সৌদি আরবে নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচার আকুতি জানিয়েছেন হুসনা আক্তার (২৫) নামে আরেক বাংলাদেশি নারী গৃহকর্মী। ওই ভিডিও ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। হুসনা আক্তার হবিগঞ্জের আজমিরিগঞ্জ উপজেলার আনন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা।
ভিডিও বার্তায় হুসনা আক্তার বলেন, ‘আমি মোছা হুসনা আক্তার। আমার দালালে ভালা কথা কইয়া-কামের কথা কইয়া আমারে পাঠাইছে সৌদি। সৌদি আরবের নিজরাল (নাজরান) এলাকায় আমি কাজ করি। আমি এখানে আইসা দেখি কাজ ভালা না। আমার সাথে ভালা ব্যবহার করে না ওরা। ওরা আমার ওপর অত্যাচার করে। এখন এরার অত্যাচার আমি সহ্য করতে পারি না দেইক্কা কইছি আমি যাইমু গা। এই কথা বলায় ওরা আরও বেশি অত্যাচার করে। আমি এজেন্সির অফিসে ফোন দিছি। অফিসের এরা আমার সাথে খারাপ ব্যবহার করে।’
ভিডিও বার্তায় হুসনা আরও বলেন, ‘আমি আর পারতাছি না। তোমরা যেভাবে পার আমারে তোমরা বাঁচাও। এরা আমারে বাংলাদেশ পাঠাইতো চায় না। এরা আমারে ইতা করতাছে। অনেক অত্যাচার করতাছে। আমারে ভালা কামের (কাজের) কথা কইয়া পাঠাইছে দালালে। আমারে ইতা করতাছে ওরা। আমি আর পারতাছি না সহ্য করতাম। তোমরা যেভাবে পার আমারে নেও।’
হুসনা আক্তার ১৭ দিন আগে একটি এজেন্সির মাধ্যমে সৌদি আরব পাড়ি জমান। সেখানে গৃহকর্তার নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে প্রথমে স্বামী শফিউল্লাকে ভিডিও বার্তাটি পাঠান। তারপর হুসনার স্বামী ওই এজেন্সিতে গিয়ে এসব কথা জানালে এজেন্সির সংশ্লিষ্টরা তার কাছে এক লাখ টাকা দাবি করেন এবং হুসনা সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য করেন।
শফিউল্লা কোনো উপায় না পেয়ে স্ত্রীকে বাঁচানোর জন্য ওই ভিডিও তার এক ভাইয়ের মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করান।
উল্লেখ্য, এর আগে সৌদি আরবে নির্যাতনের শিকার হয়ে ফেসবুকে জীবন বাঁচানোর আকুতি জানিয়ে ভিডিও বার্তা পাঠিয়েছিলেন পঞ্চগড়ের সুমি আক্তার। তার ভিডিও ভাইরাল হলে দেশ জুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। পরে চলতি মাসের ১৫ তারিখ তিনি সৌদি থেকে জেদ্দা বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের সহায়তায় দেশে ফেরেন সুমি।