নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লায় প্রকাশ্যে পিস্তল উঁচিয়ে এক কিশোরের গুলি ছোড়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে ভাইরাল হয়েছে। পুলিশ তাকে ধরতে অভিযান শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন।
রোববার দুপুর ২টা ৫১ মিনিটে কবিরুল ইসলাম নামের এক গণমাধ্যমকর্মীর ফেসবুক টাইমলাইনে ওই ভিডিওটি প্রথমে আপলোড হয়। এরপর ভিডিওটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।
গণমাধ্যমকর্মী কবিরুল ইসলাম ফেসবুকে তার ব্যক্তিগত আইডির টাইমলাইনে ভিডিওটি আপলোড করে বারো লাইনের একটি পোস্ট লেখেন। সেই পোস্টে তিনি দাবি করেন, কিশোরটি পাগলা বৌবাজার এলাকার সন্ত্রাসী সোহান।
মাত্র পাঁচ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, ফুলহাতা গেঞ্জি পরিহিত এক কিশোর পিস্তল উঁচিয়ে একটি গুলি ছুড়ে। ভিডিওটিতে দেখে বোঝা যায়, স্বেচ্ছায় ওই কিশোর গুলি ছোড়ার দৃশ্য মোবাইলে কাউকে দিয়ে ধারণ করায়। ভিডিওচিত্রটি ধারণকারী গুলি ছোড়ার আগে ওই মুহূর্ত সময়ের গণনা করছিল।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফেসবুকের স্ট্যাটাসে গণমাধ্যমকর্মী কবিরুল যা লিখেছেন তা হুবহু তুলে ধরা হলো।
‘ভিডিও দেখে আঁতকে উঠেছি। প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রশিক্ষণ নিচ্ছে সোহান নামের এ সন্ত্রাসী। এটা ফতুল্লা থানার পাগলা বৌবাজার এলাকার কোনো এক স্থান থেকে ধারণ করা। এভাবে প্রকাশ্যে সন্ত্রাসী অস্ত্র প্রশিক্ষণ ভীতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমনিতে কুতুবপুর ইউনিয়নকে সবচেয়ে আতঙ্কিত এলাকা হিসেবে বিচার করা হয়। এমন একটা সময়ে এ ভিডিওটি প্রকাশ পেল যখন কুতুবপুরে চলছে একটি চিহ্নিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর রাম রাজত্ব। বৌ বাজার এলাকার কালা জাহাঙ্গীরের পুত্র সন্ত্রাসী সোহানকে গ্রেপ্তার করলে এই অস্ত্র ও তার মদদদাতাদের নাম পাবে প্রশাসন। আর আটক করতে না পারলে অশান্ত কুতুবপুরে খুন-খারাবি চলবেই।’
ভিডিওটির বিষয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করে জানতে চাইলে কবিরুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমি ফতুল্লা থানা এলাকার একজন স্থানীয় বাসিন্দা। রোববার দুপুরে এলাকার এক ছেলে আমার ফেসবুক মেসেঞ্জারে ভিডিওটি পাঠায়। ভিডিওটি দেখে এবং এলাকার আরো কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হই পিস্তল উঁচিয়ে গুলি ছোড়া ছেলেটি আমাদের পার্শ্ববর্তী পাগলা কুতুবপুর এলাকার সোহান। যে কিনা জেলার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থার তালিকাভুক্ত চিহ্নিত সন্ত্রাসী। সন্ত্রাসী মীরু ও শাকিলের বর্তমানে ডান হাত হিসেবে কাজ করছে সে।
ভিডিওটি আপলোড করার বিষয়ে তিনি বলেন, আমার ফেসবুক আইডির সঙ্গে নারায়ণগঞ্জ জেলার অধিকাংশ সাংবাদিক ও পুলিশ প্রশাসনসহ বিভিন্ন সংস্থার ব্যক্তিরা সম্পৃক্ত আছেন। বিষয়টি তাদের নজরে আনতে আমি ভিডিওটি পোস্ট দিয়ে ছেলেটির পরিচয় তুলে ধরেছি। গণমাধ্যমের একজন পেশাদার কর্মী হিসেবে দায়িত্ববোধ থেকেই সমাজের সচেতন মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করতেই বিষয়টি আমি তুলে ধরেছি।
সাংবাদিক কবিরুল আরো বলেন, একটা কিশোর যেভাবে প্রকাশ্যে অস্ত্রের প্রশিক্ষণ নিচ্ছে, এটা আমাদের সমাজের জন্য অত্যন্ত ভীতিকর ও দুঃখজনক ব্যাপার। তার কারণে পুলিশ প্রশাসন বিতর্কিত হতে পারে এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ অন্যান্য বিভিন্ন পর্যায়ের জনপ্রতিনিধিরা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারেন।
এসব সার্বিক বিষয় চিন্তা করেই কবিরুল ভিডিওটি আপলোড করেছেন বলে জানান।
ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আসলাম হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, সোহানকে ধরতে তার বাড়িতে কয়েক দফা অভিযান চালানো হয়েছে। এ অস্ত্রের উৎস কী, সেটা উদ্ঘাটনে কাজ চলছে। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।