দীর্ঘ দেড় দশক পরও শেষ হয়নি চাঁদপুরের আধুনিক অডিটরিয়ামের নির্মাণকাজ। ২০০৩ সালে শহরের নতুনবাজার এলাকায় পাঁচ শ আসনবিশিষ্ট অত্যাধুনিক অডিটরিয়ামের নির্মাণকাজ শুরু হয়। ভবনের কাজ সম্পন্ন হলেও অর্থাভাবে করা হয়নি অডিটরিয়ামের ভেতরের আনুষঙ্গিক কাজ। দীর্ঘদিন ধরে কাজ বন্ধ থাকায় পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে ভবনটি।
এতে করে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে চাঁদপুরের সাংস্কৃতিক কর্মীদের মধ্যে। নতুন করে অডিটমিয়ামের কাজ কবে শুরু হবে আর শেষ হবে কবে তা বলতে পারছে না সংশ্লিষ্টরা। যদিও প্রতি বছরই পৌরসভার বার্ষিক বাজেটে অডিটরিয়ামের জন্য টাকা বরাদ্দ রাখা হচ্ছে। এদিকে দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ থাকায় অডিটরিয়ামের নির্মাণ ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে কয়েক গুণ বেশি।
গতকাল শুক্রবার দুপুরে শহরের নতুনবাজার এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, দীর্ঘদিন নির্মাণকাজ বন্ধ থাকায় পরিত্যক্ত হয়ে ভুতুড়ে ভবনে পরিণত হয়েছে চাঁদপুরের অত্যাধুনিক অডিটরিয়াম ভবন। ভবনের সামনে বসেছে টং দোকান, সাইকেল গ্যারেজসহ বিভিন্ন ভ্রাম্যমাণ দোকান। পরিত্যক্ত ভবনের বারান্দায় আশ্রয় নিয়েছে ভবঘুরেরা। পড়ে থাকায় ফাটল ধরেছে ভবনের দেয়ালে। ভেঙে গেছে জানালার কাচ, লোহার তৈরি গেট। ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে ভবন। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না করতে পারায় বেড়েছে নির্মাণ ব্যয়। তখন অডিটরিয়ামের ডেকোরেশন কাজের জন্য ৩ কোটি টাকার টেন্ডার করা হলেও এখন এই অডিটরিয়ামের কাজ সম্পন্ন করতে প্রয়োজন প্রায় ১০ কোটি টাকা।
চাঁদপুর পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৩ সালের ৪ জুলাই শহরের নতুনবাজার এলাকায় আধুনিক অডিটরিয়ামের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। এরপর প্রায় ৫০ শতাংশ জমির ওপর অডিটরিয়ামের ভবন নির্মাণকাজ শুরু করা হয় ২০০৯ সালের দিকে। প্রায় ২ কোটি টাকা ব্যয়ে পাঁচ শ আসনবিশিষ্ট আধুনিক এই অডিটরিয়ামের ভবন নির্মাণ করা হয়। ২০১০ সালে ভবন নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর থেকে বন্ধ রয়েছে ভেতরের কাজ।
২০১৩ সালে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অডিটরিয়ামের কাজ বন্ধ করে দেয়। পৌর কর্র্তৃপক্ষ তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত করলেও আর কোনো টেন্ডার আহ্বান করেনি। এরপর থেকে অডিটরিয়ামের কাজ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে যায়। যদিও নির্মাণের পরপরই ভবনের ১০টি দোকানের প্রতিটি ৬ থেকে ৭ লাখ টাকার বিনিময়ে ক্রেতাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
অনন্যা নাট্যগোষ্ঠীর সভাপতি শহীদ পাটোয়ারী ও বর্ণচোরা নাট্যগোষ্ঠীর সাধারণ সম্পাদক শরীফ চৌধুরী বলেন, নাট্যকর্মীদের একটাই দাবি, অতি দ্রুত যেন অডিটরিয়ামের কাজ শেষ করা হয়।
সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট চাঁদপুর জেলা শাখার সভাপতি তপন সরকার বলেন, বর্তমানে জেলায় প্রায় ৭০টি সংগঠন সংস্কৃতি চর্চা করছে। এ ক্ষেত্রে এক শিল্পকলা একাডেমি ব্যতীত আমাদের আর কোনো জায়গা নেই।
এ ব্যাপারে চাঁদপুর পৌরসভার প্যানেল মেয়র সিদ্দিকুর রহমান ঢালী বলেন, অডিটরিয়ামের কাজ সম্পন্ন করার জন্য দাতা সংস্থা খুঁজে বেড়াচ্ছি। পৌরসভার নিজস্ব খাত থেকে এত টাকা ব্যয় করার ক্ষমতা নেই।