আশ্বাসে ধর্মঘট স্থগিত

দিনভর যাত্রীদের দুর্ভোগের পর দাবি পূরণের আশ্বাসে ঘোষিত-অঘোষিত পরিবহন ধর্মঘট স্থগিত করেছে মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ। গতকাল বুধবার রাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে প্রায় তিন ঘণ্টার বৈঠক শেষে ধর্মঘট স্থগিতের ঘোষণা দেন বাংলাদেশ পণ্য পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক রোস্তম আলী খান। নতুন সড়ক পরিবহন আইন সংস্কারসহ ৯ দফা দাবিতে গতকাল সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ডাক দেয় ট্রাক ও পণ্য পরিবহন শ্রমিকরা। পাশাপাশি আগাম ঘোষণা ছাড়াই রাজধানীসহ দেশের ৩০টিরও বেশি জেলায় বাস চলাচল বন্ধ রেখে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেন শ্রমিকরা।

বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের যৌক্তিক দাবি মেনে নেওয়ায় তারা ধর্মঘট স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আইন সংশোধনের বিষয়ে তিনি বলেন, তাদের দাবি ছিল ৯টি ধারা নিয়ে। আমরা বলেছি, এগুলো সংশোধনের জন্য সুপারিশ আকারে পরিবহন মন্ত্রীর কাছে পাঠাব। তিনি এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবেন। এ ছাড়া ড্রাইভিং লাইসেন্স নিয়ে একটা অসঙ্গতি ছিল। আমরা আগামী বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত এসব লাইসেন্স ঠিক করে নেওয়ার সময় বেঁধে দিয়েছি। এর আগ পর্যন্ত পূর্বের লাইসেন্স দিয়ে গাড়ি চালাতে পারবেন চালকরা। তবে অবৈধ লাইসেন্স দিয়ে কেউ গাড়ি চালাতে পারবেন না বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

আসাদুজ্জামান খান আরও বলেন, গাড়ির ফিটনেসহীনতার কারণে চার গুণ জরিমানা করা হয়েছিল, এ ছাড়া গাড়ির দৈর্ঘ্য-প্রস্থ নিয়ে কিছু জটিলতা ছিল, এগুলো ৩০ জুনের মধ্যে বিআরটিএ চেয়ারম্যানের সঙ্গে বসে পরিবহন মালিক শ্রমিকরা ঠিক করে নেবে।

বাংলাদেশ পণ্য পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক রোস্তম আলী খান বলেন, আপাতত আমাদের বেশিরভাগ দাবি মেনে নেওয়া ও আইন সংশোধনের আশ্বাস দেওয়ায় আমরা পরিবহন ধর্মঘট স্থগিত করছি। আল্টিমেটাম না দিয়ে ধর্মঘটে যাওয়া জনগণ ও সরকারকে জিম্মি করা কি না

সাংবাদিকের এমন প্রশ্নে বাংলাদেশ ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান ড্রাইভার্স ইউনিয়নের সভাপতি তালুকদার মোহাম্মদ মনির বলেন, আমরা আন্দোলনে যাওয়ার পক্ষে ছিলাম না। তবে শ্রমিকরা স্বেচ্ছায় কর্মবিরতিতে চলে গেছে। এজন্য বাধ্য হয়েছি।

গতকাল দিনভর দেশের ৩০টিরও বেশি জেলায় বাস চলাচল বন্ধ রেখে রাস্তায় নেমে আসেন শ্রমিকরা। এছাড়া রাজধানী ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য জেলায়ও বিক্ষোভ করেন তারা। এদিন রাজধানী ঢাকাতেও দেখা দেয় গণপরিবহন সংকট। এছাড়া ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে দূরপাল্লার যান চলাচলে বাধা দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা। এদিকে সড়কে অচলাবস্থা কাটাতে পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে গত মঙ্গলবার রাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের বৈঠকে কোনো সমাধান আসেনি।

