পুরোনো ‘অক্ষত’ লাশ ঘিরে গোবিন্দগঞ্জে চাঞ্চল্য

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার দরবস্ত ইউনিয়নের অভিরামপুরে এক নারীর লাশকে ঘিরে নানান জল্পনা-কল্পনা, গুজব ও কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে।

ওই গ্রামের কেউ লাশের পরিচয় নিশ্চিত করে বলতে না পারায় ৬০ বছরেরও বেশি পুরোনো লাশ বলে অভিহিত করছেন গ্রামবাসী। আর তাই পুলিশের উপস্থিতিতে লাশটি পুনরায় দাফন করা হয়েছে।

গোবিন্দগঞ্জ থানার পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিরামপুর গ্রামে সোমবার সকাল থেকে কয়েকজন শ্রমিক মাটির একটি উঁচু ঢিপি কেটে পাশের একটি নিচু জমি ভরাটের কাজ করছিলেন। এ সময় দুপুরের দিকে প্রায় তিন ফুট মাটি কাটার পর একটি লাশের সন্ধান মেলে। লাশটির শরীরে মোড়ানো কাফনের কাপড় ও শরীর অক্ষত ছিল।

তারপর থেকেই এই নিয়ে শুরু হয় নানান জল্পনা-কল্পনা, গুজব ও কৌতূহল। পরে খবর পেয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানার পুলিশ গিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে। ওই লাশটিকে কেউ চিনতে না পারায় এবং ৬০ বছরেরও বেশি পুরোনো বলে অভিহিত করায় লাশটি পুনরায় দাফন করা হয়েছে। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে হাজার হাজার মানুষ লাশটি দেখার জন্য ভিড় করে ওই গ্রামে।

অভিরামপুর গ্রামের ৭৫ বছর বয়সী প্রবীণ ব্যক্তি আব্দুল মালেক বলেন, যেখান থেকে লাশটি পাওয়া গেছে সেটি কোনো কবরস্থান ছিল না। কোনদিন কাউকে ওখানে কবর দেওয়া হয়েছে বলে মনে করতে পারছি না। আর তাই ধারণা করছি লাশটি বহু বছরের পুরোনো।

হাজিপাড়া জামে মসজিদের খতিব আব্দুল মোমিন বলেন, ধারণা করা হচ্ছে ওই নারী পরহেজগার ছিলেন। আর তাই তার দাফনের কাপড় ও শরীর নষ্ট হয়ে যায়নি।

দরবস্ত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আ. র. ম. শরিফুল ইসলাম জর্জ বলেন, লোকমুখে বহু পুরোনো একটি লাশের কথা শুনে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। গিয়ে দেখি লাশটি পুনরায় জানাজা করে দাফন করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রামকৃষ্ণ বর্মন দেশ রূপান্তরকে বলেন, এই ঘটনা আমরা পর্যবেক্ষণ করছি। এ বিষয়ে কেউ যদি কোনো ধরনের প্রতারণার আশ্রয় নেয় বা এর পেছনে অসৎ উদ্দেশ্য থাকে তাহলে আমরা ব্যবস্থা নেব। তখন বাধ্য হয়ে ওই লাশের ময়নাতদন্ত করতে হবে। মানুষ বিভিন্নভাবে গুজব ছড়াচ্ছে। এ মুহূর্তে আর কোনো কিছু বলা যাচ্ছে না।

গোবিন্দগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আফজাল হোসেন বলেন, ওই গ্রামের কেউই লাশটির পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি। তাই লাশটি পুনরায় দাফন করা হয়েছে। লাশটি পুরোনো বিধায় ময়নাতদন্ত করারও প্রয়োজন পড়েনি।