একই পরিবারের ৩ জনকে হত্যার ঘটনায় কবিরাজ আটক

বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলায় এক প্রবাসীর বাড়িতে শাশুড়ি, মেয়ে জামাইসহ তিনজন হত্যার ঘটনায় জাকির হোসেন (৪০) নামে এক রাজমিস্ত্রি ও ও গ্রাম্য কবিরাজকে আটক করেছে পুলিশ।

শনিবার সকালে উপজেলার সলিয়া-বাকপুর এলাকায় ওই প্রবাসীর বাড়ি থেকে নিহত তিনজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহতরা হলেন- কুয়েতপ্রবাসী হাফেজ আব্দুর রবের মা মরিয়ম বেগম (৭৫), ভগ্নিপতি শফিকুল আলম (৬০) ও খালাতো ভাই ইউসুফ (৩২) ।

পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বিকেল তিনটার দিকে ঘটনাস্থল থেকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একজনকে আটক করা হয়। নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।

আটক জাকির হোসেন ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলার পূর্ব রায়পাশা এলাকার বাসিন্দা ও পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি ও গ্রাম্য কবিরাজ।

পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম জানান, জাকির হোসেন কবিরাজি কাজে ওই বাড়িতে প্রায়ই আসতেন। যার ধারাবাহিকতায় শুক্রবার রাতেও তিনি আসেন। পরে আবার চলে যান। তাই জাকিরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বেশ কিছু আলামত উদ্ধার করেছে। যা তদন্তের স্বার্থে বলা যাচ্ছে না। তবে দ্রুতই এ মামলার অগ্রগতি জানানো হবে। এটা একটা পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, কুয়েতপ্রবাসী হাফেজ আব্দুর রবের বাড়ির ভবন নির্মাণের সময় রাজমিস্ত্রি জাকির হোসেন কাজ করেছেন। পাশাপাশি প্রবাসীর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও তার সখ্যতা ছিল।

বাড়ির মালিক কুয়েত প্রবাসী আ. রবের স্ত্রী মিশরাত জানান, শুক্রবার রাত সাড়ে ৯ টার দিকে তারা রাতের খাবার খেয়ে শুয়ে পড়েন। ওই সময় ঘরে তিনিসহ তার দুই শিশু নুরজাহান, ইশফাত, দেবর হারুন অর রশিদের মেয়ে আছিয়া ওরফে আফিয়া, শাশুড়ি মরিয়ম বেগম, ননদ মমতাজের স্বামী শফিকুল আলম ও শাশুড়ির বোনের ছেলে (দেবর) ইউসুফ ছিলেন। এরপর ভোরে ফজরের আজানের পর আফিয়ার চিৎকারে সবাই ঘুম থেকে ওঠেন। এরপরই বিভিন্ন স্থানে তিনজনের মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। পরে থানায় সংবাদ দেওয়া হয়।

নিহত মরিয়ম বেগমের নাতনি আছিয়া ওরফে আফিয়া বলেন, ‘ভোরে ফজরের নামাজ পড়ার জন্য ঘুম থেকে উঠে দাদিকে ডাকতে যাই। তখন দেখি দাদির রুমের বারান্দার দরজা খোলা এবং তার নিথর দেহ বারান্দায় পরে রয়েছে। এরপর চিৎকার দিলে বাড়ির সবাই আসেন কিন্তু ফুপা শফিকুল আলম ও চাচা ইউসুফকে দেখতে না পেয়ে তাদের খুঁজতে থাকি। তখন ঘরের অন্য একটি কক্ষে যেখানে ফুপা ঘুমাচ্ছিলেন, সেখানে গিয়ে তার মাথার অংশ খাটের বাইরে দেখে সন্দেহ হয়। ডাকাডাকি করলে তিনিও কোনো সাড়াশব্দ করেননি। পরে চাচা ইউসুফকে খুঁজতে ছাদের দিক গেলে সেখানেও দরজা খোলা পাই, তবে কারও দেখা মেলেনি। এরপর বাড়ির বাইরে খুঁজতে শুরু করলে চাচা ইউসুফকে পুকুরের ঘাটলায় উপুড় হয়ে পড়ে থাকতে দেখি।’

আ. রবের ছোট ভাই হারুন অর রশিদ বলেন, তার মেজো বোন মমতাজের স্বামী শফিকুল ইসলাম দুই দিন আগে নিজ বাড়ি স্বরূপকাঠি থেকে এ বাড়িতে বেড়াতে আসেন।