নড়িয়ার নশাসন ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুম ছৈয়ালের (৩০) ভয়ে পাড়াগাঁও গ্রামের ১১ পরিবার বসতভিটা ছেড়ে অন্যত্র বসবাস করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, ছয় মাস ধরে তারা বসতভিটা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। এতে ব্যাহত হচ্ছে সন্তানদের লেখাপাড়া। নিরাপত্তা চেয়ে পুলিশ সুপার বরাবর তারা লিখিত অভিযোগও করেছেন।
নশাসন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বাবুল হোসেন মোল্লা বলেন, পাড়াগাঁও গ্রামের মৃত ছিটু ছৈয়ালের ছেলে মাসুমের বিরুদ্ধে নড়িয়া থানা ও পালং মডেল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনসহ বিভিন্ন অপরাধে ১২টি মামলা রয়েছে। ২০১৮ সালের জুলাইয়ে ফসলি জমিতে অবৈধ ড্রেজার মেশিন বসিয়ে নিজ বাড়িতে বালু উত্তোলনের বিষয়টি নজরে এলে প্রশাসন সেটি পুড়িয়ে ধ্বংস করে দেয়।
স্থানীয় জলিল আকন প্রশাসনকে জানিয়েছেন, অপবাদ দিয়ে তাকে কুপিয়ে আহত করে মাসুম ও তার বাহিনী। বর্তমানে জলিল ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। সেই ঘটনায় জলিলের ভাই এমদাদ মাসুমকে প্রধান আসামি করে ১০ জনের বিরুদ্ধে নড়িয়া থানায় মামলা করেন। সেই মামলায় জামিনে এসে এলাকায় তাণ্ডব শুরু করে মাসুম ও তার বাহিনী। মামলা তুলতে বাদীপক্ষের লোকজনদের হামলা, লুটপাট, মারধরসহ বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেয়।
তার ভয়ে পাড়াগাঁও গ্রামের ধলু আকন, এনায়েত আকন, জলিল আকন, খলিল আকন, কাদির আকন, আনসার আকন, আলম আকন, আজিদ আকন, মাসুম আকন, ভুট্টু আকন ও নরুল হক আকন তাদের বসতভিটা ছেড়ে পরিবার নিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।
ভুক্তভোগী ঝুমা আক্তার বলেন, ‘আমি ডোমসার জগৎ চন্দ্র ইনস্টিটিউশন অ্যান্ড কলেজে দশম শ্রেণিতে পড়ি। মাসুমদের ভয়ে আমার বাবা আঞ্জু আকন ও ভাইরা বাড়িতে আসতে পারে না। আমি ভয়ে স্কুলে যেতে পারি না। আমার লেখাপড়া বন্ধ হওয়ার জোগাড় হয়েছে।’
ধলু আকন নামে একজন বলেন, ‘মাসুম মাদকসেবী ও বিক্রি করে। গ্রামে মাদক বিক্রি করা যাবে না– এমন প্রতিবাদ করলে আমাকে রাতে ৮ থেকে ১০ জন মিলে কুপিয়ে আহত করে। সেই ঘটনা এখনো মনে পড়ে। এ ঘটনায় মামলা করি। তবু বাড়িতে থাকতে পারি না।’
ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান সামসুদ্দিন সরদার বলেন, ‘বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা মিটিং ও পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করেছি। কিন্তু ছয় মাস হয়ে গেলেও এখনো এর সমাধান হয়নি।’
অভিযুক্ত মাসুম বলেন, ‘আমরা গ্রামের রাজনীতি করি। আমার নেতা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন তালুকদার। আর প্রতিপক্ষ প্যানেল চেয়ারম্যান সামসুদ্দিন। তার সঙ্গে জমি-সংক্রান্ত ও রাজনীতি নিয়ে দ্বন্দ্ব রয়েছে। তিনি আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করেছেন। তারা বিভিন্ন মামলার আসামি, তাই ভিটা ছেড়ে পরিবার নিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।’
নড়িয়া থানার ওসি হাফিজুর রহমান বলেন, ‘যারা জামিনে আছেন, তাদের তো গ্রেপ্তার করতে পারি না। পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে মাসুমদের বিষয়ে কোনো নির্দেশনা আসেনি। এলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
পুলিশ সুপার আবদুল মোমেন বলেন, ‘বিষয়টি শুনেছি। ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নড়িয়া থানার ওসিকে বলে দিচ্ছি।’