ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের পিয়ন ইয়াছিন মিয়াকে আটক করেছে পুলিশ। নিখোঁজের ১০ দিন পর গতকাল শুক্রবার ভোরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানা ভবনের সামনে থেকে তাকে আটক করা হয়। ইয়াছিন বাঞ্ছারামপুর উপজেলার আতুয়াকান্দি এলাকার মোহন মিয়ার ছেলে। গত ২ ডিসেম্বর দৈনিক দেশ রূপান্তরে তাকে নিয়ে ‘সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের পিয়নের ৩ বাড়ি’ শিরোনামে প্রতিবেদন ছাপা হয়। গত ২৬ নভেম্বর সদর সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে অডিট হওয়ার পর কোটি টাকার ঘাপলার বিষয় নজরে আসে সবার। এরপর ২৭ নভেম্বর গা-ঢাকা দেন ইয়াছিন। এ ঘটনায় ২৯ নভেম্বর সদর মডেল থানায় একটি জিডি করা হয়।
জানা গেছে, ২০০৬ সালে ইয়াছিন সদর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে পিয়ন পদে চাকরি পান। এরপর নানা সময়ে তাকে আশুগঞ্জ ও নাসিরনগর উপজেলায় বদলি করা হলেও ঘুরেফিরে তিনি সদর উপজেলায়ই চাকরি করেন। প্রায় সময়ই অফিসের নকল, তল্লাশি ও রেজিস্ট্রেশন ফিসহ চালানের টাকা সোনালী ব্যাংকে জমা দিতে পাঠানো হতো তাকে। কিছুদিন আগে অফিসিয়াল অডিটে তার বিরুদ্ধে ‘কোটি টাকার ঘাপলা’ প্রকাশ পায়। এরপর তিনি গা-ঢাকা দেন। অভিযোগ উঠেছে, ব্যাংকের ভুয়া চালান তৈরি করে তিনি ওই টাকা আত্মসাৎ করেছেন। জানা গেছে, ইয়াছিনের তিনটি ফ্ল্যাট-বাড়িসহ নামে-বেনামে রয়েছে আরও অনেক সম্পত্তি। বিয়েও করেছেন তিনটি। সংসার করেন সব স্ত্রীর সঙ্গেই। পিয়ন হয়ে কীভাবে এত সম্পদের মালিক হলেন, তা নিয়ে এখন প্রশ্ন সবার।
সদর মডেল থানার ওসি মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন জানান, শুক্রবার ভোররাত সাড়ে ৩টার দিকে থানা এলাকা থেকে ইয়াছিনকে আটক করা হয়। ইয়াছিনের ব্যাপারে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তদন্ত করছে বলেও জানা তিনি।