চালের দাম উচ্চমূল্যে স্থিতিশীল থাকলেও খানিকটা কমেই পাওয়া যাচ্ছে ব্রয়লার মুরগি ও ফার্মের ডিম। কমেছে কিছু সবজির দামও। যদিও এখনো কিছু কিছু সবজি ৭০ থেকে ৮০ টাকায় কিনতে হচ্ছে ভোক্তাদের। এ ছাড়া, স্থিতিশীল রয়েছে আটা, ময়দা, পেঁয়াজ, রসুন থেকে শুরু করে অন্যান্য পণ্যের দাম। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকার খুচরা ও পাইকারি বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ফার্মের ডিমের দাম আরও খানিকটা কমেছে। গত সপ্তাহে প্রতি ডজন ডিম যেখানে ১২৫ থেকে ১৩০ টাকা বিক্রি হয়েছে তা এখন আরও কমে ১২০ থেকে ১২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে এখনো কিছু কিছু দোকানিকে ১৩০ টাকা দাম চাইতেও দেখা গেছে।
এদিকে শুধু ডিমের দামই নয়, কম দামে স্থিতিশীল রয়েছে ব্রয়লার মুরগির বাজারও। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি মান ও বাজারভেদে ১৫৫ থেকে ১৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতারা বলছেন, কোরবানির ঈদের কারণে চাহিদা মুরগি ও ডিমের চহিদা কমে যাওয়ায় বাজারে পণ্য দুটির দাম কমেছে।
জানতে চাইলে সেগুনবাগিচা কাঁচাবাজারের ডিম বিক্রেতা আরিফুল বলেন, ‘কোরবানির ঈদের সময় থেকেই ডিমের দাম কমে গেছে। সরবরাহ ঠিক থাকলেও চাহিদা কম। এ কারণেই দাম কম।’
একই অবস্থা মুরগির বাজারেও। এই বাজারের ব্রয়লার ও সোনালি মুরগির বিক্রেতা শফিকুল জানান, ‘মুরগির মাংসের বিক্রি কম। এ জন্য দামও স্থিতিশীল।’
জানা গেছে, সোনালি মুরগির দামও স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে। মান ও বাজারভেদে প্রতি কেজি সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩২০ থেকে ৩৩০ টাকা কেজি দরে। তবে কমেনি গরুর মাংসের দাম। প্রতি কেজি গরুর মাংস এখনো ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
তবে চালের বাজার এখনো চড়া। গত সপ্তাহে খুচরা বাজারগুলোতে চালের দাম বেড়েছে। বোরো মৌসুম শুরু হওয়ার পর যেটুকু দাম কমেছিল সেটাই আবার বেড়ে গেছে। নতুন চালের সরবরাহ বাড়লে বাজারে দাম কমার কথা থাকলেও এবারে ঘটেছে উল্টো। পাইকারি বিক্রেতারা এর জন্য, ধানের বেশি দাম, জ¦ালানি খরচ বৃদ্ধিসহ নানা অজুহাত দাঁড় করাচ্ছেন। ট্রেডিং করপোরেশনের বৃহস্পতিবারের বাজার বিশ্লেষণের তথ্য বলছে, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় চিকন চাল ৩ দশমিক ২৯ শতাংশ, মাঝারি মানের চিকন চাল ১ দশমিক ৬৫ শতাংশ বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। তবে গত এক মাসে মোটা চালের দাম ১ দশমিক ৮৫ শতাংশ বেড়েছে।
এ ছাড়া বাজারে এখন কিছু সবজির দাম খানিকটা চড়া, আবার কিছু সবজির দাম বেশ কমে গেছে। কম দামের তালিকায় রয়েছে পেঁপে, ছোট পটোল, ঢেঁড়স, চালকুমড়া, লাউসহ বেশকিছু সবজি। এসব পণ্য খুচড়া বাজারগুলোতে বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৪০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে। তবে উচ্চমূল্যের সবজিগুলোর মধ্যে বেগুন প্রতি কেজি ৭৫ থেকে ৮০, ঝিঙা ৬৫ থেকে ৭০ টাকা, কাঁকরোল ৮০ থেকে ৮৫ টাকা, ধুন্দল ৬০ থেকে ৭০ টাকা, লতি মানভেদে ৭০ থেকে ৯০ টাকা, করল্লা ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে। এ ছাড়া শসা ৫০ থেকে ৬০ টাকা এবং গাজর প্রতি কেজি ১২০ থেকে ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে ঢাকার বাজারে পেঁয়াজের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। প্রতি কেজি পেঁয়াজ মানভেদে ৪০ থেকে ৪৫ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে। একইভাবে স্থিতিশীল রয়েছে রসুন ও আদার দাম।