এবার অস্ট্রেলিয়া-পাকিস্তান পিঙ্ক টেস্ট

এমনিতেই অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টানা ১৩ টেস্টে জয়বঞ্চিত পাকিস্তান। এর সঙ্গে যোগ করুন দিবা-রাত্রির টেস্টে স্বাগতিকদের অসাধারণ ধারাবাহিকতা। গোলাপি বলে টানা ৫ টেস্ট জিতেছে অস্ট্রেলিয়া। এর মধ্যে একটি আবার পাকিস্তানের বিপক্ষেই। সব মিলিয়ে অ্যাডিলেড ওভালে পাকিস্তানের জন্য আরও কঠিন পরিস্থিতি অপেক্ষা করছে। অবশ্য কঠিন পরিস্থিতিতে কখনো কখনো পাকিস্তান দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়ায়।

অ্যাডিলেড ওভালে একটি সুখস্মৃতি আছে পাকিস্তানের। সর্বশেষ এই মাঠে তারা টেস্ট খেলেছিল ১৯৯০ সালে। সেই টেস্টে দ্বিতীয় ইনিংসে সেঞ্চুরি করেছিলেন ইমরান খান আর ওয়াসিম আকরাম। তাদের ১৯১ রানের জুটিতে দ্বিতীয় ইনিংসে পাকিস্তান করে ৯ উইকেটে ৩৮৭। পরে ডিন জোন্সের অপরাজিত ১২১ রানের কল্যাণে টেস্টটি ড্র হয়। এবার কি সেখান থেকে প্রেরণা খুঁজে নিতে পারবে আজহার আলির দল? দিবা-রাত্রির টেস্ট পাকিস্তানও খারাপ খেলে না। ৩ টেস্টের মধ্যে দুটিতে জয়। হারটা শুধু অস্ট্রেলিয়ার কাছে ২০১৬ সালে, ব্রিসবেনে। সেই ব্রিসবেনেই এবারের সিরিজের প্রথম ম্যাচটি হেরেছে আজহার আলির দল। ডেভিড ওয়ার্নার ও মার্নাস লাবুশেনের দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে শুরু থেকেই কোণঠাসা ছিল আজহার আলির দল। শেষ পর্যন্ত তারা ইনিংস ও ৫ রানে পরাজিত হয়। বাবর আজম সেঞ্চুরি করেছিলেন। কিন্তু তা লড়াই করার পক্ষে যথেষ্ট ছিল না। পাকিস্তানের পেস আক্রমণও অজি ব্যাটিংয়ের ওপর প্রভাব রাখতে পারেনি। সেসব কারণেই আজ বেশ কয়েকটি পরিবর্তন দেখা যেতে পারে পাকিস্তানের বোলিং লাইনআপে। অভিষেকে গতি দিয়ে নজর কাড়লেও সার্বিক পারফরম্যান্সে নাসিম শাহ সুবিধা করতে পারেননি। তাকে বাদ দিতে পারে পাকিস্তান। ভালো করতে পারেননি আরেক পেসার ইমরান খানও। তার জায়গায় খেলবেন নিখুঁত লাইন-লেংথের জন্য উচ্চ প্রশংসিত মোহাম্মদ আব্বাস। জায়গা ফিরে পেতে যাচ্ছেন ওপেনার ইমাম-উল-হক। অধিনায়ক আজহার আলি অবশ্য পরিকল্পনা অনুসারে খেলার ওপর জোর দিচ্ছেন, ‘শুরুতে এগিয়ে যেতে পারলে সেটাই আসল ব্যবধান তৈরি করে দেয়। তবে গোলাপি বলে মানিয়ে নেওয়া সহজ নয়। আদর্শ হতো যদি গোলপি বলে বেশি অনুশীলন করা যেত। অবশ্য দুই দলই একই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে। যাই হোক, আমরা পরিকল্পনা অনুসারে খেলতে চাই। যারা ঠিকঠাক পরিকল্পনা অনুসারে খেলতে পারবে শেষ পর্যন্ত তারাই জিতবে।’