অদম্য পিউ দাশ

১৭ বছর বয়সেও পিউ দাশের উচ্চতা আড়াই ফুট, ওজন প্রায় ২০ কেজি। তবে পড়ালেখায় তার ভীষণ আগ্রহ। তাই পরিবার কষ্ট করে তার পড়াশোনা চালিয়ে রেখেছে। ২০০৮ সাল থেকেই মেয়েটিকে কোলে করে দেড় কিলোমিটার দূরে স্কুলে নিয়ে গেছেন তার মা। এভাবে ২০১৮ সালে সে এসএসসিতে জিপিএ ৩.০০ পেয়ে পাস করে। বর্তমানে সাতকানিয়া এমএ মোতালেব কলেজে মানবিক বিভাগে লেখাপড়া করছে সে।

পিউর মা কৃষ্ণা দাশ বলেন, সম্পªতি কলেজে নির্বাচনী পরীক্ষা দিতে যাওয়ার সময় সড়ক দুর্ঘটনায় মা-মেয়ে দুজনই গুরুতর আহত হন। এতে মেয়ের লেখাপড়া নিয়ে শঙ্কায় রয়েছে পরিবার। পিউদের বাড়ি চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার উত্তর কলাউজান এলাকায়।

পিউর বাবা রণজিত দাশ বলেন, ‘আমি বাজারে একটি ছোট দোকান করি। জন্ম থেকেই মেয়ে প্রতিবন্ধী। তার চিকিৎসায় ধারদেনা করে ৪-৫ লাখ খরচ করেছি। একটু হাঁটলেই কোমরে ব্যথা হয়; ঝাঁকুনি খেলে পায়ের হাড় ভেঙে যায়। সে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় থেকে মাসে ৫০০ টাকা প্রতিবন্ধী ভাতা পায়।’

পিউ দাশ বলে, ‘স্কুলে যখন বন্ধুরা মাঠে খেলে, তখন আমার খুব খারাপ লাগে। ক্লাসের বন্ধুরা আমাকে খুব সাহায্য করে। কম্পিউটার শেখার খুব ইচ্ছে আছে। লেখাপড়া শিখে ভবিষ্যতে একজন শিক্ষক হতে চাই। বাড়িতে আত্মীয়স্বজনের সহযোগিতা নিয়ে কষ্ট করে লেখাপড়া করি।’

সাতকানিয়া এমএ মোতালেব কলেজের অধ্যক্ষ দিদারুল আলম চৌধুরী বলেন, ‘স্কুলের শিক্ষকরা পিউকে সবসময় সহানুভূতির দৃষ্টিতে দেখে। আমরাও অবাক হয়ে যাই, মা-মেয়ের লেখাপড়ার প্রতি এত আগ্রহ দেখে। কলেজ থেকেও শিক্ষা উপকরণ ও অন্যান্য আর্থিক সহযোগিতা দেওয়া হয়।’

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. হানিফ জানান, এটি হয়তো হাড়ের জন্মগত ক্ষয়রোগ। শরীরের হাড় শক্ত হওয়ার জন্য যে উপাদানগুলো প্রয়োজন সেগুলো তার শরীরে না থাকার কারণে হাড় নরম। তার সুস্থতার জন্য উন্নত চিকিৎসার পাশাপাশি সুষম খাদ্য প্রয়োজন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তৌছিফ আহমেদ জানান, পিউ দাশের চিকিৎসার পাশাপাশি লেখাপড়া যাতে ব্যাহত না হয়ে সে উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে প্রতিবন্ধী হলেও ভবিষ্যতে সে কিছু করতে পারে।