গত সোমবার নতুন আইন কার্যকরের ঘোষণা দিয়ে কোনো চাপে পিছু হটবেন না বলে জানিয়েছিলেন সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তার এ ঘোষণার পর থেকেই দাবি আদায়ে পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা দৃশ্যত চাপ বাড়িয়ে দেন। তবে ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান মালিক-শ্রমিকদের ডাকা এ ধর্মঘটের প্রকাশ্য বিরোধিতা  করেন দেশের বড় বড় প্রায় সব পরিবহন মালিক-শ্রমিক সংগঠনের নেতারা। বাংলাদেশ পণ্য পরিবহন মালিক সমিতির যুগ্ম আহ্বায়ক মকবুল আহমেদ গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘জেল জুলুম লইয়া শ্রমিকরা গাড়ি চালাবে ক্যামনে? আমাদের ৯ দফা দাবি আছে। এগুলো মানতে হবে। গতকাল (মঙ্গলবার) রাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আমাদের ডেকেছিলেন। কিন্তু কোনো সিদ্ধান্ত হয় নাই। আজকে (গতকাল বুধবার) রাত ৯টায় আবার মিটিং হবে। তবে আমাদের শ্রমিকদের স্বার্থের বাইরে কোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে আমরা মাইর খাইতে চাই না।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা শুধু ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান বন্ধের ডাক দিয়েছি। কিন্তু গণপরিবহনও বন্ধ হয়ে গেছে। এর অর্থ হচ্ছে পরিবহন শ্রমিকরা বাঁচা-মরার স্বার্থে এ আন্দোলনে যুক্ত হয়েছে।’

এ বিষয়ে সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের সভাপতি রাজেকুজ্জামান রতন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘নতুন আইনের প্রধান সমস্যা হচ্ছে, এর প্রয়োগ নিয়ে অস্পষ্ট ধারণা। এতে শ্রমিকরা আতঙ্কিত। বিধিমালা না হওয়ায় এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।’ এ নিয়ে প্রায় অভিন্ন মত দিয়েছেন চলমান ধর্মঘটের বিরোধিতাকারী বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী। তিনি বলেন, ‘আপাতত আমরা ধর্মঘটের বিরোধিতা করলেও শ্রমিকদের থামানো যাচ্ছে না। আমাদের ওপর ব্যাপক চাপ যাচ্ছে। এ অবস্থা সৃষ্টির পেছনে পুলিশের দায় রয়েছে। আইনে শ্রমিক কল্যাণে অনেক ভালো বিধানও রাখা হয়েছে। কিন্তু তারা শুধু শাস্তির বিধানগুলো সামনে এনে প্রচারণা চালিয়েছে। এতে শ্রমিকদের মধ্যে ভীতির সৃষ্টি হয়েছে।’ তিনি জানান, আজ বৃহস্পতিবার ও আগামীকাল শুক্রবার সারা দেশের শ্রমিক নেতাদের নিয়ে তারা বৈঠক করবেন। এরপর আইনের কিছু ধারা সংশোধনে তারা সরকারকে লিখিত চিঠি দেবেন। সঙ্গে সময়সীমা বেঁধে দেওয়া থাকবে। এ সময়ের মধ্যে আইন সংস্কার করা না হলে তারাও পুরোমাত্রায় আন্দোলনে যাবেন।

এদিকে ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান ধর্মঘটের প্রথম দিনে গতকাল রাজধানীতেও গণপরিবহন ছিল হাতেগোনা। তেজগাঁওয়ে ট্রাকস্ট্যান্ড সংলগ্ন আনিসুল হক সড়ক, মহাখালী বাস টার্মিনালের সামনে, টঙ্গীর আবদুল্লাহপুর, মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড, যাত্রাবাড়ী ও শনির আখড়া এলাকায় বাস চলাচলে বাধা দেন শ্রমিকরা। সকালে তেজগাঁও ট্রাক টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায়, সেখান থেকে কোনো ট্রাক ছাড়তে দেওয়া হচ্ছে না। রাস্তা অবরোধ করে মালবাহী পরিবহন চলতে বাধা দিচ্ছেন শ্রমিকরা। এ সময় আনোয়ার হোসেন নামে এক ট্রাকচালককে মারধর করা হয়।

এছাড়া সকালে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ, সাইনবোর্ড, মদনপুর এলাকায় সড়ক অবরোধ করে যানবাহন চলাচলে বাধা দেন শ্রমিকরা। তবে দুপুরের পর তারা সরে গেলেও ওই সড়কে তেমন একটা বাস চলতে দেখা যায়নি। সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন রুটের বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে বলে জানিয়েছেন সায়েদাবাদ আন্তঃজেলা বাস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কালাম। তিনি বলেন, ‘সড়ক পবিরহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের মোবাইল কোর্ট পরিচালনায় শিথিল হতে বললেও তা হচ্ছে না। এ কারণে বাসচালক-শ্রমিকরাও আতঙ্কিত, তারা বাস চালাচ্ছে না।’

