খুলনার কয়রা উপজেলার মহেশ্বরীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিজয় কুমার সরদারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠেছে। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ২১ নভেম্বর খুলনা জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বরাবর অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
গত শুক্রবার বিকেলে ইউনিয়ন পরিষদের সামনে মানববন্ধন করেছেন ইউনিয়নের সাতজন সদস্য, গ্রাম পুলিশ ও স্থানীয় জনসাধারণ। ইউপি চেয়ারম্যান বিজয় কুমার সরদার কয়রা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রীস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি।
এর আগে তার বিরুদ্ধে লোকাল গভর্ন্যান্স সাপোর্ট প্রজেক্টের (এলজিএসপি) ২০ লাখ টাকা আত্মসাৎ, ভাতাভোগীদের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা আদায় ও গ্রাম পুলিশকে মারধরের ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাঠানো হয় খুলনা জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বরাবর।
ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মহাশীষ সরদার বলেন, চেয়ারম্যান রাজনৈতিক ক্ষমতার দাপটে পরিষদের সদস্যদের মূল্যায়ন করতে চান না। সব কিছুই তার একক সিদ্ধান্তে চালাতে চান। তার স্বেচ্ছাচারিতার প্রতিবাদ করলে তাকে পরিষদে আসতে নিষেধ করেন।
ইউপি সদস্য আনসার আলী কবির বলেন, চেয়ারম্যান পরিষদে সভা না করে নামমাত্র কয়েকটি পানির ট্যাংক বিতরণ দেখিয়ে এলজিএসপি প্রকল্পের ২০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এ ছাড়া তিনি ভিজিডি, ভিজিএফ, বিধবা ও বয়স্ক ভাতার সুবিধাভোগীদের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা আদায়ে গ্রাম পুলিশদের ব্যবহার করে থাকেন। এ ব্যাপারে প্রতিবাদ করায় গ্রাম পুলিশ হিমাদ্রী রায়কে পরিষদের কক্ষে আটকে রেখে মারধর করেন তিনি।
এ বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান বিজয় কুমার সরদার বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের কয়েকজন সদস্য ও গ্রাম পুলিশ নিজেদের স্বার্থ উদ্ধারে ব্যর্থ হয়ে আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন দপ্তরে ভিত্তিহীন অভিযোগ দিচ্ছেন। স্থানীয় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ইন্ধনে তারা এসব করছে বলে তিনি পাল্টা অভিযোগ করেন।