বাংলাদেশে বন্যা ব্যবস্থাপনা

বাংলাদেশ একটি নদীমাতৃক দেশ। এর অবস্থান দক্ষিণ এশিয়ার ক্রান্তীয় অঞ্চলে ৮৮০ থেকে ৯৩০ পূর্ব দ্রাঘিমা এবং ২০০ থেকে ২৭০ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশের ভেতরে। এর পূর্বে উত্তর এবং পশ্চিমে ভারত, দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর এবং দক্ষিণ-পূর্বে মিয়ানমার। হিমালয় পর্বতমালা থেকে উৎপন্ন বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম দুটি নদী গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্রের পানি চীন, নেপাল ও ভারতের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বাংলাদেশের ওপর দিয়ে বঙ্গোপসাগরে গিয়ে পড়েছে এবং অজস্র নদী-নালার ব-দ্বীপ সৃষ্টি করেছে। এ ছাড়া লুসাই পাহাড় থেকে উৎপন্ন বরাক নদীর পানিও বাংলাদেশের ওপর দিয়ে বঙ্গোপসাগরে গিয়ে পতিত হয়।

বাংলাদেশের নদী ব্যবস্থাপনায় গঙ্গা-পদ্মা এবং তার উপ-নদী, শাখা নদীগুলোর এলাকা নিয়ে ‘গঙ্গা বেসিন’, ব্রহ্মপুত্র-যমুনা এবং তার উপ-নদী, শাখা নদীগুলোর এলাকা নিয়ে ‘ব্রহ্মপুত্র বেসিন’ এবং মেঘনা এবং তার উপ-নদী, শাখা নদীগুলোর এলাকা নিয়ে ‘মেঘনা বেসিন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ফেনী, কর্ণফুলী, শঙ্খ, মাতামুহুরী এবং অন্য পাহাড়ি নদীগুলোর এলাকা ‘দক্ষিণ-পূর্ব হিল বেসিন’ নামে নামকরণ করা হয়েছে।

বাংলাদেশের বড় বড় নদী যথাÑ গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র এবং বরাক ছাড়াও এদের অববাহিকার ছোট-বড় অনেক নদীর পানি দেশের বাইরে ভারত, নেপাল, চীন, মিয়ানমার ও ভুটান থেকে উৎপন্ন হয়ে বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে সাগরে গিয়ে পড়েছে। তবে বাংলাদেশের সঙ্গে শুধু ভারত ও মিয়ানমারের আন্তর্জাতিক সীমানা আছে। তাই মিয়ানমারের তিনটি নদী বাদে বাকি নদীগুলো সরাসরি ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। বাংলাদেশের এসব আন্তর্জাতিক নদ-নদীর মোট সংখ্যা ৫৭টি।

প্রতি বছর জুন মাসের মাঝামাঝি থেকে অক্টোবরের শুরু পর্যন্ত মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়। এর ফলে বাংলাদেশের এলাকার প্রায় ১৫ গুণ বেশি এলাকার পানি এর ওপর দিয়ে বয়ে যায়। এর ফলে ভরে যায় নদী, খাল ও বিল এবং সৃষ্টি হয় হালকা, মাঝারি কিংবা বড় ধরনের বন্যা। তবে বর্ষা ও শরৎকালের বন্যা এ দেশের জন্য যেমন একটি সাংবার্ষিক ব্যাপার, তেমনি এই প্রচুর পানি আমাদের জন্য একটি বিশাল সম্পদও বটে।

