শীত আসতে না আসতেই রাজধানী ঢাকার বায়ুদূষণ বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। গত দুদিন ধরে দূষণের মাত্রা কয়েকগুণ বেড়েছে। যা দূষিত বায়ুর শহরের তালিকায় ঢাকাকে নিয়ে গেছে শীর্ষে। বায়ুর মান নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান এয়ার ভিজ্যুয়ালের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত বায়ুর শহরের তালিকায় গত সোমবার থেকে এক নম্বরে রয়েছে ঢাকা। এয়ার ভিজ্যুয়ালের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৮টায়
এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সে (একিউআই) ঢাকার বায়ুর স্কোর ছিল ৩৪৯, যা ছিল এ মৌসুমে ঢাকার জন্য সর্বোচ্চ। এই স্কোরের বায়ুকে বিপজ্জনক বলে মনে করা হয়।
বায়ুমান পরিমাপের এ পদ্ধতিতে একিউআই স্কোর ০-৫০ এর মধ্যে থাকলে বায়ুর মান ভালো, ৫১-১০০ এর মধ্যে থাকলে মান মাঝারি বা সহনীয়, ১০১-১৫০ এর মধ্যে থাকলে কিছুটা অস্বাস্থ্যকর, ১৫১-২০০ এর মধ্যে থাকলে অস্বাস্থ্যকর, ২০১-৩০০ এর মধ্যে থাকলে খুবই অস্বাস্থ্যকর এবং স্কোর ৩০১-৫০০ এর মধ্যে থাকলে সেখানের বায়ুকে বিপজ্জনক মনে করা হয়।
এয়ার ভিজ্যুয়ালের র্যাংকিংয়ে গত সোমবার থেকে ঢাকা তালিকার শীর্ষে উঠলেও প্রতি ঘণ্টার হালনাগাদ তথ্যে মাঝে মধ্যে ঢাকার অবস্থান পরিবর্তন হচ্ছে। গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় এক নম্বরে অবস্থানকারী ঢাকার বায়ুর একিউআই স্কোর ছিল ২৫৯। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা মঙ্গোলিয়ার রাজধানী উলানবাটরের স্কোর ছিল ২৪৮। একই সময়ে ১৭০ ও ১৬৯ স্কোর নিয়ে তৃতীয় ও চতুর্থ অবস্থানে ছিল যথাক্রমে ভারতের মুম্বাই ও পাকিস্তানের লাহোর শহর। এর একঘণ্টা আগে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ২৩৬ স্কোর নিয়ে শীর্ষে ছিল উলানবাটর এবং ২২৯ স্কোর নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে ছিল ঢাকা।
প্রতিদিনের বাতাসের মান নিয়ে তৈরি করা একিউআই সূচকে একটি শহরের বাতাস কতটুকু নির্মল বা দূষিত সে সম্পর্কে তথ্য দেয় এয়ার ভিজ্যুয়াল। পাশাপাশি দূষিত বায়ু ওইসব শহরের মানুষদের কোনো ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে তাও জানায় সংস্থাটি। একই পদ্ধতিতে যুক্তরাষ্ট্রও প্রতিটি দেশে তাদের দূতাবাসের কাছে স্থাপন করা যন্ত্রের মাধ্যমে একিউআই সূচকে বায়ুর প্রতি মুহূর্তের মান নিরূপণ ও তা প্রকাশ করে থাকে।
শীতকালে বায়ু শুষ্ক থাকায় এবং বৃষ্টি না হওয়ায় বাতাসে ধূলিকণার পরিমাণ বেশি থাকে। এজন্য এ সময় বায়ুদূষণ বেড়ে যায়। এর ওপর রাজধানীতে মেট্রোরেলসহ নানা উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কারণে ধুলার মাত্রা বেড়েছে কয়েকগুণ। যার ফলে বায়ুর মান অস্বাস্থ্যকর থেকে গতকাল বিপজ্জনক মাত্রায় পৌঁছেছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সাধারণ সম্পাদক আবদুল মতিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, বিভিন্ন নির্মাণকাজ আর ঢাকার আশপাশের অসংখ্যা ইটভাটার কারণে বায়ুদূষণটা বেশি হচ্ছে। ঢাকার ব্যাপক সংখ্যক যানবাহনও এর জন্য দায়ী। তিনি বলেন, এমনিতেই ঢাকার মাটি বালুমিশ্রিত। তাই বিভিন্ন উন্নয়ন কাজে ব্যাপক ধুলা বাতাসে ওড়ে। উন্নত দেশগুলোতে নির্মাণকাজের স্থানকে পুরোপুরি ঢেকে রাখা হয়। যাতে আশপাশে ধুলা না যেতে পারে। বাংলাদেশ সরকারও হাউজিং কোম্পানিগুলো ও অন্যান্য উন্নয়ন কাজে জড়িতদের এমন নির্দেশনা দিতে পারে। কিন্তু সরকার এসবে গুরুত্ব দিচ্ছে না। যতদিন গুরুত্ব না দেবে ততদিন বায়ুদূষণের মাত্রা বাড়তেই থাকবে।