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ট্রাক শ্রমিকরা ধর্মঘট ডেকেছে। এর সঙ্গে মালিকদের কোনো সম্পর্ক নেই। তবে দুই-চারজন মালিকও এতে যুক্ত হয়েছেন।’

রাজধানীর প্রধান বাস টার্মিনাল গাবতলী থেকে গতকাল ৮০ শতাংশই বাস ছেড়ে যায়নি বলে দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। তিনি বলেন, ‘যে হারে গাড়ি চলছে তাকে চলা বলে না। এর থেকে পুরো বন্ধ হওয়াই ভালো। আমরা শ্রমিকদের অনেক বোঝানোর চেষ্টা করছি। তারা ভয়ে আসছে না। সড়কে শ্রমিকরা অবস্থান নিয়ে বাধা দিচ্ছে, ভাঙচুর হচ্ছে। আসলে পুরো পরিস্থিতিই এখন আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে।’

এদিকে ধর্মঘটের মধ্যেই গতকাল রাজধানীতে সাতটি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে বিআরটিএ। এসব আদালতে ৩৮টি মামলায় ৩৫ হাজার ৬০০ টাকা জরিমানা করা হয়।

জেলায় জেলায় বিক্ষোভ, ভোগান্তি : নতুন সড়ক পরিবহন আইনের বিরোধিতা করে গত শনিবার থেকে দেশের উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় ঘোষণা ছাড়াই বাস চলাচল বন্ধ করে দেন চালক-শ্রমিকরা। পরে এটি ছড়িয়ে পড়ে দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও। চট্টগ্রাম ব্যুরো জানিয়েছে, শ্রমিক ধর্মঘটের কারণে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রামে আটকা পড়েছে সব ধরনের আমদানি পণ্য। এমনকি রপ্তানিযোগ্য কোনো পণ্যও বন্দরে নেওয়া যাচ্ছে না। গতকাল দিনভর এ ব্যবস্থা ছিল। এ পরিস্থিতিতে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন আমদানি-রপ্তানির সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়ীরা।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্র্তৃপক্ষের সচিব মো. ওমর ফারুক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান ধর্মঘটের কারণে গতকাল সকাল থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে রপ্তানি পণ্য আনা ও বন্দর থেকে পণ্য ডেলিভারি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়েছে। তবে জেটিতে পণ্য ওঠানামার কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলছে।

গাজীপুর প্রতিনিধি জানিয়েছেন, গতকাল সকালে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের মাস্টারবাড়ী এলাকায় সড়কে অবস্থান নিয়ে যান চলাচলে বাধা দেন শ্রমিকরা। এতে গাজীপুর থেকে ঢাকা-ময়মনসিংহ, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও বাস পাননি যাত্রীরা।

জামালপুর প্রতিনিধি জানিয়েছেন, ধর্মঘটের কারণে জেলার বেশিরভাগ রুটে চলাচলকারী বাস ও ট্রাক বন্ধ হয়ে গেছে। এমনকি জামালপুর থেকে ঢাকাগামী বাসও চলাচল করছে না। কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি জানিয়েছেন, আইন সংশোধনের দাবিতে বাস-ট্রাক শ্রমিকদের পাশাপাশি মাইক্রোবাস চালকরাও ধর্মঘট কর্মসূচি পালন করছেন।

মাগুরা প্রতিনিধি জানিয়েছেন, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ১০ জেলার পাশাপাশি মাগুরাতেও সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রেখেছেন শ্রমিক-মালিকরা। এতে যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। বরিশাল প্রতিনিধি জানিয়েছেন, নতুন সড়ক আইন বাস্তবায়নের প্রতিবাদে কয়েক দিন ধরেই জেলার বিভিন্ন রুটে বাস চলাচল বন্ধ রেখেছেন শ্রমিকরা। ধর্মঘটের কারণে গতকাল থেকে ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান চলাচলও বন্ধ হয়ে গেছে।