বাংলাদেশের মোট এলাকা প্রায় ১,৪৮,০০০ বর্গকিলোমিটার (কৃষি ডায়েরি)। এর পূর্বাঞ্চলে রয়েছে কিছু পাহাড়ি এলাকা, যা লুসাই পর্বতমালার বর্ধিত অংশ। দেশের মাঝখানে ভাওয়াল ও মধুপুরের গড় ঐতিহাসিকভাবে টিলায় পূর্ণ। এ ছাড়া উত্তরাঞ্চলে আছে কিছু বরেন্দ্র উচ্চভূমি। দেশের বাকি প্রায় ১,০০,০০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা বন্যার প্লাবনভূমি। নদীবাহিত পলি পড়ে এসব জমি ক্রমশ উঁচু হচ্ছে। তবে নদীতীরবর্তী এলাকায় রয়েছে ভাঙনের প্রকোপ। দেশের বড় বড় নদী যথাÑ পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, তিস্তা, গড়াই, আড়িয়াল খাঁ ইত্যাদি নদীতে ভাঙনের প্রকোপ অত্যন্ত বেশি। বাংলাদেশের ভূখণ্ডে গড় বৃষ্টিপাতের হার বছরে ২ হাজার ৩০০ মিলিমিটার। তবে বর্ষা ও শরৎকালে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়। এই বৃষ্টিপাতের হার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সবচেয়ে বেশি বছরে প্রায় ৫ হাজার ৫০০ মিলিমিটার, কিন্তু পশ্চিমাঞ্চলে সেই তুলনায় অনেক কম প্রায় ১ হাজার ৪০০ মিলিমিটার। এ ছাড়া দেশের বাইরে থেকে নদীবাহিত হয়ে আসে প্রচুর জলসম্পদ। বাংলার সমতলের নদীগুলো যখন দেশের বাইরে অবস্থিত বিস্তীর্ণ এলাকার জল নিষ্কাশন করে নিয়ে আসে, তখন এর সঙ্গে আসে প্রচুর জলবাহিত পলি। এই পলির পরিমাণ বছরে প্রায় ২০০০ মিলিয়ন টন, যার কিছুটা ভূমিতে এবং অনেকটাই সাগরে গিয়ে পড়ে। হাজার হাজার বছর ধরে পড়া এই পলির মাধ্যমেই আমাদের উপকূলীয় দ্বীপগুলো জেগে উঠছে।

দেশের বাইরে থেকে আসা জলসম্পদ এবং দেশের ভেতরের বৃষ্টিপাতের ফলে সৃষ্টি হয়েছে পুকুর, বিল, হাওর এবং বাঁওড়ের বিস্তীর্ণ জলাভূমি অঞ্চল। সারা বছর এই অঞ্চলগুলো পানিতে ডুবে থাকে এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে। এ ছাড়া রয়েছে বড় নদীগুলোর নির্দিষ্ট প্লাবনভূমি এলাকা, যা বর্ষা ও শরৎকালে পানিতে তলিয়ে যায়। এসবের মোট পরিমাণ প্রায় ৪৪ হাজার বর্গকিলোমিটার।

বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সিলেট, মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জ জেলা হাওর ও নিম্নভূমিতে পূর্ণ। এই হাওরগুলোর ভূমির উচ্চতা সমুদ্রতল থেকে গড়ে চার মিটার। সুনামগঞ্জ এলাকার হাওরগুলোর উচ্চতা গড়ে দুই মিটার। এ কারণে ভারতের মেঘালয় এবং বরাক উপত্যকার যেকোনো বৃষ্টিপাতের পানি সবার আগে সুনামগঞ্জ এলাকার হাওরের দিকে ধাবিত হয়।

বাংলাদেশের নদী ব্যবস্থাপনার সমস্যা তাই প্রধানত দুটি। যথা বন্যা ও নদীভাঙন। বন্যা অঞ্চলভিত্তিকভাবে মোটামুটি পাঁচ প্রকার। যথাÑ ১. পাহাড়ি ঢলের বন্যা, ২. প্লাবনভূমির বন্যা, ৩. দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বন্যা, ৪. শহরাঞ্চলের বন্যা এবং ৫. উপকূল ভাগের বন্যা। পাহাড়ি ঢল আকস্মিকভাবে এসে জানমাল এবং ফসলের ক্ষতি করে। প্লাবনভূমির বন্যা একটু সময় দিয়ে আসে এবং কিছু উপকারী হলেও জনগণের জানমাল, ফসলাদি, অর্থনীতি ও যোগাযোগব্যবস্থা বিপন্ন করে। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বন্যা একটি বিস্তীর্ণ এলাকার ফসলাদি নষ্ট করে এবং জনগণকে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার শিকার করে রাখে। শহরাঞ্চলের বন্যা শিল্প, কল-কারখানা ধ্বংস করে, জনগণের জানমালের ক্ষতি ও পরিবেশ দূষণ করে এবং যোগাযোগব্যবস্থাকে বিকল করে। উপকূল ভাগের বন্যা তথা জলোচ্ছ্বাস জানমাল ও অর্থনীতি বিপন্ন করে এবং কৃষিযোগ্য জমি লবণাক্ত করে চাষের অযোগ্য করে। অতএব, বন্যা নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে সর্বাত্মক ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ থাকলেও অগ্রাধিকার বিবেচনা করাটা জরুরি।

