উপকূলে বিষমুক্ত শুঁটকি তৈরির ধুম

আনোয়ারা উপকূলজুড়ে চলছে শুঁটকি তৈরির ধুম। কোনো ধরনের কীটনাশক ছাড়াই রোদে ও বাতাসে শুকিয়ে তৈরি হচ্ছে এসব শুঁটকি। দেশে চাহিদা মিটিয়ে এখন বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে এখানকার শুঁটকি। এতে প্রতি বছর অর্জিত হচ্ছে কোটি কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা। এ ছাড়া কর্মসংস্থান হচ্ছে শত শত অভাবী নারী-পুরুষের।

জানা যায়, আশির দশকের শুরু থেকে আনোয়ারা উপকূলের বিভিন্ন এলাকায় শুঁটকি উৎপাদন শুরু হয়। মাঝখানে কয়েক বছর নানা কারণে উৎপাদনে ভাটা পড়ে। কয়েক বছর হলো আবারও শুঁটকি উৎপাদনে আগ্রহী হয়ে ওঠেন এখানকার ব্যবসায়ীরা। উদ্যোক্তা ও ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘নিজস্ব অর্থায়নে গহিরার চরে শুঁটকি উৎপাদনের জন্য একটি মহাল তৈরি করেছি। প্রতিদিন শত শত কেজি সামুদ্রিক মাছের শুঁটকি উৎপাদিত হচ্ছে এ মহালে। কোনো ধরনের কীটনাশক প্রয়োগ ছাড়াই প্রাকৃতিক উপায়ে উৎপাদিত হচ্ছে এসব শুঁটকি।’

সরেজমিন দেখা গেছে, সাগরে পাতানো ভাসান ও টং জালে আহরিত সামুদ্রিক বিভিন্ন প্রজাতির মাছ জেলেদের নৌকা থেকে ওঠানো হচ্ছে। জেলেদের থেকে পছন্দের মাছগুলো কিনে মহালে নিয়ে যাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। এসব মাছ প্রথমে মহালে সংরক্ষণ করা হয়। পরে পরিশুদ্ধ করার পর আংশিক লবণ মেশানো হয়। তারপর গিঁট তৈরি করে তা শুকানোর জন্য ওই মহালের একাধিক মাচায় টাঙানো হয়। ব্যবসায়ীরা জানান, খুচরা বাজারে প্রতি কেজি লইট্যা ৫০০/৬০০ টাকা, ফাইস্যা ৩৫০/৪৫০ টাকা, ছুরি ৭০০/৯৫০ টাকা, বড় চিংড়ি (চাগাইছা) ১৩০০/১৫০০ টাকা দরে বিক্রি হয়।

সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সৈয়দ হুমায়ুন মোরশেদ বলেন, ‘আনোয়ারা উপকূলে প্রায় ২০টি মহালে বিষমুক্ত শুঁটকি উৎপাদন করা হচ্ছে। ডিডিটি পাউডার বা কীটনাশক না মেশালে শুঁটকির প্রকৃত স্বাদ পাওয়া যায়।’