নিজ কোম্পানির শেয়ারক্রয়

শেফার্ডকে সম্মতি দেয়নি এসইসি

একই গ্রুপের কোম্পানি শেফার্ড জিনসের মালিকানা কিনতে শেফার্ড ইন্ডাস্ট্রিজকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা এসইসি। তালিকাভুক্ত কোম্পানি শেফার্ড ইন্ডাস্ট্রিজ সম্পদের বিনিময়ে শেফার্ড জিনসের শেয়ার অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। তবে সম্পদের পুনর্মূল্যায়ন না করেই অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় সম্মতি দেয়নি এসইসি। গত ১৪ নভেম্বর কমিশন এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

গত ৯ এপ্রিল শেফার্ড জিনস প্রতিষ্ঠিত হয়। আর ২৪ অক্টোবর শেফার্ড ইন্ডাস্ট্রিজের ভূমি, বিল্ডিং ও যন্ত্রপাতির বিনিময়ে ব্যক্তিমালিকানাধীন শেফার্ড জিনসের ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের ১ কোটি ৫৫ লাখ শেয়ার অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এক্ষেত্রে ওই শেয়ারের বিনিময়ে শেফাড ইন্ডাস্ট্রিজের ৩৯ শতাংশ জমি, তাতে অবস্থিত গ্রাউন্ড ফ্লোরসহ তিন তলা ভবন ও যন্ত্রপাতি স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যার মূল্যমান ধরা হয় ১৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এসইসির ২০১৩ সালের নোটিফিকেশন অনুযায়ী শেফার্ড ইন্ডাস্ট্রিজের ওই জমি, ভবন ও যন্ত্রপাতির পূনর্মূল্যায়ন করা হয়নি।

জানা গেছে, শেফার্ড জিনসের টিআইএন, ট্রেড লাইসেন্স, আমদানি-রপ্তানি নিবন্ধন সনদ, বন্ডেড ওয়্যারহাউজ লাইসেন্স, ভ্যাট রেজিস্ট্রেশন, বিজিএসইএ সদস্যপদ, ইপিবি লাইসেন্স, কারখানা লাইসেন্স ও পরিবেশগত ছাড়পত্রের সনদ এখনো প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এমনকি শেফার্ড জিনস ও শেফার্ড ইন্ডাস্ট্রিজের রেজিস্ট্রেশন অফিস ও কারখানার ঠিকানা একই। এর অর্থ হচ্ছে শেফার্ড ইন্ডাস্ট্রিজের ঠিকানা ব্যবহার করছে নতুন শেফার্ড জিনস। এমনকি শেফার্ড ইন্ডাস্ট্রিজের দুজন পরিচালক শেফার্ড জিনসের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক। দুই কোম্পানির পর্ষদ সভাও একই দিন হয়েছে, যেখানে সম্পদের বিনিময়ে শেয়ার অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

গত ২৪ অক্টোবর শেফার্ড ইন্ডাস্ট্রিজের বোর্ড সভার কার্যবিবরণী পর্যালোচনায় এসইসি দেখতে পায় যে, শেফার্ড জিনসের শেয়ারের বিনিময়ে শেফার্ড ইন্ডাস্ট্রিজের যে গ্রাউন্ড ফ্লোরসহ তিনতলা ভবন স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সেটি আসলে গ্রাউন্ড ফ্লোরসহ চারতলা ভবন। এছাড়া এই কারখানা ভবনটির মূল্যমানও কমিয়ে দেখানো হয়েছে।

২০১৮ সালের ১৪ আগস্ট আর্টিস্টিক প্রোপার্টিজ লিমিটেডকে দেওয়া কার্যাদেশে কারখানা ভবনটির মূল্য দেখানো হয়েছে ৮ কোটি ২০ লাখ টাকা। অথচ গত ২৪ অক্টোবর শেফার্ড ইন্ডাস্ট্রিজের বোর্ড সভায় মূল্যমান দেখানো হয়েছে ৮ কোটি ৭ লাখ টাকা।

২০১৭ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত শেফার্ড ইন্ডাস্ট্রিজের পরিশোধিত মূলধন ১৩৬ কোটি ৬২ লাখ টাকা। কোম্পানির মোট শেয়ারের মধ্যে উদ্যোক্তা পরিচালকদের হাতে ৫১ দশমিক ৪৮ শতাংশ, বিদেশিদের ১৯ দশমিক ৮৪ শতাংশ, প্রতিষ্ঠান ১৮ দশমিক ৪৯ শতাংশ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে ১০ দশমিক ১৯ শতাংশ রয়েছে। এ কোম্পানির ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের শেয়ার লেনদেন হচ্ছে ৩২ টাকা ৯০ পয়সায়। চলতি প্রথম প্রান্তিকে এ কোম্পানির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হচ্ছে ২৪ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৪২ পয়সা।