ভৈরব-কিশোরগঞ্জ-ময়মনসিংহের ১৩২ কিলোমিটার রেলপথে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী চলাচল করছে। বছরের পর বছর ধরে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের দায়িত্বে অবহেলা আর গাফিলতির কারণে রেলপথ থেকে সরে গেছে পাথর। রেলপথজুড়ে গজিয়েছে সবুজ ঘাস। এমনকি কোথাও কোথাও সরে যাচ্ছে মাটি, প্রতিনিয়ত চুরি হচ্ছে ক্লিপ। ফলে নড়বড়ে অবস্থা ভৈরব-কিশোরগঞ্জ-ময়মনসিংহ রেলপথের।
এই রেলপথের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ভৈরবে রয়েছেন শতাধিক কর্মচারী। তাদের নিয়ন্ত্রণের জন্য রয়েছে সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলীর অফিস। বছরের পর বছর ধরে দায়িত্বে অবহেলা আর গাফিলতির কারণে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে এই রেলপথ। ফলে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। এসব দুর্ঘটনার কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকা পড়ে সীমাহীন ভোগান্তি আর দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে হাজার হাজার যাত্রী। এসব যেন দেখার নেই কেউ।
শুধু তা-ই নয়, এই রেলপথের কালিকাপ্রসাদ রেলওয়ে স্টেশনটি কাগজে-কলমে চালু থাকলেও ৫ বছর ধরে নেই মালামাল বুyকিং কিংবা টিকিট বিক্রির কোনো কার্যক্রম। অথচ প্রতিদিনই থামছে ট্রেন, ওঠানামা করছে যাত্রী।
স্থানীয় রেলওয়ে অফিস সূত্রে জানা গেছে, ভৈরব-কিশোরগঞ্জ-ময়মনসিংহ রেলপথে ২১টি স্টেশন রয়েছে। এর মধ্যে লোকবলের অভাবে বছরের পর বছর ধরে কালিকাপ্রসাদ, ছয়সূতি, হালিমপুর, বোকাইনগর, নীলগঞ্জ, যশোদলসহ বেশ কয়েকটি স্টেশনের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, এই পথের বন্ধ স্টেশনগুলোতে বছরের পর বছর ধরে কোনো কার্যক্রম না থাকার কারণে ব্যবসায়ীরা করতে পারছেন না মালামাল বুকিং আর যাত্রীদের মিলছে না টিকিট। এতে চরম দুর্ভোগে পড়ছেন ভুক্তভোগীরা। অথচ এসব বন্ধ স্টেশনে প্রতিদিনই থামছে একাধিক ট্রেন, ওঠানামা করছে শত শত যাত্রী। বিনা টিকিটে রেল ভ্রমণের ফলে সরকার প্রতি বছর লাখ লাখ টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে। এ ছাড়া একাধিক অরক্ষিত রেল ক্রসিং রয়েছে। আর সেতুগুলোতে বাঁশের বদলে দেখা মিলেছে কাঠের হালকা সেপটি।
কালিকাপ্রসাদের মঞ্জু মিয়া, সবুজ বেপারি ও সালমান রহমান মনে করেন, ব্রিটিশ আমলে নির্মিত এই রেলপথে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হাজার হাজার যাত্রী প্রতিদিন যাতায়াত করলেও কিংবা একের পর এক ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটলেও টনক নড়নি কর্তৃপক্ষের।
কুলিয়ারচরের যাত্রী নাজমুল মিয়া জানান, ভৈরব-কিশোরগঞ্জ-ময়মনসিংহ রেলপথে দেড় মাসে তিনবার ট্রেন লাইনচ্যুতির ঘটনা ঘটেছে। অথচ এ নিয়ে কারোরই কোনো মাথাব্যথা নেই। যত দ্রুত সম্ভব সরকার এই রেলপথ উন্নয়নের মাধ্যমে নিরাপদ ও আরামদায়ক ভ্রমণ নিশ্চিত করবে। একই সঙ্গে দোষীদের বিরুদ্ধে নেবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা। এমনটাই প্রত্যাশা এই অঞ্চলের হাজার হাজার যাত্রীর।
রেলপথের নানা অসংগতি নিয়ে কথা বলতে ভৈরব সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী জিষাণ দত্তের অফিসে গিয়ে তাকে না পেয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি পরের দিন আসতে বলেন। পরের দিন তিনি কথা দিয়েও অফিসে আসেননি। তার কক্ষে তালা ঝুলতে দেখা যায়।
ভৈরব স্টেশনমাস্টার কামরুজ্জামান গেল দেড় মাসে তিনবার ট্রেন লাইনচ্যুতির ঘটনা স্বীকার করে বলেন, আসলে কিছুটা হলেও দায়িত্বে অবহেলা রয়েছে। এ ছাড়া রেললাইন দেখে রাখা সবার দায়িত্ব বলে মনে করেন তিনি।