ঢাকায় গত মে মাস থেকে চড়েছে মাছের বাজার। চাষের মাছও বিক্রি হচ্ছে উচ্চমূল্যে। অধিকাংশ মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকার ওপরে। তবে প্রায় অর্ধেক দামে কেনা হচ্ছে এসব মাছ। দেশের মাছের বড় জোগান দেয় সাতক্ষীরা-বাগেরহাটের ঘেরগুলো। সেখানে যে রুই ৯০ টাকা কেজি, রাজধানীতে এলে তা ২৩০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। এদিকে শীতের আগমনেও সবজির দাম কমছে না। আর আমনের মৌসুম শুরু হলেও কমেনি চালের দাম।
সাতক্ষীরার ঘের মালিক লিটন হাওলাদার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘খবরে দেখি ঢাকায় মাছের দাম বাড়তি। কিন্তু আমাদের এখানে কখনো দাম বাড়ে না। কয়েকবার মাছ বিক্রি করতে ঢাকায় গিয়েছিলাম। কিন্তু কারওয়ান বাজারে ঢুকতেই পারিনি। শুনেছি ঢাকায় বড় সিন্ডিকেট কাজ করে। তাদের হাতেই সব চাবি।’
রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে গতকাল বৃহস্পতিবার ছোট আকারের প্রতি কেজি রুই, কাতলা, মৃগেল ১৯০-২৩০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে, যা সাতক্ষীরা ও বাগেরহাটের পাইকারদের থেকে ১০৫-১১০ টাকায় সংগ্রহ করা হয়। এসব মাছ ঘের থেকে বিক্রি হয় ৯০-১০০ টাকা কেজি দরে। গতকাল ঢাকার বাজারে বড় আকারের রুই, কাতলা, মৃগেল ৩০০-৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে, যা সাতক্ষীরা ও বাগেরহাটের পাইকারদের থেকে ১৩০-১৪০ টাকা দরে সংগ্রহ করা হয়। এসব মাছ ঘেরে বিক্রি হয় ১২৫-১৩৫ টাকা দরে। ময়মনসিংহ অঞ্চল থেকে ৬০-৮০ টাকা দরে কেনা তেলাপিয়া রাজধানীর বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১৪০-১৭০ টাকা পর্যন্ত। নরসিংদীর কই ৯০-১২০ টাকায় কেনা যা ঢাকায় বিক্রি হচ্ছে ১৮০-২২০ টাকা দরে। খুলনা অঞ্চল থেকে ৩৫০-৪০০ টাকা দরে কেনা বাগদা ঢাকায় ৫০০-৬০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
৭০-৮০ টাকা দরে কেনা পাঙাশ বিক্রি হয়েছে ১৩০-১৪০ টাকায়।
রাজধানীর খুচরা বিক্রেতাদের দাবি, পাইকারিতে দাম কমলে তারাও দাম কমান, বাড়লে বাড়ান। কেজিতে লাভ থাকে সর্বোচ্চ ১০-১৫ টাকা। তবে কারওয়ান বাজারের পাইকারদের অভিযোগ, ঘের থেকে ঢাকায় দামে পার্থক্যের মূল কারণ চাঁদাবাজি। স্থানীয় বাজার থেকে খুচরা বিক্রেতাদের কাছে বিক্রি পর্যন্ত প্রতিটি স্তরে তাদের চাঁদা দিতে হয়। এর মধ্যে রয়েছে হাইওয়ে পুলিশের চাঁদা, ফেরিঘাটের সিরিয়াল নিতে চাঁদা, কারওয়ান বাজারের প্রভাবশালীদের চাঁদা। পরিবহন খরচও আগের চেয়ে অনেক বেশি। তাই বেশি দামে বিক্রি করতে হয়।
ঢাকায় সপ্তাহের ব্যবধানে কয়েকটি পণ্যের দাম অল্প কমেছে। গতকাল বিভিন্ন বাজারে শিম ৬০-৮০, করলা ৭০-৯০, শালগম ৪৫-৫০, পটোল-বরবটি ৫০-৬০, আলু (নতুন) ৫০-৬০, টমেটো (কাঁচা) ৫০-৭০, টমেটো (পাকা) ১০০, গাজর, শসা ৫০-৬০, মুলা, পেঁপে ৩০-৩৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। এ ছাড়া ফুলকপি, বাঁধাকপি ৪০-৫০, মিষ্টিকুমড়া-লাউ ৫০-৬০ টাকায় প্রতিটি বিক্রি হয়েছে। আঁটিপ্রতি পুঁইশাক, লাউশাক, ডাঁটাশাক ২৫-৩০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।
বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ বাড়লেও দাম বেড়েছে। গতকাল রাজধানীর শ্যামবাজারে পাইকারিতে দেশি ও আমদানি পেঁয়াজের দাম কেজিতে ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বেশির ভাগ আড়তেই দেশি পেঁয়াজের সরবরাহ ছিল না। ওই বাজারে দেশি পুরনো পেঁয়াজ ২৩০, দেশি নতুন পেঁয়াজ ১৬৫, মিয়ানমার ২০০, মিসর ১২০ ও চীনের পেঁয়াজ ৮০-৮৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। রাজধানীর কারওয়ান বাজারে দেশি নতুন পেঁয়াজের দাম অল্প কমেছে। খুচরায় দেশি পুরনো পেঁয়াজ ২৪০, দেশি নতুন পেঁয়াজ ১৬০, মিয়ানমার ২০০, মিসর ১৩০, তুরস্ক ১২০ ও চীনের পেঁয়াজ ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। রাজধানীর অন্যান্য খুচরা বাজারে দেশি পেঁয়াজ কেজি ২৬০ ও দেশি নতুন পেঁয়াজ ১৮০ টাকা কেজি দরেও বিক্রি হয়েছে।
শ্যামবাজার বণিক সমিতির সহসভাপতি আবদুল মাজেদ বলেন, ‘বাজারে নতুন পেঁয়াজ ঢুকছে। আমদানি করা পেঁয়াজের বড় চালান সমুদ্রপথে আগামী সপ্তাহে এলে বাজারে পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আশা করছি, আগামী সপ্তাহ থেকে দাম কমতে শুরু করবে।’
এদিকে আমন মৌসুম শুরু হলেও চালের বাজার এখনো চড়া। গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা বাজারে মিনিকেট ৫৪, নাজিরশাইল ৬৮ ও বিরি-২৮ চাল ৪৮ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। চালকল মালিকদের ভাষ্য, আমন ধানের চাল মোটা। এতে মানুষের আগ্রহ কম। বর্তমানে তাদের কাছে চাহিদার চেয়েও বেশি পরিমাণে মোটা চাল মজুদ রয়েছে। মানুষের চিকন চালের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় মজুদ শেষ হয়ে গেছে। এ জন্য দাম বেড়েছে।
রাজধানীর প্রায় সব বাজারেই গতকাল অপরিবর্তিত ছিল তেল, লবণ ও মাংসের দাম। বাজারে সয়াবিন তেলের লিটার ৯৫-১১০; লবণের কেজি সর্বোচ্চ ৩৫; মুরগি ব্রয়লার ১২০-১৩০, লেয়ার ১৮০-২০০, সাদা লেয়ার ১৭০-১৮০; গরু ৫৫০, খাসি ৭৮০ ও ছাগলের মাংস ৭২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।