সৌদি আরবে কাজের অনুমতিপত্রের মেয়াদ শেষের আগেই পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে আরও ১২৫ বাংলাদেশি শ্রমিককে। গত শুক্রবার রাত ১১টা ২০ মিনিটে সৌদি এয়ারলাইনসের একটি বিমানে তারা দেশে ফেরেন বলে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রবাসীকল্যাণ ডেস্ক সূত্রে জানা গেছে।
বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের মাইগ্রেশন কর্মসূচির তথ্য অনুযায়ী, এর আগে চলতি বছরের ১০ মাসে সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরেছেন ২১ হাজার বাংলাদেশি। যার মধ্যে ৪ হাজার নারীকর্মী। দেশে ফেরা শ্রমিকদের অভিযোগ, কাজের অনুমতিপত্র বা আকামা থাকার পরও সৌদি পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে দেশে পাঠাচ্ছে। তবে সৌদি আরবে অবস্থিত বাংলাদেশি দূতাবাস বলছে, ২০১৭
সালের অক্টোবর থেকে অভ্যন্তরীণ বেকারত্ব দূর করতে প্রায় ৩৬টি পেশায় বিদেশি কর্মী নিয়োগ বন্ধ করেছে দেশটির সরকার। এসব কাজে শতভাগ সৌদিকরণ করা হয়েছে। এতে বাংলাদেশিসহ অন্যান্য দেশের লাখ লাখ শ্রমিক বেকার হয়ে দেশে ফিরতে বাধ্য হয়েছেন।
গত শুক্রবার রাতে দেশে ফেরা নারায়ণগঞ্জের আবজাল হোসেন দেশ রূপান্তরকে জানান, আড়াই মাস আগে ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা খরচ করে সৌদি আরব গিয়েছিলেন। কাজে যাওয়ার সময় পথ থেকে ধরে নিয়ে যায় সৌদি পুলিশ। পরে ১০ দিন জেল খেটে দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয় তাকে। শুক্রবার দেশে ফেরা কুমিল্লার কামরুল ইসলাম এবং সাইদুল ইসলামও এই পরিস্থিতির শিকার বলে জানিয়েছেন। তাদের তথ্য অনুযায়ী, দালালের মাধ্যমে সাড়ে ৩ লাখ থেকে সাড়ে ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ করে সৌদিতে গিয়েছিলেন তারা। যেখানে সৌদি আরবে যাওয়ার সরকারি খরচ ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা।
সৌদিতে কর্মের সুযোগ কমেছে জানা সত্ত্বেও এক শ্রেণির অসাধু রিক্রুটিং এজেন্সি ফ্রি ভিসার নামে দেশটিতে লোক পাঠাচ্ছে বলে সম্প্রতি জোর আলোচনায় এসেছে। প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রীও বিষয়টি স্বীকার করেছেন।
রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্ট রিসার্চ ইউনিটের চেয়ারম্যান তাসনিম সিদ্দিকী কয়েক দিন আগে দেশ রূপান্তরকে বলেন, সৌদি আরব এখন অনেক সংকটে আছে। তারা বিদেশি কর্মী কমাচ্ছে। তাদের মেয়েরা এখন গাড়ি চালাচ্ছে। এসব জানার পরও এক শ্রেণির অসাধু ম্যানপাওয়ার ব্যবসায়ী মিথ্যা আশ্বাসে ফ্রি ভিসার মাধ্যমে সৌদিতে লোক পাঠাচ্ছে। সরকারের উচিত হবে এসব অসাধু ব্যবসায়ীর লাইসেন্স বাতিল করা। একই সঙ্গে নতুন শ্রমবাজার খুঁজে বের করতে রিক্রুটিং এজেন্সিকে দায়িত্ব দেওয়ারও দাবি জানান তিনি।