বাদ পড়া নেতাদের পাল্টা এলডিপির ঘোষণা

লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) ভাঙনের মুখে পড়েছে। ৯ নভেম্বর কাউন্সিল ছাড়াই একতরফাভাবে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব সাহাদাত হোসেন সেলিমসহ প্রতিষ্ঠাকালীন নেতাদের বাদ দেওয়ার অভিযোগ এনে পাল্টা দল গঠন করেছেন বাদ পড়া নেতারা।

গতকাল সোমবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে পাল্টা দল গঠনের ঘোষণা দেন সেলিমসহ কয়েকজন।

এদিকে বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক অনুষ্ঠানে পাল্টা দল ঘোষণার বিষয়ে এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেন, ‘এলডিপি আমার দল। আমার নামে নিবন্ধিত। এখানে অন্য কারও একই নামে দল করার অধিকার নেই।’

অলির বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় সেলিম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এলডিপি কারও পৈতৃক সম্পত্তি না। এটি একটি রাজনৈতিক দল। যে কেউ দলটির নতুন সভাপতি হতে পারবেন।’

চারদলীয় জোট সরকারের শেষ সময়ে ২০০৬ সালের ২৬ অক্টোবর বিএনপির তৎকালীন স্থায়ী কমিটির সদস্য কর্নেল (অব.) অলি আহমদের নেতৃত্বে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) আত্মপ্রকাশ ঘটে। এ সময়ে তার সঙ্গে বিএনপির বিভিন্ন পদধারী ১০২ জন নেতা এই দলে যোগ দেন। এর মধ্যে ৩২ জন ছিলেন সাবেক মন্ত্রী-এমপি।

৯ নভেম্বর কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে সভাপতি ও রেদোয়ান আহমেদকে সাধারণ সম্পাদক করে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয় এলডিপির। কমিটি থেকে বাদ পড়েন সেলিম। তারপর থেকেই মূলত দলটির মধ্যে ভাঙনের সুর ওঠে। গতকাল এলডিপির পদবঞ্চিত নেতারা সংবাদ সম্মেলন করে অলি আহমদ ও রেদোয়ান আহমেদের বিপরীতে ৭ সদস্যের একটি সমন্বয় কমিটি ঘোষণা করেন সেলিম। এ সময় তিনি বলেন, সমন্বয় কমিটির সভাপতি আবদুল করিম আব্বাসী এবং সদস্য সচিব আমি নিজেই।

সংবাদ সম্মেলনে সেলিম বলেন, সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো যখন বৃহত্তর ঐক্য করতে তৎপর, তখন অলি আহমদ বিভেদ তৈরি করার জন্য পৃথক মঞ্চ তৈরি করেছেন। তিনি খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে মাইনাস করে বিএনপির নেতৃত্ব নেওয়ার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেন। ঐক্যে বিভেদ তৈরির জন্য জাতীয় মুক্তি মঞ্চ তৈরি করেছেন। শুরুতে মুক্তি মঞ্চকে খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য আলাদা প্ল্যাটফর্ম বলা হলেও ধীরে ধীরে তারা জিয়া পরিবার আর বিএনপির বিরুদ্ধে বিষোদগারের প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়।

এক প্রশ্নের জবাবে সেলিম বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি যদি আমাদের আমন্ত্রণ জানায় তাহলে আমরা এলডিপি বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যুক্ত হব। বিএনপি ভেঙে এলডিপি গঠন করে যে পাপ করেছি তার প্রায়শ্চিত্ত করতে চাই।

দল আমার নামে নিবন্ধিত : অলি আহমদ

বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক অনুষ্ঠানে এলডিপির চেয়ারম্যান অলি আহমদ নিজের নামে দলের নিবন্ধনের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, ‘আমি ছাড়া এলডিপির কর্তৃত্ব নেওয়ার আইনগত অধিকার কারও নেই। এলডিপি আমার নামে, আমি দরখাস্ত করেছি। এক নম্বর রাজনৈতিক নিবন্ধিত দল। এই দল তো অন্য কেউ নেওয়ার কোনো আইনগত অধিকার নেই। এখন যদি নিজের বাবার নাম বাদ দিয়ে আমার নামে কেউ পরিচিত হন, আমার তাতে কোনো আপত্তি নাই।’

জাতীয় মুক্তি মঞ্চের ব্যানারে পেঁয়াজসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বাড়ার প্রতিবাদে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আবদুল করীম আব্বাসীর নেতৃত্বে এলডিপির কমিটি ঘোষণাকারীদের বহিষ্কার করবেন কি নাÑ জানতে চাইলে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘ওরা রিজাইন করেছে কয়েকজন।... দু-একজন আছে যারা এ রকম জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি নয় তাদের আমরা বহিষ্কার করে কাগজ নষ্ট করব?’

জামায়াতে ইসলামীনির্ভর হয়ে পড়া ও নতুন কমিটিতে ত্যাগী নেতাদের বাদ দেওয়ার অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে অলি বলেন, ‘কোনো ত্যাগী নেতাকে বঞ্চিত করা হয়নি। সে (সাহাদাত হোসেন সেলিম) সব সময় নিজেকে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব লিখত। অথচ আমাদের গঠনতন্ত্রে কোনো সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিবের পদ নেই, কোনো সিনিয়র সহসভাপতি পদ নেই।’

এর আগে অলি তার বক্তব্যের শুরুতে বলেন, ‘গত ১০-১১ বছর যাবৎ এই সরকার ক্ষমতায়। জনজীবন দুর্বিষহ, মানবাধিকার বিঘিœত, গণতন্ত্র নেই, স্বাস্থ্যসেবা নেই, লেখাপড়া ঠিকভাবে চলছে না। ব্যাংকে টাকা নেই, লুটপাট, বিদেশে টাকা পাচার হচ্ছে। ব্যবসা-বাণিজ্যে মন্দা এবং সর্বোপরি পেঁয়াজ নিয়ে যে কেলেঙ্কারি পৃথিবীতে অতীতে এ ধরনের ঘটনা কখনো ঘটেনি।’

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কল্যাণ পার্টির সভাপতি মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, এলডিপির মহাসচিব রেদোয়ান আহমেদ, জাতীয় দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদা, জাগপার সহসভাপতি রাশেদ প্রধান, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আসাদুর রহমান খান, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য সারোয়ার হোসেন, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মনির হোসেন কাশেমী, এলডিপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইসমাইল হোসেন বেঙ্গল।