পূর্বাঞ্চল রেলপথে গত ১ বছরে ২১ ট্রেন লাইনচ্যুতির ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনাসহ প্রায় ১১টি যাত্রীবাহী ও ১০টি মালবাহী ট্রেন দুর্ঘটনার শিকার হয়। এসব দুর্ঘটনায় রেলওয়ের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি এবং অন্তত ২০ জন নিহত ও শতাধিক যাত্রী আহত হয়।
অতিসম্প্রতি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবার মন্দবাগ ও কুলাউড়ায় সবচেয়ে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটে। রেললাইনে ত্রুটি, পাথর কম থাকা, রেললাইনের পাতের সমস্যা, অবৈধ লেভেল ক্রসিংয়ে অসাবধানতার কারণে এসব দুর্ঘটনা ঘটেছে। একের পর এক দুর্ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় যাত্রীদের মধ্যে বর্তমানে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
আখাউড়া রেলওয়ে জংশন স্টেশন সূত্রে জানা যায়, সর্বশেষ ১২ নভেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবার মন্দবাগ এলাকায় রাত ৩টায় চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী আন্তঃনগর তূর্ণা নিশীথা সিলেট থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামগামী উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনকে ধাক্কা দেয়। এতে ১৬ জন নিহত ও অর্থশতাধিক যাত্রী আহত হয়। গত ২৪ সেপ্টেম্বর আখাউড়া জংশন ইয়ার্ডে কুশিয়ারা ট্রেন লাইনচ্যুত হয়। ৪ সেপ্টেম্বর আখাউড়া জংশন ইয়ার্ডে জালালাবাদ ট্রেন লাইনচ্যুত হয়।
গত ১০ অক্টোবর ভৈবর বাজার এলাকায় যাত্রীবাহী লোকাল ট্রেন লাইনচ্যুত হয়। এতে কোনো যাত্রী হতাহত হয়নি। ১ অক্টোবর একই স্থানে একই ট্রেন লাইনচ্যুত হয়। ২৭ আগস্ট কিশোরগঞ্জের গচিহাটা এলাকায় মালবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত হয়। ৮ অক্টোবর সিলেট রেলপথের হরেষপুর এলাকায় মালবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত হয়। ১৪ জুন সিলেট রেলপথের মনতলা এলাকায় যাত্রীবাহী কুশিয়ারা ট্রেন লাইনচ্যুত হয়। ১৩ জুলাই আশুগঞ্জ এলাকায় মালবাহী ট্রেনের ইঞ্জিন লাইনচ্যুত হয়।
২৪ জুন কুলাউড়ার বরমচান এলাকায় উপবন ট্রেনের লাইনচ্যুতির ঘটনা ঘটে। এতে ৪ জন যাত্রী নিহত ও অর্ধশতাধিক আহত হয়। ২৬ জুন কিশোরগঞ্জে ঈশা খাঁ ট্রেন লাইনচ্যুতির ঘটনা ঘটে।
১১ জুন সিলেট রেলপথের মনতলা এলাকায় সুরমা মেইল লাইনচ্যুত হয়। ২ জুন সিলেটের রশিদপুর এলাকায় কুশিয়ারা ট্রেনের লাইনচ্যুতির ঘটনা ঘটে ।
গত ২০ মে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তালশহর এলাকায় মালবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত হয়। ৩০ মে ভৈবর বাজার এলাকায় মালবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত হয়। ১২ এপ্রিল আখাউড়া জংশন ইয়ার্ডে মালবাহী ট্রেনের ইঞ্জিন এবং ১৩ ফেব্রুয়ারি ময়মনসিংহের মানিকখালী এলাকায় মালবাহী ট্রেনের ইঞ্জিন লাইনচ্যুত হয়।
গত ২ ফেব্রুয়ারি আশুগঞ্জ এলাকায় মালবাহী ট্রেনের ইঞ্জিন লাইনচ্যুত হয়। ১৩ জানুয়ারি মালবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত হয় আশুগঞ্জ এলাকায়।
আখাউড়া লোকো ইনচার্জ দেলোয়ার হোসেন জানান, চলতি বছরে দুটি বড় দুর্ঘটনা ঘটেছে। একেক দুর্ঘটনার কারণ একেক রকম। প্রাথমিক অনুসন্ধানে অসাবধানতা থাকায় এসব দুর্ঘটনা ঘটছে।