রাজধানীর টিকাটুলীতে রাজধানী সুপার মার্কেটসংলগ্ন নিউ রাজধানী সুপার মার্কেটে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অর্ধশতাধিক দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শতাধিক দোকান।
গতকাল বুধবার বিকেল সোয়া ৫টার দিকে মার্কেটের দ্বিতীয় তলার একটি ফোমের দোকানে আগুন লাগে। আগুন ছড়িয়ে
পড়ে আশপাশের দোকানে। খবর পেয়ে প্রথমে ফায়ার সার্ভিসের ২২টি ইউনিট তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে যায়। পরে আরও ৩টিসহ মোট ২৫টি ইউনিট প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন) লে. কর্নেল জিল্লুর রহমান বলেন, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ ও অগ্নিকাণ্ডের কারণ জানার জন্য তদন্ত করা হচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ব্যবসায়ীরা জানান, বিকেলের দিকে নিউ রাজধানী সুপার মার্কেটের দ্বিতীয় তলার একটি ফোমের দোকানে ওয়েল্ডিং মেশিন দিয়ে ঝালাইয়ের কাজ চলছিল। ওই দোকান থেকেই প্রথমে আগুনের সূত্রপাত। শাহ পরান নামে লেপ-তোশকের এক দোকানদার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ঘটনার সময় আমি দোকানেই ছিলাম। প্রথমে ওই দোকানে আগুন দেখে সেখান থেকে নিরাপদে চলে যাই। তারপর আগুন ছড়িয়ে পড়ে। মার্কেটটিতে ১ হাজার ৭৭৮টি দোকান রয়েছে।
মার্কেটের নিচতলার আল মাহের জুয়েলার্সের মালিক আবু তাহের বলেন, নিচতলায় তার দোকানসহ মোট ৪৩টি গয়নার দোকান আছে। আগুন লাগার পর প্রাণ নিয়ে বেরিয়ে আসার সময় শাটার নামানো হলেও অনেকে তালা মারতে পারেননি।
১৯৯৫ সালে রাজধানী সুপার মার্কেট চালু হয়। বর্তমানে এই মার্কেটের বর্ধিতাংশ নিউ রাজধানী সুপার মার্কেট নামে আরও একটি টিনশেডের দোতলা গড়ে তোলা হয়। যেখানে নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্যের দেড় সহস্রাধিক দোকান রয়েছে, অগ্নিকাণ্ডের কারণে যার অধিকাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া অগ্নিকাণ্ডের সময় তীব্র ধোঁয়ার কারণে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। এর মধ্যে মার্কেটের দ্বিতীয় তলার নিরাপত্তাকর্মী মমিন (৩০) অসুস্থ হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
ওয়ারী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোস্তাফিজুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, আগুন লাগার পরপরই মার্কেটের লোকজনসহ আশপাশের বাসিন্দাদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়। আগুনের কারণে সৃষ্ট ধোঁয়ায় দু-একজনের অসুস্থতার তথ্য পাওয়া গেলেও কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। তিনি জানান, আগুন লাগার পরপরই আশপাশের রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। পুলিশ সদস্যরা রাস্তায় অবস্থান নিয়ে ভিড় সামলানোর চেষ্টা করেন।