দরপতনের মধ্য দিয়ে আরও একটি সপ্তাহ পার করল দেশের পুঁজিবাজার। সপ্তাহের পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে চার কার্যদিবসেই কমেছে মূল্যসূচক। এতে পতন হয়েছে সব মূল্যসূচকের। সেই সঙ্গে কমেছে লেনদেনের পরিমাণ। এই পতনের বাজারে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা বাজার মূলধন হারিয়েছে প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)।
সাপ্তাহিক বাজার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গত সপ্তাহে মার্কেট মেকাররা সরকারের কাছ থেকে স্বল্প সুদে ১০ হাজার কোটি টাকার অনুমোদন চেয়েছেন। এছাড়া আইসিবি পুনঃঅর্থায়ন তহবিলের টাকাও বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ছাড় করার আবেদন করেছে। এই দুটি ভালো খবরেও মূলত ডিসেম্বর ক্লোজিংয়ের কারণে শেয়ারবাজারে কিছুটা উত্থান-পতন ছিল।
টাকার অঙ্কে বাজার মূলধন হারানোর পাশাপাশি সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া বেশিসংখ্যক কোম্পানির শেয়ারের দাম কমেছে। সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৪০টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১৯৪টির। আর ২১টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমায় সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস শেষে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৫২ হাজার ৩৭৪ কোটি টাকা, যা আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ছিল ৩ লাখ ৫৬ হাজার ৭০৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক সপ্তাহে ডিএসইর বাজার মূলধন কমেছে ৪ হাজার ৩২৯ কোটি টাকা।
এদিকে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স কমেছে ৬০ দশমিক ১০ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ২৭ শতাংশ। আগের সপ্তাহে এ সূচকটি বাড়ে ২৪ দশমিক ৭৭ পয়েন্ট বা দশমিক ৫৩ শতাংশ।
প্রধান মূল্যসূচকের পাশাপাশি কমেছে অপর দুটি সূচক। এর মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ সূচক কমেছে ২৬ দশমিক ৩২ পয়েন্ট বা ২ দশমিক ৪৩ শতাংশ। আগের সপ্তাহে এ সূচকটি বাড়ে দশমিক ৩৯ পয়েন্ট বা দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ। আর ডিএসই-৩০ আগের সপ্তাহের তুলনায় কমেছে ৪১ দশমিক ৮৯ পয়েন্ট বা ২ দশমিক ৫৪ শতাংশ। আগের সপ্তাহে এ সূচকটি কমে ২ দশমিক ৯২ পয়েন্ট বা দশমিক ১৮ শতাংশ।
এদিকে ডিএসইতে লেনদেনের গতিও কিছুটা কমেছে। তবে দৈনিক গড় লেনদেনের পরিমাণ ৪৫০ কোটি টাকার ওপর রয়েছে। গত সপ্তাহের প্রতি কার্যদিবসে ডিএসইতে গড়ে লেনদেন হয়েছে ৪৬২ কোটি ১৯ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয় ৪৭৫ কোটি ২১ লাখ টাকা। অর্থাৎ প্রতি কার্যদিবসে গড় লেনদেন কমেছে ১৩ কোটি ২ লাখ টাকা বা ২ দশমিক ৭৪ শতাংশ।