রাজধানীর গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলা মামলার রায়ে মৃত্যুদণ্ড-প্রাপ্ত সাতজনের ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের নথি) বিচারিক আদালত থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে পাঠানো হয়েছে। হাইকোর্ট বিভাগের বিশেষ কর্মকর্তা মো. সাইফুর রহমান দেশ রূপান্তরকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
ফৌজদারি বিধান অনুযায়ী বিচারিক আদালতে মৃত্যুদ-প্রাপ্তদেড দণ্ড কার্যকর করতে হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদনের প্রয়োজন হয়। সেই অনুমোদনের জন্য মামলার যাবতীয় নথি হাইকোর্টে পাঠাতে হয়। এটিই ডেথ রেফারেন্স হিসেবে পরিচিত। এটি পাওয়ার পর উচ্চ আদালত শুনানির জন্য পেপারবুক প্রস্তুত করে। পাশাপাশি দণ্ডপ্রাপ্তরাও আপিলের সুযোগ পান। গত ২৭ নভেম্বর ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা
ও দায়রা জজ) মো. মজিবুর রহমান আলোচিত এ মামলার রায় দেন। রায়ে মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত জঙ্গিরা হলেন, রাকিবুল হাসান রিগ্যান, জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব ওরফে রাজীব গান্ধী, আবদুস সবুর খান হাসান ওরফে সোহেল মাহফুজ, মামুনুর রশিদ ওরফে রিপন, শফিকুল ইসলাম ওরফে খালেদ, আসলাম হোসেন ওরফে রাশেদ ওরফে আবু জাররা ওরফে র্যাশ ও হাসিবুর রহমান সাগর। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। সন্ত্রাসবিরোধী আইন-২০০৯-এর ৬(২) ধারায় তাদের সর্বোচ্চ সাজা দেওয়া হয়। আর অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজান নামে এক আসামিকে খালাস দেয় আদালত।
এ ছাড়া একই আইনের ৭ ধারায় মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত ছয়জনকে (মামুনুর রশিদ রিপন ছাড়া) দোষী সাব্যস্ত করে ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড, প্রত্যেককে ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে এক বছর সশ্রম কারাদণ্ডের রায় দেয় আদালত। এ ছাড়া মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত প্রত্যেককে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ৮/৯ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে ৫ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড, ১০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে ১ বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই আইনের ৮ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে তাদের ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে রায়ে।
আদালত রায়ের পর্যবেক্ষণে বলেছে, নৃশংস ও দানবীয় এ হামলার মূল পরিকল্পনাকারী তামিম চৌধুরী (জঙ্গিবিরোধী অভিযানে নিহত)। বাংলাদেশে তথাকথিত জিহাদ কায়েমের উদ্দেশ্যে, আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আইএসের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে এবং অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের চরিত্র হননের চেষ্টা হিসেবে এ নারকীয় হত্যাদণ্ড ঘটানো হয়।