শ্রীমঙ্গলে পেঁয়াজ নিয়ে হাহাকার

পেঁয়াজের দাম নিয়ে হাহাকার বেড়েই চলছে। বাজারে পেঁয়াজের যে দাম তা নিম্ন আয়ের মানুষের নাগালের বাইরে।

শুক্রবার শ্রীমঙ্গলের পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ প্রায় ৫০ থেকে ৬০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ২২০ টাকা কেজি দরে। খুচরা বাজারে দাম ২৩০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে।

শ্রীমঙ্গল পোস্ট অফিস রোডের বাজারে গিয়ে দেখা যায়, এক পাল্লা (৫ কেজি) পেঁয়াজ ১১০০ টাকা দর হাঁকছেন বিক্রেতারা। বেশির ভাগ ক্রেতা মলিন মুখে এক কেজি পেঁয়াজ কিনে ফিরে যাচ্ছেন।

দাম কেন বেড়েছে জানতে চাইলে, বেশির ভাগ বিক্রেতা জানান, বাজারে ভারতীয় পেঁয়াজ নেই। দেশি পেঁয়াজের মজুতও প্রায় শেষ। তার ওপর ঘূর্ণিঝড়ে পেঁয়াজ পরিবহনে বিঘ্ন ঘটায় বাজারে সরবরাহ কমে গেছে। তাই দাম বেড়েছে।

শ্রীমঙ্গল সেন্ট্রাল রোডে পেঁয়াজের বাজার ঘুরে দেখা যায়, ভালো মানের দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১ কেজি ২২০ টাকা দরে। অপেক্ষাকৃত খারাপ মানের ছোট পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২১৫ টাকা দরে।

পেঁয়াজের আমদানিকারক ও পাইকারি বিক্রেতা মনোয়ার হোসেন বলেন, চাহিদার বিপরীতে জোগান একদম কম। দেশি পেঁয়াজ এখনো ওঠেনি। ভারতীয় পেঁয়াজের আমদানি নেই। সব মিলিয়ে অস্থির বাজার।

মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ, কুলাউড়া, রাজনগর, জুড়ীসহ শ্রীমঙ্গলেরও অনেক উপজেলায় শ্রীমঙ্গলের আমদানিকারক ও পাইকারদের কাছ থেকে পাইকারি বিক্রেতারা পেঁয়াজ কিনে বিক্রি করে, সেহেতু সেখানকার বাজারেও পেঁয়াজের দাম বেড়ে গেছে।  

রোজিনা খাতুন নামের মোহাজিরাবাদ গ্রামের এক গৃহিণীর ভাষ্য, বাজারের বেশির ভাগ খুচরা দোকানেই পেঁয়াজ নাই। ২৩০ টাকায় পেঁয়াজ কিনলে অন্য সবজি কীভাবে কিনব। আগের চেয়ে রান্নায় পেঁয়াজ কম দিতে হচ্ছে।

শহরের পেঁয়াজ বিক্রেতা শফিকুল ইসলাম বলেন, শ্রীমঙ্গল শহরে প্রতিদিন ৯০ থেকে ১০০ মণ পেঁয়াজের চাহিদা রয়েছে। কিন্তু গত এক সপ্তাহ ধরে সরবরাহ কম থাকায় প্রতিদিন মাত্র ২০ থেকে ৩০ মণ পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে। সরবরাহ কম থাকায় ক্রেতারা পেঁয়াজ পাচ্ছেন না। চট্টগ্রাম থেকে ১৭৫ টাকা কেজিতে পেঁয়াজ কিনতে হচ্ছে। তারপর পরিবহন খরচ রয়েছে। সব মিলে আমাদের আড়তে এসে পেঁয়াজের কেজি পড়ছে ১৯০ টাকা। তাহলে আমরা কত টাকা দরে বিক্রি করব।

জাতীয় ভোক্তা অধিদপ্তরে সহকারী পরিচালক মো. আল আমিন বলেন, প্রায়ই পেঁয়াজের বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়ে থাকে। পেঁয়াজের বাজারে কোন সিন্ডিকেট থাকলে, খোঁজখবর নিয়ে ওই সব ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।