ঢাকার কনে কলকাতার বর

নানা জল্পনা কল্পনা শেষে বিয়ে করলেন মডেল-অভিনেত্রী রাফিয়া রশিদ মিথিলা ও কলকাতার পরিচালক সৃজিত মুখার্জি। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় দুই বাংলার এই জুটির বিয়ের রেজিস্ট্রি সম্পন্ন হয়।

সৃজিতের বাড়িতে ঘরোয়া পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয় তাদের বিয়ে। কাছের মানুষদের নিয়ে শুধু রেজিস্ট্রি হয়। মেয়ে আইরাকে নিয়ে আগে থেকেই কলকাতায় সৃজিতের বাড়িতে অবস্থান করছিলেন মিথিলা। অন্যদিকে বিয়ের আগেই ঢাকা থেকে কলকাতায় পাড়ি জমান মিথিলার মা-বাবাসহ আত্মীয়রা। মিথিলা জানান, হবু জামাইয়ের জন্য ঢাকা থেকে তারা ইলিশ মাছসহ নানা কিছু নিয়ে যান।

বিয়েতে মিথিলা আড়ংয়ের লাল জামদানি শাড়িতে সেজেছিলেন। কপালে ছিল ছোট টিপ। কানে-গলায় মানানসই গহনা। সৃজিত পরেছিলেন লাল জহর কোট এবং কালো পাঞ্জাবি।

মিথিলা জানিয়েছেন, হানিমুনের উদ্দেশ্যে না গেলেও নিজের পড়াশোনার কাজে জেনেভা যাবেন। সঙ্গে সৃজিতও থাকবেন। আজ শনিবার সকালে তারা জেনেভায় যাবেন বলে জানা যায়। সেখানে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে মিথিলা পিএইচডি রেজিস্ট্রেশন করবেন। পাশাপাশি সৃজিতকে নিয়ে ঘুরে বেড়াবেন। সপ্তাহ খানেক পর ফিরে আসবেন তারা।

২০০৬ সালের ৩ আগস্ট মিথিলা ভালোবেসে বিয়ে করেন গায়ক ও অভিনেতা তাহসানকে। আইরা তেহরীম খান তাহসান-মিথিলা দম্পতির একমাত্র সন্তান। সোশ্যাল মিডিয়ায় আদর্শ কাপল হিসেবে পরিচিত তাহসান-মিথিলা জুটির বিচ্ছেদ ঘটে ২০১৭ সালে।

এরপর এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুর অনুষ্ঠানে সৃজিত মুখার্জির সঙ্গে মিথিলার পরিচয় হয়। সেখান থেকেই শুরু হয় ফেইসবুকে কথাবার্তা। এরপর বন্ধুত্ব। তারপর প্রেম। কলকাতার রাস্তায় একসঙ্গে ঘোরাঘুরি। তাদের এই প্রেম আর গোপন থাকেনি। গণমাধ্যমের খবরের শিরোনামে আসেন তারা। বারবার নিজেদের প্রেমের কথা অস্বীকার করে আসছিলেন। কিন্তু কলকাতা ও ঢাকায় তাদের ঘন ঘন যাতায়াত, একসঙ্গে অনুষ্ঠানে যাওয়া– সবকিছুই ভক্তদের সন্দেহকে তীব্র করে তুলেছিল। ঢাকার বেশ কিছু জায়গায়ও সৃজিত-মিথিলাকে একসঙ্গে দেখা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছিল তাদের একসঙ্গে কাটানো বিভিন্ন মুহূর্তের ছবি। কিন্তু তবুও মুখে কুলুপ এঁটে ছিলেন দুজনে। শুধু তাই নয়, সে সময় আরও কয়েকজনের সঙ্গে মিথিলার প্রেমের গুঞ্জন শোনা যায়। এদিকে সৃজিতের সঙ্গে বিয়ের ঘোষণার পর তাদের প্রেমের বিষয়টিকে গুঞ্জন হিসেবে জাহির করার কারণ জানতে চাইলে মিথিলা জানান, ‘ব্যক্তিগত বিষয়কে ব্যক্তিগত হিসেবেই রাখতে চেয়েছিলেন তারা।’