রোহিঙ্গা ইস্যুতে ‘নিরপেক্ষ’ থাকার দাবি চীনের

জাতিসংঘের বিভিন্ন ফোরামে একাধিক রেজুলেশনে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে ভোট দিয়ে আসা চীন এই ইস্যুতে নিরপেক্ষ থাকার দাবি করেছে।

রবিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘রোহিঙ্গাদের শান্তিপূর্ণ প্রত্যাবাসনের কৌশল সন্ধান’ বিষয়ক সেমিনারে এমন দাবি করেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিং।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে চীন ‘সক্রিয় ও উদ্বিগ্ন’ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মিয়ানমার বন্ধু রাষ্ট্র হলেও রোহিঙ্গা ইস্যুতে কারও প্রতি কোনো পক্ষপাত নেই চীনের। বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সার্বভৌম দেশ। তাই এনিয়ে কোনো দেশের ওপরই চাপ প্রয়োগ করতে পারে না বেইজিং।’

প্রসঙ্গত, নিরাপত্তা পরিষদসহ জাতিসংঘের বিভিন্ন ফোরামে রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আনা একাধিক প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দিয়ে আসছে চীন ও রাশিয়া। এই ইস্যুতে প্রতিবেশী ভারতের ভোটও পায়নি বাংলাদেশ।

চীনা রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের শান্তিপূর্ণ প্রত্যাবাসনে একটি রোডম্যাপ অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছে চীন। শেখ হাসিনার চীন সফরে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে প্রতিশ্রুতি দিয়ে বেশকিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। দুই বছর ধরে এ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।’

জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) স্থানীয় প্রতিনিধি স্টিভেন করলিস বলেন, রোহিঙ্গারা যেখানে রয়েছে, আমার ৩০ বছর জীবনে এমন অবর্ণনীয় ক্যাম্প দেখিনি। একমাত্র বাধ্য হয়েই তারা সেখানে বসবাস করছে।

তিনি বলেন, ‘শতকরা ৯৭ জন রোহিঙ্গা বলেছেন- তারা নিরাপত্তার নিশ্চয়তা পেলে মিয়ানমারে ফিরে যাবেন। এজন্য দরকার শান্তিপূর্ণ ও স্বেচ্ছায় নিরাপদ প্রত্যাবাসন।’

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক বলেন, মিয়ানমারের নেতা অং সান সু চি ব্যক্তিগতভাবে সংখ্যালঘু মুসলিম রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে। তিনি আন্তর্জাতিক আদালতে গণহত্যার অভিযোগের বিরুদ্ধে তার সরকারের পক্ষে লড়বেন।

তিনি বলেন, ‘এখন দেখার বিষয় কী ঘটে। আমরা চাই, রোহিঙ্গারা সম্মানের সঙ্গে নিজ দেশে ফিরে যাক। কিন্তু, দুর্ভাগ্য একজন রোহিঙ্গাও এখন পর্যন্ত মিয়ানমারে ফেরত যায়নি।’