ভৈরবে দুর্যোগ সহনীয় ঘর পেয়ে খুশি হতদরিদ্ররা

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অগ্রাধিকার প্রকল্পের আওতায় গ্রামীণ হতদরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য দুর্যোগ সহনীয় বাসগৃহ নির্মাণ প্রকল্পের ঘর পেয়ে বেশ খুশি সুবিধাভোগীরা। ভাঙা ঘরে থেকে ঝড়-তুফানের তা-ব ভোগ করা, বর্ষায় বৃষ্টির পানিতে ভেজা আর শীতকালের ঠান্ডা বাতাস ও শিশির ভেজা কনকনে শীত সহ্য করে থাকা এই সব মানুষ কখনো ভাবেনি তারা পাকা-মজবুত ঘরে থাকবে। তাই প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে এই উপহার পেয়ে তারা খুশি। এই প্রাপ্তিতে প্রধানমন্ত্রীর জন্য তাদের অন্তহীন শুভকামনা ঝরে পড়ছে হৃদয় থেকে।

উপজেলার সাদেকপুর ইউনিয়নের সাদকপুর গ্রামের বৃদ্ধা জমরু বেগম (৭০) জানান, স্বামী সুরুজ মিয়া পরপারে পাড়ি জমিয়েছেন বহু বছর আগে। তাদের কোনো ছেলেসন্তান ছিল না। একটি মেয়ে ছিল। তারও বিয়ে হয়েছে অনেক বছর আগে। আয় নেই, রোজগার নেই। ভিটেটুকু ছাড়া নেই কোনো সম্পদও। স্বামীর ভিটেয় ছিল একটি ভাঙা নড়বড়ে বসতঘর। এই প্রকল্পের আওতায় তিনি একটি ঘর পেয়েছেন। এখন তার পাকা ঘরে বসত। একই ছাদের নিচে টয়লেট, গোসলখানা আর রান্নাঘর। এমন সুখ তিনি কখনো কল্পনাও করেননি। তার ভাষায়, ‘হাসিনার ঘর পাইয়া অহন সুহে আছি। আল্লাহ হাসিনারেও সুহি করুক। বাইচ্চা থাহুক বহুদিন।’

ঘর পেয়েছেন উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের বাঁশগাড়ি গ্রামের বৃদ্ধ আবদুল হাই। তিনি বলেন, ‘মরার আগে পাকা ঘরে ঘুমাম, কোনো দিন চিন্তাও করি নাই। হাসিনা মা হেই ব্যবস্থা কইরা দিছে। আল্লাহ তাইনেরে ভালো করুক।’

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জিল্লুর রহমান রাশেদ বলেন, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এই প্রকল্পের আওতায় ভৈরবে ২৯টি ঘর বরাদ্দ পাওয়া যায়। সেগুলোর মধ্যে ২২টি ঘরের নির্মাণকাজ শেষ হয়ে যাওয়ায় ইতিমধ্যে সুবিধাভোগীদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য নতুন করে আরও ৩৫টি ঘরের বরাদ্দ পাওয়া গেছে। সেগুলোর যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া চলছে। ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লুবনা ফারজানা বলেন, এই প্রকল্পের লক্ষ্য হলো ২০৪১ সালের মধ্যে কেউ গৃহহীন থাকবে না।