চার্জ কমানোয় বাংলাদেশ সাবমেরিন কেব্ল কোম্পানির ব্যান্ডউইথ ব্যবহারের পরিমাণ বেড়েছে। এক বছরে কোম্পানিটির ব্যান্ডউইথ ব্যবহারের পরিমাণ বেড়েছে প্রায় ৫৩ শতাংশ। ফলে ব্যান্ডউইথের মূল্য কমানোর পরও ব্যবহার বাড়ায় সাবমেরিন কেব্লের আয়ে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ধারাবাহিকভাবে ব্যান্ডউইথ বিক্রি বাড়ায় চলতি হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) কোম্পানির মুনাফা বেড়েছে ১২১ শতাংশ।
পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, বাংলাদেশ সাবমেরিন কেব্লের ধারণকৃত ব্যান্ডউইথের বড় অংশই অব্যবহৃত রয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশ সাবমেরিন কেব্ল কোম্পানির ধারণক্ষমতা হচ্ছে ২৭০০ জিবিপিএস। আর ২০১৮-১৯ হিসাব বছরে কোম্পানিটি মাত্র ৬৮৫ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ বিক্রি করতে পেরেছে। অর্থাৎ কোম্পানিটি ধারণক্ষমতার মাত্র ২৫ দশমিক ৪ শতাংশ ব্যবহার করতে পারছে। যদিও প্রতি বছর ব্যান্ডউইথের বিক্রির পরিমাণ বাড়ছে। গত তিন বছরে সাবমেরিন কেব্লের ব্যান্ডউইথ বিক্রির পরিমাণ বেড়েছে ৪২০ শতাংশ। বর্তমানে দেশে যে পরিমাণ ব্যান্ডউইথ ব্যবহার হয়, তার ৬০ শতাংশ বাংলাদেশ সাবমেরিন কেব্ল কোম্পানির দখলে।
গত তিন বছর ধরে ব্যান্ডউইথের ব্যবহার বাড়ায় বাংলাদেশ সাবমেরিন কেব্ল কোম্পানির আয় বাড়ছে। ২০১৬-১৭ হিসাব বছরে কোম্পানিটির রেভিনিউ ছিল ১০৩ কোটি টাকা। এ সময় ২৪৭ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ বিক্রি করে কোম্পানিটি। ২০১৮-১৯ হিসাব বছরে সাবমেরিন কেব্লের আয় বেড়ে দাঁড়ায় ১৯৫ কোটি ৫৬ লাখ টাকায়। আর ব্যান্ডউইথ বিক্রির পরিমাণ ৬৮৬ জিবিপিএসে উন্নীত হয়। মূলত ব্যান্ডউইথের মূল্য কমানোর কারণে ব্যবহার বাড়ায় আয় বেড়েছে। দেশে ইন্টারনেটের ব্যবহার ধারাবাহিকভাবে বাড়তে থাকায় ২০১৯-২০ হিসাব বছরেও কোম্পানিটির আয় বাড়তে দেখা গেছে।
চলতি হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে বাংলাদেশ সাবমেরিন কেব্ল কোম্পানির নিট আয় হয়েছে ৫৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২৩ শতাংশ বেশি। এ সময় কোম্পানির পরিচালন ব্যয়ও কমেছে। মূলত ব্যাকহোল ও ডাটা সংযোগ ব্যয় কমে যাওয়ায় পরিচালন ব্যয় কমেছে। আগের বছরের তুলনায় এ খাতে ব্যয় কমেছে প্রায় ৫১ শতাংশ।
বাংলাদেশ সাবমেরিন কেব্লের আয়ের বড় অংশ ব্যয় হয় যন্ত্রপাতির অবচয় বাবদ। প্রতি প্রান্তিকে কোম্পানিকে যন্ত্রপাতির অবচয় বাবদ ১০ কোটি ৩২ লাখ টাকা সংরক্ষণ করতে হয়। চলতি প্রান্তিকেও একই পরিমাণ অর্থ অবচয় বাবদ রাখতে হয়েছে। পরিচালন ব্যয়ের পর চলতি প্রথম প্রান্তিকে সাবমেরিন কেব্ল কোম্পানির মোট আয় হয়েছে ৩৯ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি। চলতি প্রথম প্রান্তিকে কর পরিশোধের পর কোম্পানির নিট মুনাফা হয়েছে ১৭ কোটি ১৭ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১২১ শতাংশ বেশি।