ঝালকাঠি প্রতিনিধি জানিয়েছেন, সারা দেশের মতো ঝালকাঠিতেও ১৪টি রুটে বাস চলাচল বন্ধ রেখেছেন চালকরা। এতে যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। বাসের অভাবে ছোট ছোট পরিবহনের ভাড়া বেড়েছে কয়েকগুণ। চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি জানিয়েছেন, ঘোষণা ছাড়াই জেলায় দ্বিতীয় দিনের মতো পরিবহন ধর্মঘট পালন করছেন শ্রমিকরা। নরসিংদী প্রতিনিধি জানিয়েছেন, গতকাল অঘোষিত ধর্মঘটের মধ্যে বাস চালানোয় নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুরে মেঘালয় পরিবহনের এক চালককে মারধর করেন শ্রমিকরা। এরপর নরসিংদী দিয়ে ঢাকাগামী বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

মোংলা প্রতিনিধি জানিয়েছেন, ধর্মঘটের প্রভাবে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর বাগেরহাটের মোংলায় কোনো যানবাহন চলাচল করছে না। এতে আমদানি-রপ্তানি পণ্য পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে। হবিগঞ্জ প্রতিনিধি জানিয়েছেন, গতকাল দুপুরের পর থেকে জেলার সব আন্তঃজেলা বাস সার্ভিস বন্ধ হয়ে গেছে। এতে ঢাকা-সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়েন। মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি জানিয়েছেন, গতকাল সকাল থেকে জেলার লৌহজং উপজেলা দিয়ে ঢাকা-মাওয়া সড়ক ও গজারিয়া উপজেলা দিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বাস ও অন্যান্য যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেন শ্রমিকরা। সোনারগাঁ প্রতিনিধি জানিয়েছেন, শ্রমিকদের অবরোধের কারণে গতকাল ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মেঘনা সেতু থেকে কাঁচপুর পর্যন্ত ছিল যানবাহনশূন্য। দিনাজপুরের হাকিমপুর প্রতিনিধি জানিয়েছেন, পঞ্চম দিনের মতো হিলি স্থলবন্দর এলাকা থেকে বগুড়া রুটে চলাচলকারী বাস চলাচল বন্ধ রাখেন শ্রমিকরা। নতুন করে ট্রাক ধর্মঘট শুরু হওয়ায় বন্দর থেকে পণ্য পরিবহন বন্ধ হয়ে গেছে। এতে ব্যাপক লোকসানের মুখে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা।

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি জানিয়েছেন, অঘোষিত পরিবহন ধর্মঘটের মধ্যে গতকাল কুষ্টিয়ায় নতুন চারটি বিআরটিসি বাস উদ্বোধন করা হয়েছে। খুলনা প্রতিনিধি জানিয়েছেন, দুদিন বন্ধ রাখার পর গতকাল থেকে জেলায় বাস চলাচল শুরুর আশ্বাস দেওয়া হলেও তা কার্যকর হয়নি। কুমিল্লা প্রতিনিধি জানিয়েছেন, সকাল থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ করে দেন শ্রমিকরা। শরীয়তপুর প্রতিনিধি জানিয়েছেন, মঙ্গলবার থেকে জেলার সব রুটে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। নীলফামারী প্রতিনিধি জানিয়েছেন, কোনো ঘোষণা ছাড়াই গতকাল সকাল থেকে নীলফামারীতে সব ধরনের বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন চালক-মালিকরা। মাদারীপুর প্রতিনিধি জানিয়েছেন, সব ধরনের পরিবহন ধর্মঘটের মুখে জেলাবাসীর শেষ ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে ইজিবাইক ও রিকশা। নেত্রকোনা প্রতিনিধি জানিয়েছেন, জেলার পৌর বাস টার্মিনাল থেকে গতকাল কোনো বাস ছেড়ে যায়নি। এতে যাত্রী দুর্ভোগ সীমা ছাড়িয়েছে। সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি জানিয়েছেন, সকালে সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ীঘাট এলাকায় সিরাজগঞ্জ-পাবনা মহাসড়ক অবরোধ করেন শ্রমিকরা। এতে বাঘাবাড়ী ডিপো থেকে উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলায় জ¦ালানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে।

সাভার প্রতিনিধি জানিয়েছেন, গতকাল সকাল থেকে ঢাকার উপকণ্ঠ আশুলিয়ায় সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ করে দেন শ্রমিকরা। এতে ব্যস্ততম ওই এলাকার বাসিন্দারা দুর্ভোগে পড়েন।