এবারের বিপিএলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে জমকালো হবে বলে আগেই ঘোষণা দিয়েছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। ৮ ডিসেম্বর হতে যাওয়া উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আয়োজনে মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে এখন জোর প্রস্তুতি চলছে। তবে যত জমকালো আয়োজনই হোক, সাধারণ দর্শকদের অল্পসংখ্যকই সরাসরি তা উপভোগের সুযোগ পাবেন।
মঙ্গলবার বিপিএলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি ও গ্যালারির চেয়ার সংস্কার কাজ পরিদর্শনে এসেছিলেন বিসিবি বস নাজমুল হাসান পাপন। এ সময় সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সব মিলে ৮ হাজারের বেশি দর্শককে সুযোগ করে দেওয়াটাই কঠিন হবে। যার নির্দিষ্ট একটা অংশ ভিআইপি অতিথি, বিসিবির কাউন্সিলর, ক্লাব প্রতিনিধি ও বিভিন্ন সংস্থার জন্য বরাদ্দ থাকবে। এ ছাড়া সাধারণ দর্শকদের জন্য ৫ হাজার টিকিট বাইরে ছাড়া হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন বিসিবি সভাপতি।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কারা পারফর্ম করবেন সেটি বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে। তবে মিরপুরের সংস্কার কাজ ও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নিয়ে কথা বলেন নাজমুল হাসান পাপন। বিসিবি প্রধান বলেন, ‘মূলত এসেছিলাম ৮ তারিখের অনুষ্ঠানটার জন্যই। মঞ্চের কাজ হচ্ছিল। এখানে প্রধানমন্ত্রীর জন্য আলাদা ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এই জায়গাটা দেখে গেলাম। পুরো ছবি, কতটুকু হলো, কবে শেষ হবে, কি ধরনের ম্যাটেরিয়াল ব্যবহার করবে এর সবকিছু দেখলাম।’
বাস্তবতার কারণেই খুব বেশি দর্শক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রাখা সম্ভব হবে না জানিয়ে নাজমুল হাসান পাপন বলেন, ‘এখানে মাঠে আমাদের যেহেতু ভিউ নাই। খুব অল্পসংখ্যক দর্শককে এলাও করতে পারব। আমাদের হিসেব অনুযায়ী, অলমোস্ট সব মিলে ৮ হাজারের বেশি করাটাই খুব কঠিন হবে।’
পিচ ও মাঠ যাতে নষ্ট না হয় সেদিকে সচেতনতার কথা উল্লেখ করে বিসিবি প্রধান বলেন, ‘মাঠের ভেতরে পিচ নষ্ট হতে পারে বা মাঠ নষ্ট হতে পারে এ রকম কোনো রিস্ক তো আমরা নিতে পারছি না। ওই জায়গাটা যদি বন্ধ থাকে দুই সাইটে অল্প কিছু চেয়ার আমরা ভিআইপিদের জন্য ব্যবস্থা করতে পারব আশা করছি।’
‘মাঠে আর কতগুলো চেয়ার দিতে পারব। বড়জোর আমার মনে হয় হাজার খানিক। এটা হলো আমাদের এখন পর্যন্ত ধারণা। ওরা আরো বিস্তারিত প্ল্যান করে কালকের মধ্যে আমাদের জানাবে।’
সাধারণ দর্শকদের জন্য কি পরিমাণ টিকিট ছাড়া হবে এমন প্রশ্নের উত্তরে নাজমুল হাসান পাপন জানান, ‘যে জিনিসটা হবে... আমাদের তো কাউন্সিলর আছে। তাদের দিতে হবে। ক্লাবগুলোকে দিতে হবে। একটা টুর্নামেন্ট হলে আমরা যেটা করি, এ রকম কোনো অকেশনে হয়তো আগে খেলার জন্য যেভাবে দিয়েছি সে পরিমাণ দিতে পারব না। এবার অত্যন্ত রেসট্রিকটেট। প্লাস বসারও অ্যারেঞ্জ খুব কম। ডিমান্ড যেহেতু বেশি, কোয়ান্টিটি কম পাবে।’
‘কিন্তু ওদের তো দিতে হবে। এ ছাড়া কিছু সংস্থাও আছে যাদের সঙ্গে আমাদের সবকিছু ওতপ্রোতভাবে জড়িত। আমরা চিন্তা করেছি ভেতরে বাইরে মিলিয়ে হাজার পাঁচেক টিকিট হয়তো আমরা সাধারণ দর্শকদের জন্য দিতে পারব।’
এবারের বিপিএল আয়োজিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বিশেষ ব্যবস্থাপনায়। ৮ ডিসেম্বর উদ্বোধন হলেও মাঠের লড়াই শুরু হবে ১১ ডিসেম্বর। আগামী বছর জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানে জন্মশত বার্ষিকী। যে উপলক্ষে এবারের বিপিএল বঙ্গবন্ধুকে উৎসর্গ করে আয়োজন করছে বিসিবি।