যুবলীগের নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে শেখ ফজলুল হক মনির বড় ছেলে ফজলে শামস পরশ। নতুন কমিটিতে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সভাপতি মাঈনুল হোসেন খান নিখিল। আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনটির এবারের কমিটি গঠনে ৫৫ বছর বয়সসীমার যে বিধিনিষেধ ছিল সাধারণ সম্পাদক নিখিলের ক্ষেত্রে তা মানা হয়নি। তার বয়স এখন ৫৭ বছর। বয়স না থাকায় তেমন একটা আলোচনায়ও ছিলেন না তিনি।
গতকাল শনিবার বিকেলে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে যুবলীগের সপ্তম
কংগ্রেসের দ্বিতীয় অধিবেশন শেষে তাদের নাম ঘোষণা করেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এর আগে তিনি আগের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেন।
যুবলীগের সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক চয়ন ইসলাম চেয়ারম্যান হিসেবে ৫১ বছর বয়সী শেখ ফজলে শামস পরশের নাম প্রস্তাব করেন এবং সদ্য সাবেক সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ প্রস্তাবে সমর্থন করেন। এরপর আর কোনো নাম প্রস্তাব না আসায় শেখ ফজলে শামস পরশ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। সেখানে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে পরশ বলেন, যুবলীগের চেয়ারম্যান হিসেবে নয়, কর্মী হিসেবে সবার পাশে থাকব। এ সময় যুবকদের শক্তিতে পরিণত করার ঘোষণা দেন তিনি।
সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য কাউন্সিলরদের কাছ থেকে নামের প্রস্তাব চাওয়া হয়। সেখানে অ্যাডভোকেট বেলাল হোসেন, মহিউদ্দিন মহি, বদিউল আলম বদি, মাঈনুল হোসেন খান নিখিল, সুব্রত পাল ও ইকবাল মাহমুদ বাবলুসহ মোট সাতজনের নাম প্রস্তাব আসে। এরপর সাধারণ সম্পাদক প্রার্থীদের নিজেদের মধ্যে সমঝোতার জন্য আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের নির্দেশ দেন। সমঝোতায় ব্যর্থ হলে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার পরামর্শক্রমে মাঈনুল হোসেন খান নিখিলের নাম ঘোষণা করেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক।
পরশ যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে শেখ ফজলুল হক মনির বড় ছেলে। রাজনৈতিক পরিবার থেকে বেড়ে ওঠা পরশ ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় ও বিদেশি একটি বিশ^বিদ্যালয় থেকে ইংরেজিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। দেশের একটি বেসরকারি বিশ^বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত আছেন তিনি। রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান হলেও যুবলীগের চেয়ারম্যান হয়েই রাজনীতিতে প্রবেশ ঘটল পরশের।
নতুন সাধারণ সম্পাদক মাঈনুল হোসেন খান নিখিল ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন। চাঁদপুরের এ সন্তান ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক থেকে সাধারণ সম্পাদক, তারপর সভাপতি হয়েছিলেন। সেখান থেকে হলেন যুবলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক।
গতকাল বেলা ১১টার দিকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সম্মেলনের প্রথম অধিবেশনে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। এরপর তিনি জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন এবং কংগ্রেস প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক চয়ন ইসলাম দলীয় পতাকা উত্তোলন করেন। এ সময় একদল শিল্পী জাতীয় সংগীত পরিবেশন করেন। পরে যুবলীগের সপ্তম কংগ্রেসের উদ্বোধন ঘোষণা করেন শেখ হাসিনা।
এবার এক ভিন্ন প্রেক্ষাপটে অনুষ্ঠিত হয় যুবলীগের সম্মেলন। সম্মেলনের আগে ক্যাসিনো, মাদক, চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজিসহ নানা অনৈতিক কাজের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে সংগঠনটির অনেকেই বহিষ্কার ও গ্রেপ্তার হন। অব্যাহতি দেওয়া হয় চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীকে। নতুন নেতৃত্বের জন্য সংগঠনটির ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারই বড় চ্যালেঞ্জ। সে কারণেই মূলত সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা মনিপুত্র পরশকে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
গত ২০ অক্টোবর যুবলীগের একটি প্রতিনিধি দল গণভবনে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। সাক্ষাতের আগে প্রতিনিধি দলে চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীসহ যুবলীগের কয়েকজন নেতাকে না রাখার জন্য গণভবন থেকে আগে নির্দেশনা দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ওই বৈঠকে যুবলীগের বিতর্কিত অন্যদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত না হলেও ওমর ফারুককে চেয়ারম্যানের পদ থেকে অব্যাহতির সিদ্ধান্ত হয়। একই সঙ্গে যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য চয়ন ইসলামকে আহ্বায়ক ও সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদকে সদস্য সচিব করে সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি গঠন করা হয়।