অ্যাডিলেড টেস্টে লড়াই যা করার করেছেন ইয়াসির শাহ। না, বল হাতে নয়, ব্যাট হাতে তিনি প্রত্যাঘাত ফিরিয়ে দেন অস্ট্রেলিয়াকে। নিজের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিও করেছেন। তাতেও ফলোঅন এড়াতে পারেনি পাকিস্তান। তাদের প্রথম ইনিংস গুটিয়ে গেছে ৩০২ রানে। অস্ট্রেলিয়ার ২৮৭ রানে পিছিয়ে ফলোঅন করতে নেমে, আবারও ধসে পড়ে আজহার আলিরা। ৩ উইকেট হারিয়ে করেছে ৩৯ রান। ইনিংস পরাজয় এড়াতে এখনো ২৪৮ রান প্রয়োজন।
অস্ট্রেলিয়ার ৩ উইকেটে ৫৮৯ রানের জবাবে দ্বিতীয় দিনেই ৬ উইকেট হারিয়ে ফেলেছিল পাকিস্তান। গতকাল সকালে ৬ উইকেটে ৯৬ রান নিয়ে সকালে খেলতে নামেন বাবর আজম (৪৩*) ও ইয়াসির শাহ (৪*)। শেষ চার উইকেটে ২১৩ রান যোগ করে স্কোরটাকে ভদ্রস্থ করতে পেরেছে পাকিস্তান এই দুজনের কৃতিত্বে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সপ্তম উইকেটে ১০৫ রানের সেরা জুটি গড়ে তোলেন দুজনে। কিন্তু দুর্ভাগ্য আজমের। পরপর দুই ইনিংসে সেঞ্চুরি করা থেকে ৩ রানের জন্য বঞ্চিত হন জশ হ্যাজলউডের শিকার হয়ে। ইয়াসির শাহ দমেননি তাতেও। দলে ফেরা মোহাম্মদ আব্বাসকে সঙ্গে নিয়ে নবম উইকেটে ৮৭ রান যোগ করেন তিনি। ১৯২তম বলকে মিডঅনের ওপর দিয়ে তুলে ক্যারিয়ারে প্রথম তিন অংকের স্কোরে পৌঁছান ইয়াসির। তখন পর্যন্ত বাউন্ডারি ছিল ১২টি। শেষ পর্যন্ত ২১৩ বলে ১১৩ রান করে কামিন্সের দ্বিতীয় শিকার হয়েছেন তিনি। পরে আব্বাসকেও আউট করেছেন কামিন্স। তবে অস্ট্রেলিয়ার সফলতম বোলার মিচেল স্টার্ক ৬৬ রানে নিয়েছেন ৬ উইকেট।
ফলোঅন করতে নেমে আবারও বিপদে পড়ে পাকিস্তান। এবার সফরকারীদের হন্তারকের ভূমিকায় নামেন জশ হ্যাজেলউড। ওপেনার ইমাম-উল-হক এবং বাবর আজমকে আউট করেন তিনি। অধিনায়ক অজহার আলিকে ফেরান স্টার্ক। এই টেস্টে ওপেনার হিসেবে সুযোগ পাওয়া ইমাম দুই ইনিংসেই ব্যর্থ। প্রথম ইনিংসে ২ রানে আউট হওয়ার পর গতকাল ফেরেন শূন্য হাতে।
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টানা ১৩টা টেস্ট হেরেছে পাকিস্তান। আরও একটা হারের মুখে দাঁড়িয়ে তারা। শান মাসুদ আর আসাদ শফিক অপরাজিত হিসেবে আজ লড়াইয়ে নামবেন। কিন্তু এটা সহজ লড়াই নয়। অ্যাডিলেডে ইনিংস পরাজয় এড়াতেই এখনো পাকিস্তানের দরকার ২৪৮ রান। এবার কেউ কি ইয়াসিরের মতো লড়াইয়ের ব্যাটন হতে তুলে নিতে পারবেন? এমন একজন পরিত্রাতার অপেক্ষায় আছে পাকিস্তান।