দুই মাস পরপর নতুন দাঁত গজাত মাজুনগাছাউরাস ডাইনোসরের

সাত কোটি বছর আগে পৃথিবীর বাসিন্দা ছিল তারা। মূল আবাস ছিল বর্তমান মাদাগাস্কায়। খেত অন্যান্য প্রাণীর মাংস। তবে হাড় ছিল তাদের ভীষণ প্রিয়। সে জন্যই প্রতি দুই মাস অন্তর নতুন দাঁত গজাত তাদের। গত বুধবার বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী পোল ওয়ানের এক গবেষণা নিবন্ধে মাজুনগাছাউরাস ডাইনোসরের এই বিস্ময়কর তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

নিউ ইয়র্কের অ্যাডেলফি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই গবেষণায় দেখা গেছে, মাজুনগাছাউরাসের দ্রুত দাঁত গজানোর ওই ক্ষমতা সেই সময়ে অন্যান্য মাংসাশী প্রাণীর চেয়ে ১৩ গুণ দ্রুত। 

গবেষণা দলের প্রধান ও অ্যাডেলফি বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞানের অধ্যাপক মিশেল ডি এমিক বলেন, মাজুনগাছাউরাসরা অনেক শক্ত হাড়ও চিবিয়ে খেয়ে ফেলত। তাতে ক্ষতিগ্রস্ত হতো তাদের দাঁত। তবে টিকে থাকার স্বার্থেই দুই মাসের মধ্যে নতুন দাঁত গজাত তাদের। তিনি জানান, প্রাণীটির ফসিল বিশ্লেষণ করে এ বিষয়ে তারা একাধিক পৃথক প্রমাণও পেয়েছেন।

সাধারণত প্রতিটি মাজুনগাছাউরাস গড়ে ২১ ফুট লম্বা ছিল। তারা মাদাগাস্কার দ্বীপের খাদ্যচক্রের সবার ওপরই ছিল। কারণ তাদের ধারালো দাঁত শিকারের হাড়-মাংস সবই নিমেষে কিমা বানিয়ে ফেলতে পারত। তাদের মাথায় ছোট্ট দুটি শিংয়ের মতো বস্তুও ছিল। আর মাথা থেকে লেজ পর্যন্ত ছিল কণ্টকময় পিঠ। সব মিলিয়ে সেই সময়ের অন্যতম ত্রাস ছিল এই প্রাণীটি। 

তবে সত্যিকার অর্থে প্রাণীটির দাঁত কিন্তু মোটেও বড় ছিল না। বরং তুলনামূলক নরম আর ছোট ছিল সুবিশাল এই প্রাণীর দাঁত। মিশেল ডি এমিক জানান, এই বিষয়টিই তাদের অবাক করেছে। এটাকে আমরা পরবর্তী গবেষণার পূর্বানুমান হিসেবেই নিয়েছি। 

তিনি জানান, তারা মাজুনগাছাউরাসের দাঁতের বলয়ও পরীক্ষা করে দেখেছেন, যা প্রাণীটির চোয়ালে কীভাবে এত দ্রুত নতুন দাঁত গজাত সে বিষয়ে ধারণা দেয়। পাশাপাশি অন্যান্য প্রাণীর সঙ্গে দাঁত গজানোর সময়ের তুলনামূলক চিত্র আমাদের সামনে হাজির করে।