ফ্রান্সে চলছে দেশটির ইতিহাসের সবচেয়ে বড় কর্মবিরতি। সরকারি কর্মকর্তাদের দেরিতে অবসর কিংবা কম পেনশন নিতে বাধ্য করার প্রতিবাদে ডাকা এ ধর্মঘটে দেশটি কার্যত অচল হওয়ার পথে। আশঙ্কা করা হচ্ছে এই কর্মবিরতির ফলে ফ্রান্সজুড়ে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা দেখা দিতে পারে। পেশাজীবী ও শ্রমিকদের পাশাপাশি এই ধর্মঘটে পুলিশ, আইনজীবী, হাসপাতাল, বিমানবন্দরের কর্মীদের সঙ্গে শিক্ষক ও পরিবহন শ্রমিকরাও অংশ নিয়েছেন। পেনশন ব্যবস্থাপনার সংস্কার নিয়ে ম্যাক্রোঁ তার প্রস্তাব প্রত্যাহার করা না পর্যন্ত এ ধর্মঘট চলতে পারে।
প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর প্রস্তাবিত সর্বজনীন পয়েন্টভিত্তিক পেনশন ব্যবস্থাপনায় নাখোশ বিভিন্ন ইউনিয়নের ডাকা এই কর্মবিরতি মোকাবিলায় কর্র্তৃপক্ষ বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করলেও তা জনদুর্ভোগ হ্রাসে খুব একটা ভূমিকা রাখতে পারবে না বলেই মনে করা হচ্ছে।
এক জরিপে দেখা যায়, ৬৯ শতাংশ ফরাসি এই কর্মবিরতি সমর্থন করেন। সমর্থনকারীদের বেশির ভাগই ১৮-৩৪ বছর বয়সী।এর আগে ১৯৯৫ সালে একবার অবসরব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে কর্মবিরতিতে গিয়েছিলেন সরকারি কর্মকর্তারা। সে সময় তিন সপ্তাহ ধরে এই বিরতি চলে। সরকার তাদের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে বাধ্য হয়।
এদিকে বৃহস্পতিবার বাসচালক ও ট্রেনের কর্মীদের মতো পরিবহন খাতে সক্রিয় সব শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নই বিক্ষোভে অংশ নিয়েছে। আজ শুক্রবার আন্তঃনগর ও দ্রুতগতির টিজিভি ট্রেনের মধ্যে কেবল ১০ শতাংশ চালু থাকবে বলে জানিয়েছে ফ্রান্সের এসএনসিএফ। মেট্রো চলাচলেও সারা দিন ধরে বিশৃঙ্খলা বিরাজ করতে পারে বলে যাত্রীদের সতর্ক করেছে প্যারিসের মেট্রো ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠান আরএটিপি।
এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলাররাও এ ধর্মঘটে অংশ নিয়েছেন। এয়ার ফ্রান্সের অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের ৩০ শতাংশ বাতিল করা হয়েছে। ইজিজেটও তাদের ২০০-এর বেশি ফ্লাইট বাতিল করেছে।
নার্স, হাসপাতালের কর্মী, আইনজীবী, পুলিশ কর্মকর্তা, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, জ্বালানি খাতের কর্মী ও ডাক বিভাগে কর্মরতরাও এদিনের ধর্মঘটে যোগ দিয়েছেন।
দেশটির প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষকদের সর্ববৃহৎ ইউনিয়ন জানিয়েছে, ধর্মঘটের কারণে বৃহস্পতিবার অর্ধেক স্কুলই বন্ধ ছিল। শুক্রবার থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর অন্তত ৭০ শতাংশ শিক্ষক এ ধর্মঘটে অংশ নেবেন বলে অনুমান তাদের।
মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলো খোলা থাকলেও ৬০ শতাংশ শিক্ষক কাজে যোগ দেবেন না বলে ধারণা এ খাতের ইউনিয়নগুলোর।
ফ্রান্সের এখনকার পেনশন ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন ধরনের স্কিম আছে, ম্যাক্রোঁ সমগ্র ব্যবস্থাপনাকেই সর্বজনীন একটি পদ্ধতিতে আনতে চাইছেন। তবে তার পরিকল্পনায় পূর্ণাঙ্গ পেনশনপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে এখনকার চেয়ে অন্তত কয়েক বছর বেশি কাজ করতে হবে বলে জানিয়েছেন পেশাজীবীরা।
অর্গানাইজেশন ফর ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টভুক্ত (ওইসিডি) দেশগুলোর মধ্যে ফ্রান্সেই এখন পূর্ণাঙ্গ পেনশন পাওয়ার ক্ষেত্রে অবসরের বয়সসীমা সবচেয়ে কম, মাত্র ৬২ বছর। যুক্তরাজ্যে এ বয়সসীমা ৬৫।
দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টোফার কাস্টনার বলেছেন, আমরা জানি যে অনেক মানুষ আন্দোলনে অংশ নেবে। সে জন্য এটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আমি অনুরোধ করেছি সবাই যেন শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করেন। আমরা যদি দাঙ্গা বা সহিংসতা টের পাই, তবে তাৎক্ষণিক গ্রেপ্তার করব।