‘দিবারাত্রির টেস্ট সৌরভের মাস্টার স্ট্রোক’

আর এক দিন পরই শুরু হচ্ছে উপমহাদেশে প্রথম গোলাপি বলের টেস্ট। কলকাতায় এখন উৎসবের আমেজ। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আমন্ত্রণ করাসহ বাংলাদেশের প্রথম টেস্টের একাদশকেও আমন্ত্রণ জানিয়েছে সৌরভ গাঙ্গুলির নেতৃত্বাধীন ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। যেন গোলাপি বলের ‘প্রথমের’ সঙ্গে বাংলাদেশের টেস্টের ‘প্রথমের’ একটা মেলবন্ধন তৈরি করা। সেই চেষ্টায় ভারতের নতুন বোর্ড প্রেসিডেন্ট গাঙ্গুলি যে এখনো শতভাগ সফল তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এই পদক্ষেপ নেওয়ায় সৌরভের প্রশংসা করার পাশাপাশি ক্রিকেটের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ভারতীয় একটি সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে কথা বললেন নাঈমুর রহমান দুর্জয়। বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট অধিনায়কের কাছে সৌরভের এই সিদ্ধান্তকে ‘মাস্টার স্ট্রোক’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন তিনি।

ক্রিকেটে বিশ্বের অন্যতম বিখ্যাত মাঠ ইডেনে দিবা-রাত্রির টেস্ট দারুণ উপভোগ করবেন বলে জানালেন দুর্জয়। সৌরভের ভাবনার সঙ্গে নিজের মতের মিলের কথা বলে দুর্জয় জানান, ‘এটুকু বলতে পারি ইডেনে গোলাপি বলের টেস্ট ম্যাচ করাটা সৌরভের মাস্টার স্ট্রোক। এই দিকটি নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে। বিদেশের দলগুলো খেলা শুরুও করেছে। তাহলে আমরা পিছিয়ে থাকব কেন। এশিয়ায় হবে না কেন। টেস্টকে জনপ্রিয় করার জন্য বিভিন্ন দিক ভাবা হচ্ছে। সৌরভ দায়িত্বে আসার এক সপ্তাহের মধ্যে গোলাপি বলে টেস্টের সিদ্ধান্ত হয়ে গেল। এটা দারুণ ব্যাপার। পজিটিভ মুভ। সৌরভই পারে এমন কিছু ভাবতে ও করতে।

এই টেস্ট সামনে রেখে বাংলাদেশের প্রথম টেস্টের একদশের সবাইকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। দুর্জয়ের কাছে এটা গর্বের ও সম্মানের, ‘সৌরভের মতো মানুষই এসব ভাবতে পারে। আমাদের প্রত্যেকের নামে আলাদা কার্ড পাঠিয়েছে। সঙ্গে টিকিট দিয়েছে ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গল। এর থেকে বড় কী আর হতে পারে।’

দুজনের টস করার জন্য মাঠে নামার ১৯ বছর পর আবারও কোনো স্টেডিয়ামে দেখা করবেন দুর্জয় ও সৌরভ। তবে এবার খেলার জন্য নয় প্যাভিলিয়নে বসে খেলা দেখার জন্য। মাঝে সৌরভের সঙ্গে বার কয়েক দেখা হলেও আড্ডা জমাতে পারেননি দুর্জয়। ভাবছেন সুযোগ পেলে এবার পুরনো স্মৃতিচারণ করবেন, ‘সৌরভের সঙ্গে দেখা হয়েছে। কোনো ফাংশনে মুখোমুখি হয়েছি, দু-এক মিনিট কথা হয়েছে, ব্যস। কিন্তু আড্ডা বলতে যা বোঝায় তা হয়নি। আশা করি এবার একসঙ্গে বসা যাবে, পুরনো স্মৃতিচারণ করা যাবে কিছুটা।’

বাংলাদেশের ক্রিকেট নিয়েও কথা বলেছেন প্রথম টেস্ট অধিনায়ক। দুর্জয়ের মতে, ঢাকা স্টেডিয়ামে ২০০০ সালের ১০-১৩ অভিষেক টেস্টে তাদের পারফরম্যান্সের চেয়ে বর্তমান ক্রিকেটাররা একটু পিছিয়ে, ‘সেদিন ঢাকার মাঠে আমরা ৯ উইকেটে হেরেছিলাম। ভারতের বিরুদ্ধে ৪০০ রান করি। সৌরভ ভালো ইনিংস খেলেছিল, আমি ৬ উইকেট পাই, আমিনুল দারুণ ইনিংস খেলেছিল। কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে বাজে খেলায় (৯১ রানে অলআউট) হেরে যাই। ভারতের সঙ্গে ম্যাচ ড্রও তো করেছে ছেলেরা। আসলে মানসিকতা আজকের ক্রিকেটারদের সঙ্গে আমাদের বেশি ফারাক করে দিচ্ছে। ওদের দোষ আছে। তাছাড়া বোর্ডের দায়িত্বে থাকা আগের লোকেরা ঠিকঠাক কাজ করেনি। টেস্টে ঘুরে দাঁড়াতে দুপক্ষকেই সতর্ক থাকতে হবে।’

গোলাপি বলে দিবা-রাত্রির ম্যাচ আয়োজনকে স্বাগত জানালেও টেস্ট ক্রিকেট চারদিনে নামিয়ে আনার বিরুদ্ধে দুর্জয়, ‘চারদিনের টেস্ট ক্রিকেট নিয়ে কথা হচ্ছে। কিন্তু পাঁচদিনের টেস্ট খারাপ কি। এই খেলাতেও তো উত্তেজনা হচ্ছে। টেস্ট যেভাবে চলছে সেটাই থাকুক বলে মনে করি।

বর্তমান যুগে নিজেদের সমসাময়িক ক্রিকেটাররা দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আছেন। ইমরান খান পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট, অর্জুনা রানাতুঙ্গা বোর্ড প্রেসিডেন্টের সঙ্গে মন্ত্রীও হয়েছেন। সৌরভ গাঙ্গুলি বোর্ড প্রেসিডেন্ট। দুর্জয় নিজে সাংসদ। ব্যাপারটিকে ভালো চোখে দেখছেন তিনি। উদাহরণ হিসেবে মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার সাংসদ হওয়ার বিষয়টি টেনে এনেছেন দুর্জয়। ‘সাবেক ক্রিকেটাররা দেশের বিভিন্ন কাজে যুক্ত হওয়াটা দারুণ ব্যাপার। অবশ্যই এটা ইতিবাচক। আজকের তরুণদের দেখুন তারা নানা কাজে জড়িয়ে যাচ্ছে। স্পোর্টসই পারে তাদের সঠিক পথ দেখাতে। দেশে আমার সঙ্গে মাশরাফীও সাংসদ। ওর পেছনে মানুষ ছোটে। সে সাধারণ মানুষের রোল মডেল। মাশরাফী যা বলবে যুব সমাজ তাই শুনবে। তাই দেশের নানা কাজে ক্রীড়াব্যক্তিত্বদের নিয়ে আসা দরকার।’