মাত্র তিনদিন ক্ষমতায় থেকে পদত্যাগ করেছেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফাদনবিশ। দেশটির সুপ্রিম কোর্ট তাকে পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রমাণ সাপেক্ষে শপথ নিতে বলার পরদিনই তিনি পদত্যাগ করেন। ফাদনবিশের ক্ষমতায় বসাকে রাতারাতি করা ‘ক্যু’ ও শরিকদের প্রতি বিজেপির করা বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে দেখছেন বিশেস্নষকরা।
নির্বাচনের আগে ফাদনবিশ বলেছিলেন, মহারাষ্ট্রের আসনে বিজেপি একাই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে ২৮৮টি আসনের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে। এর জন্য শিবসেনার সঙ্গে জোট গড়ার দরকার হবে না বলেও তিনি বলেছিলেন। কিন্তু বিজেপির নেতা নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহের পরামর্শে শিবসেনার সঙ্গে জোট গড়েছিলেন ফাদনবিশ।
২০১৮ সালের শুরুতেই বিজেপির সঙ্গে মতদ্বৈধতার কারণে বেশ সমালোচনামুখর হয়ে ওঠে শিবসেনা। তখনই শিবসেনা এক ঘোষণায় বলেছিল, তারা পার্লামেন্টের নির্বাচনে বিজেপিকে ছাড়া একাই লড়বে। কিন্তু নির্বাচনের আগে অমিত শাহের কারণে বিজেপি-শিবসেনা জোট হয়। অমিত শাহ উদ্ধব ঠাকরেকে আলাদা নির্বাচন করা থেকে বিরত করেছিলেন এই শর্তে যে ক্ষমতায় গেলে সমভাবে আসন বণ্টন করতে হবে।
নির্বাচনে জোট জয় পাওয়ার পর শিবসেনা আড়াই বছরের জন্য মুখ্যমন্ত্রীর আসনে বসতে চেয়েছিল। কিন্তু দেবেন্দ্র ফাদনবিশ শিবসেনার ওই প্রস্তাবের বিরোধিতা করলে শুরু হয় বিজেপি-শিবসেনা টানাপড়েন।
নির্বাচনের পর জোট ভেঙে যায়, এই দৃশ্য ভারতে সাধারণ বিষয়। নির্বাচনের পর জোটগুলোর ক্ষমতা অর্জন করতে কিছুটা সময় লেগে যায়। কিন্তু এক সপ্তাহ বা এক মাসের বেশি সময় লাগলে পরিণতি যে বাজে দিকে মোড় নেয় তার উদাহরণ মহারাষ্ট্র। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী সুহাস পালশিকারেরর মতে, ‘সরকার গঠনের জন্য পার্লামেন্টের ফ্লোর টেস্টে আসতে হয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণে। এক্ষেত্রে গভর্নরের কোনো ভূমিকা থাকে না। সকালের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে কী এমন ঘটল যে– সুপ্রিম কোর্ট, ফ্লোর টেস্ট সবকিছু এড়িয়ে সবাইকে অবাক করে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শপথ নিতে গেলেন।’
অন্যের জোট ভেঙে দিয়ে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধিতে বিজেপির দেওয়া চালের পরিণতি যে নিজেদেরই ভোগ করতে হবে তা বুঝতে পারেননি মোদি-অমিত শাহ। কর্নাটক ও গোয়ায় বিজেপি তার মিত্রদের সঙ্গে নির্বাচনে জয়ের পর যে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে তা থেকে স্পষ্ট শিক্ষা নিয়েছে শিবসেনা ও এনসিপি (ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি)। বিজেপি ভেবেছিল মহারাষ্ট্রের মারাঠাদের মধ্যে তাদের গ্রহণযোগ্যতা বেশ জোরালো হয়েছে। কিন্তু এই গ্রহণযোগ্যতা যে শিবসেনার কারণেই তা ভুলে যাওয়াই কাল হয়েছে বিজেপির জন্য মহারাষ্ট্রে।