পাহাড়ি ঢলের বন্যা প্রতিরোধ : বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং পূর্বাঞ্চল পাহাড়ি ঢলের বন্যায় আক্রান্ত হয়। এই এলাকার নদীগুলোর দুই তীরে বন্যা প্রতিরোধ বাঁধ থাকলেও অতিরিক্ত পানির চাপে কোনো কোনো বছর কোনোখানে ভেঙে যায় এবং বন্যার সৃষ্টি করে। ২০০৪ সালে গোমতী নদীতে এরূপ একটি ভাঙন ও বন্যা হয়। তবে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর এলাকায় এ বন্যার ধরন হয় ভিন্ন। এখানে নদীর বাঁধগুলোর উচ্চতা কম, যা অগ্রিম বন্যা ঠেকিয়ে বোরো ধান রক্ষা করে কিন্তু বর্ষায় ডুবে গিয়ে হাওরের ভেতর পানি প্রবেশ করতে পারে। ২০০৪ সালের এপ্রিল মাসের অস্বাভাবিক বন্যা বাঁধগুলোর উচ্চতা ছাপিয়ে যায় ও হাওরে পানি প্রবেশ করে।

প্লাবনভূমির বন্যা প্রতিরোধ : বাংলাদেশের প্লাবনভূমিতে বন্যা একটি সাংবার্ষিক এবং নিয়মিত ব্যাপার। তবে দেশের উত্তরাঞ্চলে কুড়িগ্রাম জেলা বাদে প্রায় সব কয়টি জেলার অধিকাংশ এলাকা বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধের আওতায় পড়ে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মেহেরপুর, ঝিনাইদহ ও যশোর জেলা বাদে বাকি জেলাগুলোতে বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ আছে। পূর্বাঞ্চলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বাদে বাকি জেলাগুলোর অধিকাংশ এলাকা বন্যানিয়ন্ত্রণের আওতাভুক্ত। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যা প্রতিরোধ বাঁধ থাকলেও দেশের মধ্যাঞ্চল বিশেষ করে জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, নরসিংদী, মানিকগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারীপুর, শরীয়তপুর জেলাগুলোতে তেমন বন্যা নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নেই।

প্রতি বছর দেশের মধ্যাঞ্চলের উপরিউক্ত জেলাগুলো বন্যার পানিতে ডুবে যায়। ২০০৪ সালে গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র এবং মেঘনা বেসিনে একই সঙ্গে বন্যা হলেও বন্যা-বাঁধের কারণে দেশের পশ্চিমাঞ্চলে বন্যায় তেমন ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। কিন্তু বন্যার পানি দেশের মধ্যাঞ্চলে, উত্তর-পূর্বাঞ্চলে এবং দক্ষিণাঞ্চলকে প্লাবিত করে এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করে। উল্লেখ্য, ২০০৪ সালের বন্যায় উত্তর, মধ্য ও দক্ষিণাঞ্চলে ব্যাপক ক্ষতি হলেও দক্ষিণ-পূর্ব এবং দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলে বন্যা প্রতিরোধ বাঁধের মাধ্যমে ব্যাপক এলাকা রক্ষা করা গেছে।

২০০৪ সালের বন্যায় পাবনা সেচ প্রকল্প, টাঙ্গাইল কম্পার্টমেন্ট প্রকল্প, ডিএনডি প্রকল্প, মেঘনা ধনাগোদা প্রকল্প, চাঁদপুর সেচ প্রকল্প ইত্যাদি এলাকা পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাঠপর্যায়ের কর্মীদের অক্লান্ত পরিশ্রমে রক্ষা করা গেছে। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ভয়াবহ হলে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ সব সময় কার্যকর থাকতে পারে না। কোনো কোনো এলাকায় বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে ক্ষতি হয়। এবার বগুড়ার ধুনট এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদীর ডানতীরের বাঁধ ভেঙে গেলে স্থানীয়ভাবে বন্যা ও জানমালের ক্ষতি হয়।

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বন্যা প্রতিরোধ : দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে নির্মিত জিকে সেচ প্রকল্প এলাকা থেকে শুরু করে গড়াই নদীর তীরবর্তী অধিকাংশ জেলায় বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ আছে। তবে মাগুরার ফটকি নদী, খুলনার ভদ্রা নদী এবং যশোরের কপোতাক্ষ নদীর অববাহিকা নিম্নভূমিতে পূর্ণÑ যেগুলোর গড়তল সাগরতলের তুলনায় বেশি উঁচুতে না হওয়ায় একবার বন্যা হলে পানি সরতে অনেক সময় লাগে। এসব এলাকায় বর্ষাকালে সাধারণ বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনে তেমন সমস্যা নেই, কিন্তু অস্বাভাবিক বর্ষা কিংবা পাশের দেশ ভারতের বন্যার পানি প্রবেশ করলে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। ২০০০ ও ২০০৪ সালে নিম্নচাপজনিত অতিবর্ষণের কারণে এ এলাকায় বন্যা হয় এবং ভারতের বন্যার পানি প্রবেশ করলে কপোতাক্ষ অববাহিকার পানি সরতে কয়েক মাস লেগে যায়।

