পঞ্চগড়-১ (সদর-আটোয়ারী-তেঁতুলিয়া) আসনের তিনটি উপজেলায় আওয়ামী লীগের সম্মেলন ও কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে জেলা-উপজেলা, ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েছেন। ওয়ার্ড ইউনিয়ন এমনকি উপজেলা পর্যায়ে পৃথক সম্মেলন ও পৃথক কমিটি গঠন করা হচ্ছে। সম্মেলন, পাল্টা সম্মেলন, সংবাদ সম্মেলন ও পাল্টা সংবাদ সম্মেলন এবং পাল্টাপাল্টি কমিটি গঠন চলছে এ তিন উপজেলায়।
আটোয়ারীতে দুটি গ্রুপ পৃথক ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মেলন এবং কমিটি গঠন করেছে। সদরে একটি অংশ সংবাদ সম্মেলন করে পকেট ও ড্রয়িংরুম কমিটি গঠনের অভিযোগ এনেছে। সদর উপজেলা সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করে।
প্রায় ১১ বছর পর সীমান্তঘেঁষা সর্ব উত্তরের এ উপজেলায় আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন হয়। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয় তেঁতুলিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে ইয়াছিন আলী ম-লকে সভাপতি ও কাজী মাহমুদুর রহমান ডাবলুকে সাধারণ সম্পাদক করে। এদিকে উপজেলা আওয়ামী লীগের একটি অংশ একই দিনে পৃথক স্থানে সম্মেলন করে উপজেলা আওয়ামী লীগের নতুন কমিটি ঘোষণা করেছে। তারা সভাপতি পদে নায়বুল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে এমদাদুল হকের নাম ঘোষণা করেছে। তারা দুজনই সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান।
সম্মেলনের উদ্বোধন করেন পঞ্চগড়-১ আসনের সাংসদ ও জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি মজাহারুল হক প্রধান। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজনসহ কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও তারা কেউ সম্মেলনে ছিলেন না। তবে জেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
কাজী মাহমুদুর রহমান ডাবলু বলেন, তেঁতুলিয়ার সাতটি ইউনিয়ন ও ৬৩টি ওয়ার্ডের প্রকৃত আওয়ামী লীগের কর্মীদের নিয়েই কমিটি করা হয়েছে। কোনো হাইব্রিড ও বিতর্কিতদের কমিটিতে নেওয়া হয়নি। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার সাদাত সম্রাট তার পছন্দের লোক দিয়ে কমিটি করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতারা তা মেনে না নেওয়ায় তিনি সম্মেলনে না এসে চলে যান। তিনি মূলত এ সম্মেলনকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছেন এবং তেঁতুলিয়া আওয়ামী লীগে বিভেদ সৃষ্টি করছেন।
পঞ্চগড় জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আনোয়ার সাদাত সম্রাট বলেন, তেঁতুলিয়ায় যে দুটি কমিটি হয়েছে তা অবৈধ। দুটি পক্ষ একই দিনে একই সময়ে সম্মেলন করায় আমরা তেঁতুলিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন স্থগিত ঘোষণা করি। তারপরও তারা কমিটি করেছে। পঞ্চগড়-১ আসনের সাংসদ মজাহারুল হক প্রধান নিজের ভাগ্নে কাজী মাহমুদুর রহমান ডাবলুকে পদে রাখার জন্য জোর করে সম্মেলন করেন। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সম্পাদক ছাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটি গঠন হতে পারে না। বিষয়টি আমরা কেন্দ্রে জানিয়েছি।