বিদ্যুৎ সংযোগের নামে ১৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে বিদ্যুতায়নে ব্যাপক দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সেই সঙ্গে মাদ্রাসাশিক্ষক এক দালালের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে উপজেলার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। দালাল চক্র সাধারণ গ্রাহকের লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিলেও অদৃশ্য কারণে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি নির্বিকার।

তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, ফটিকছড়ি উপজেলাকে শতভাগ বিদ্যুতায়নের আওতায় আনতে ২০১৭ সালে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ পরিকল্পনা হাতে নেয়। এরই অংশ হিসেবে ফটিকছড়ি উপজেলার ভূজপুর ইউনিয়নের পশ্চিম ভূজপুর গ্রামের পশ্চাদপদ জনগোষ্ঠীর বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে সম্প্রতি সরকারি অর্থায়নে মাস্টারপ্ল্যানের মাধ্যমে বৈদ্যুতিক খুঁটি বসানোর কাজ শুরু হয়। সুযোগ কাজে লাগিয়ে স্থানীয় একটি দালাল চক্র সাধারণ গ্রাহকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিদ্যুৎ-সংযোগ দেওয়ার নামে ৩৫০ পরিবারের কাছ থেকে অন্তত ১৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

পশ্চিম ভূজপুর গ্রামের আছরের ঢেবা, আছরের ঘোনা, আদর্শ গ্রাম, হাইছ্যা ঘোনা নামের গ্রামগুলো ঘুরে বেরিয়ে এসেছে দুর্নীতির বিভিন্ন চিত্র। এই জনপদের খেটে খাওয়া মানুষগুলো কেউ ঋণ নিয়ে কেউবা হাঁস-মুরগি বিক্রি করে সরল বিশ্বাসে বিদ্যুতের আশায় দালাল চক্রের ফাঁদে পড়ে পরিবারপ্রতি ৫ হাজার থেকে ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত তুলে দেয় দালালের হাতে।

পশ্চিম ভূজপুর গ্রামের আছরের ঢেবা এলাকার মৃত আনা মিয়ার ছেলে জাগির হোসেন জানান, সমিতি থেকে ঋণ নিয়ে এলাকার মো. হামিদুল্লাহ (প্রকাশ বাদশা হুজুর) নামে এক ব্যক্তির হাতে আট মাস আগে বিদ্যুতের আশায় ৬ হাজার টাকা তুলে দেন। কিন্তু সেই থেকে আজ পর্যন্ত হুজুরের কোনো দেখা নেই।

তিনি আরও বলেন, ‘শুধু আমি নই, এই এলাকার এক শয়ের অধিক পরিবার বিভিন্ন অঙ্কের টাকা তুলে দেয় হুজুরের হাতে।’ হুজুর বিদ্যুৎ বিভাগের কেউ কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা যতদূর জানি তিনি ‘কাজীরহাট বড় মাদ্রাসা’ নামে এক কওমি মাদ্রাসার শিক্ষক।’ এ বিষয়ে অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষক মো. হামিদুল্লাহ বলেন, ‘রাউজান এলাকার ইলেকট্রিশিয়ান সালাউদ্দীন ও আমি মিলে টাকাগুলো নিয়েছি সত্য। তবে এ টাকা আমি খাইনি। সব টাকা আমি বিদ্যুৎ অফিসকে বুঝিয়ে দিয়েছি।’ গ্রাহকদের কত টাকা নিয়েছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সব মিলিয়ে সাড়ে ৯ লাখ টাকা।’ এত টাকা কেন নিলেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি মানুষের উপকার করতে চেয়েছি মাত্র।’

এ ব্যাপারে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার (রাউজান) এ কে এম শামসুদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘এ বিষয়ে দুটি অভিযোগ আমার হাতে এসেছে। ইতিমধ্যে একটি অভিযোগের তদন্ত শেষ করেছি। তদন্তে সত্যতাও মিলেছে। অন্যটিরও তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।’

ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সায়েদুল আরেফিন বলেন, ‘বিদ্যুৎ বিভাগে এ ব্যাপারে কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’