শহরাঞ্চলের বন্যা প্রতিরোধ : ঢাকা মহানগরী ছাড়া দেশের অন্য নগরীগুলোর বন্যা প্রতিরোধ ব্যবস্থা প্লাবনভূমির বন্যা প্রতিরোধের সঙ্গে সম্পৃক্ত। অর্থাৎ ওইসব শহরের বন্যা প্রতিরোধ বাঁধগুলো নিকটবর্তী গ্রামাঞ্চলকে নিয়ে বেড় দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ঢাকা নগরীর বন্যা প্রতিরোধ ব্যবস্থা সমুদয় শহর এলাকাকে নিয়ে পরিকল্পিত হলেও, তার নির্মাণ সম্পূর্ণ হয়নি। ১৯৮৮ সালের ভয়াবহ বন্যায় শহরের ৭০ শতাংশ এলাকা বন্যায় তলিয়ে গিয়েছিল। এরপর ঢাকা মহানগরীকে ‘ফ্যাপ ৮বির’ আওতায় বন্যামুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয় এবং এর পশ্চিমাঞ্চলকে একটি বাঁধ ও তিনটি বড় পাম্প হাউজের মাধ্যমে বন্যামুক্ত করা হয়।

ঢাকা মহানগরীর আওতাভুক্ত বেসরকারি হাউজিং এলাকাগুলো অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠেছে এবং জলাশয়গুলো বালি দিয়ে ভরাট করে পরিবেশ নষ্ট করছে। বাংলার ঐতিহ্য অনুযায়ী প্রতিটি হাউজিং প্রকল্পের এলাকায় পুকুর কেটে সেই মাটি দিয়ে উঁচু করে পরিকল্পিতভাবে বসতি গড়লে পরিবেশ দূষণ হতো না বরং মাছ ও মিষ্টি পানির স্থায়ী জলাধার সৃষ্টি হতো। কিন্তু তার বদলে নিচু এলাকালো পার্শ্ববর্তী তুরাগ বা বালু নদীর তলদেশ ড্রেজার দিয়ে কেটে পাইপ দিয়ে বহন করে ভরাট করা হচ্ছে। এর ফলে উর্বর জমির উপরিভাগ (ঞড়ঢ়ংড়রষ) বালি দিয়ে নষ্ট করা হচ্ছে এবং জমিগুলো অল্প ভরাট করেই ক্রেতাদের কাছে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। এবারের বন্যায় ঢাকার পশ্চিমাঞ্চলের হাউজিংগুলো বাঁধের কারণে বন্যামুক্ত থাকলেও পূর্বাঞ্চলের হাউজিংগুলো হাঁটু থেকে কোমর পর্যন্ত বন্যার পানিতে ডুবে যায়। তা ছাড়া তুরাগ ও বালু নদী তেমন পলি বহন করে না। তাই ড্রেজিংয়ের ফলে এই নদীগুলোর পাড় ভাঙনকবলিত হচ্ছে।

উপকূল ভাগের বন্যা প্রতিরোধ : দেশের উপকূল ভাগ অস্বাভাবিক জোয়ার অথবা ঘূর্ণিঝড়জনিত জলোচ্ছ্বাসের কারণে প্রায়ই বন্যায় আক্রান্ত হয়। এ জন্য বিগত শতাব্দীর ষাটের দশক থেকে পোল্ডার বা বেড়িবাঁধের মাধ্যমে কৃষি এলাকা ও বসতি অঞ্চল রক্ষার কাজ হাতে নেওয়া হয়। এই কাজের মাধ্যমে স্বাধীনতা-পূর্ব সময়ে উপকূল ভাগের বিস্তীর্ণ এলাকা পোল্ডারগুলোর আওতাভুক্ত হয়। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এগুলো বর্তমানে দুর্বল হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে নদীভাঙন প্রক্রিয়া উপকূল এলাকায় বাঁধ ও স্ট্রাকচারগুলোর বেশি ক্ষতি করছে। উপকূল অঞ্চলে উপর্যুপরি সামুদ্রিক প্রলয়ের জলোচ্ছ্বাস থেকে উপকূলবাসীকে মুক্ত রাখার উদ্দেশ্যে বর্তমানে পোল্ডারগুলো পুনর্বাসনের বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

লেখক

প্রকৌশলী ও চেয়ারম্যান

জল পরিবেশ ইনস্টিটিউট