রিফাত হত্যা: শিশু অপরাধীদের চার্জ গঠন ৮ জানুয়ারি, জামিন না মঞ্জুর

বরগুনার আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলার অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ আসামির বিরুদ্ধে বিচারিক কার্যক্রম শুরুর জন্য চার্জ গঠনের পরবর্তী তারিখ ২০২০ সালের ৮ জানুয়ারি নির্ধারণ করেছে আদালত। একই সময় চার আসামীর জামিন না মঞ্জুর করেছে আদালত।

সোমবার বরগুনার শিশু আদালতের বিচারক মো. হাফিজুর রহমান এ আদেশ দেন।  

আদালত সূত্র জানায়, চার্জ গঠনের জন্য গত ৩১ অক্টোবর অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ আসামিকে আদালতে হাজির করতে নির্দেশ দেয় আদালত। পরে সোমবার সকালে চার্জ গঠন উপলক্ষে এ মামলার অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ আসামিকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। এ সময় আদালতের বিচারকের কাছে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামি পক্ষের আইনজীবীরা সময় প্রার্থনা করলে আগামী ৮ জানুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠনের পরবর্তী দিন নির্ধারণ করেন। একই সাথে সকল আসামিকে যশোর শিশু-কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এসময় অপ্রাপ্তবয়স্ক আসামি আরিয়ান হোসেন শ্রাবণ, আবু আবদুল্লাহ রায়হান, সাইয়েদ মারুফ বিল্লাহ, মারুফ মল্লিকের জন্য জামিনের আবেদন করা হলে বিচারক তা নামঞ্জুর করেন।

রিফাত হত্যা মামলার অপ্রাপ্তবয়স্ক আসামিরা হলেন মো. রাশিদুল হাসান রিশান ফরাজী, মো. রাকিবুল হাসান রিফাত হাওলাদার, মো. আবু আবদুল্লাহ রায়হান, মো. ওলিউল্লাহ অলি, জয় চন্দ্র সরকার চন্দন, মো. নাইম, মো. তানভীর হোসেন, নাজমুল হাসান, রাকিবুল হাসান নিয়ামত, মো. সাইয়েদ মারুফ বিল্লাহ মহিবুল্লাহ, মারুফ মল্লিক, প্রিন্স মোল্লা, রাতুল সিকদার জয় ও আরিয়ান হোসেন শ্রাবণ।

রিফাত হত্যা মামলার বাদি পক্ষের আইনজীবী মজিবুল হক কিসলু বলেন, চার্জ গঠনের জন্য বাদি ও রাষ্ট্রপক্ষ সময় প্রার্থনা করেন। এছাড়াও আসামি পক্ষও চার্জ গঠনের জন্য সময় প্রার্থনা করেন। তাই আদালত আগামী ৮ জানুয়ারি এ মামলার চার্জ গঠনের সময় তারিখ নির্ধারণ করছেন।

আসামি পক্ষের আইনজীবী মোস্তফা কাদের বলেন, রিফাত হত্যা মামলার অপ্রাপ্তবয়স্ক আসামি আরিয়ান হোসেন শ্রাবণ, আবু আবদুল্লাহ রায়হান, সাইয়েদ মারুফ বিল্লাহ, মারুফ মল্লিকের জন্য জামিনের আবেদন করা হয়। পরে আদালত তাদের জামিন না মঞ্জুর করেন।  

এর আগে মামলার ধার্য তারিখ থাকায় রোববার রাতে নয়টার দিকে যশোর শিশু কিশোর সংশোধনাগারে থাকা ১৩ আসামিকে বরগুনায় আনা হয়। পুলিশ হেফাজতে সোমবার সকালে আসামিরা বরগুনা পৌঁছে। এরপর সকাল ১০ টার দিকে বরগুনার কারাগারে থাকা আরিয়ান হোসেন শ্রাবনসহ যশোর থেকে আসা ১৩ আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়।

প্রসঙ্গত, গত ২৬ জুন সকাল সোয়া ১০টার দিকে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে সন্ত্রাসীরা রিফাত শরীফকে প্রকাশ্যে রামদা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে গুরুতর আহত রিফাতকে ওইদিনই বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে বিকেলে তিনি মারা যান। এ ঘটনায় রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ বাদী হয়ে ১২ জনের নাম উল্লেখসহ পাঁচ-ছয় জনকে অজ্ঞাত আসামি করে বরগুনা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

এ মামলার চার্জশিটভুক্ত প্রাপ্তবয়স্ক আসামি মো. মুসা এখনও পলাতক রয়েছেন। এছাড়া নিহত রিফাতের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি উচ্চ আদালতের নির্দেশে জামিনে রয়েছেন। আর বাকি আসামিরা কারাগারে রয়েছেন।