খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন নিয়ে তোড়জোড় শুরু হয়ে গেছে। সব ঠিকঠাক থাকলে আগামী ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত হবে ত্রিবার্ষিক সম্মেলন। এই সম্মেলনকে ঘিরে নতুন নেতৃত্বের প্রত্যাশা নেতাকর্মীদের।
জেলার নেতাকর্মীরা জানান, ২০১৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন হয়। সম্মেলনে শেখ হারুনুর রশিদ সভাপতি ও এসএম মোস্তফা রশিদী সুজা সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। সম্মেলনের ৯ মাস পর গঠিত হয় পূর্ণাঙ্গ কমিটি।
১৯৯২ সাল থেকে সুজা খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। ২০০২ সালে যৌথ বাহিনীর অপারেশন ক্লিনহার্টে গ্রেপ্তার হয়ে নির্যাতন ভোগ করেন তিনি। সর্বশেষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার তার বিরুদ্ধে মামলা করলে তিনি বিদেশে পাড়ি জমান। দীর্ঘ অনুপস্থিতিতে জেলায় তার অনুসারীরা অনেকটা অভিভাবকশূন্য হয়ে পড়ে। এরপর থেকেই মূলত জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হারুনুর রশীদের সঙ্গে তার দূরত্ব তৈরি হয়। এতে অনেকটা কোণঠাসা হয়ে পড়েন তার অনুসারীরাও। পরে গত বছরের ১৮ জুলাই চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা রশিদী সুজা মারা গেলে ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে আসছেন দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুজিত অধিকারী।
খুলনা আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল একাধিক নেতা জানান, খুলনা জেলাধীন কমিটিগুলো বেশিরভাগ মেয়াদোত্তীর্ণ। জেলা কমিটিতেও দ্বন্দ্ব প্রকট থাকায় সাংগঠনিক অবস্থা দুর্বল হয়ে পড়েছে। শেখ হারুনুর রশীদের সঙ্গে প্রয়াত সাধারণ সম্পাদক এস এম মোস্তফা রশিদী সুজার তীব্র দ্বন্দ্ব ছিল। সুজার মৃত্যুর পর তার অনুসারীদের একেবারে কোণঠাসা করে ফেলেছেন শেখ হারুনুর রশীদ। তার অনুসারী অনেক নেতাকে কমিটিতে জায়গা দেওয়া হয়নি। দলীয় কোন্দলের কারণে গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে সাত উপজেলার মধ্যে পাঁচটিতে চেয়ারম্যান পদে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর পরাজয় হয়েছে।
আসন্ন জেলা কমিটির সভাপতি হিসেবে দুজনের নাম শোনা যাচ্ছে। তারা হলেন বর্তমান সভাপতি শেখ হারুনুর রশীদ এবং মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও খুলনা চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি কাজি আমিনুল হক। সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশী হিসেবে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হলেনÑ সুজিত অধিকারী, কামরুজ্জামান জামাল, আক্তারুজ্জামান বাবু (এমপি), বটিয়াঘাটা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আশরাফুল আলম খান ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি অসিত বরণ বিশ্বাস।
জেলা কমিটির এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, উপজেলা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জেলা আওয়ামী লীগ দুই গ্রুপে ভাগ হয়ে গেছে। একদল নৌকা প্রতীকের পক্ষে, অপর দলটি বিদ্রোহীদের পক্ষে। এই বিভাজন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। সম্প্রতি ওয়ার্ড নির্বাচনকে কেন্দ্রকে দুই গ্রুপ মুখোমুখি হয়ে বাগবিত-া থেকে শুরু করে ছোট-বড় সংঘর্ষে জড়াচ্ছে। সে কারণে সংঘর্ষ এড়াতে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ওয়ার্ড কমিটি গঠন করা বন্ধ হয়ে গেছে। এখন দলীয় শৃঙ্খলা ফেরাতে সাংগঠনিকভাবে দক্ষ ও ত্যাগী নেতাকেই সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক নির্বাচন করতে হবে।
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) আইনজীবী সুজিত অধিকারী দেশ রূপান্তরকে বলেন, দলের মধ্যে অন্তর্দ্বন্দ্বের সমাধান হওয়া উচিত। সম্মেলনের মাধ্যমে দক্ষ ও যোগ্য লোক নেতৃত্বে আসুক।
জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হারুনুর রশীদ বলেন, নির্ধারিত সময়ে গঠনতন্ত্র মেনেই সম্মেলন করা হবে। তৃণমূলের চাহিদা ও কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্ধারিত হবে নেতা।