী পুলিশ দুই পক্ষের সমর্থকদের দুইদিকে সরিয়ে দিয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। তবে কি পরিমাণ গুলি, সাউন্ড গ্যাস ও কাঁদানে গ্যাস ছোড়া হয়েছে সে সংখ্যা তাৎক্ষণিক ভাবে তিনি দিতে পারেননি।
তিনি বলেন, এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। তবে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।