তেঁতুলিয়ায় তাপমাত্রা ৯ ডিগ্রি

পঞ্চগড়ে কনকনে শীত

দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জেলা পঞ্চগড়ের তাপমাত্রা দিন দিন কমছে। জেঁকে বসছে শীত। গত কয়েক দিন জেলাটিতে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বিরাজ করছে। গতকাল শনিবার জেলার তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস; যা এ মৌসুমের এখন পর্যন্ত সর্বনিম্ন এবং মৃদু শৈত্যপ্রবাহ মাত্রার তাপমাত্রা। হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত দেশের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে একটু আগেভাগেই শীত নামে। এবারও তাই।

দিনে তাপমাত্রা স্বাভাবিক থাকলেও সূর্যাস্তের পর হিমেল বাতাস বইতে শুরু করে। অনুভূত হয় প্রচণ্ড শীত। সে সময় অনেককে বাজারে ও বিভিন্ন স্থানে আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করতে দেখা যায়। শীতের কারণে লেপ-তোশক বানাতে ব্যস্ত হয়ে উঠেছেন পঞ্চগড়বাসী। পাশাপাশি ভিড় বাড়ছে শীতবস্ত্রের দোকানে।

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রহিদুল ইসলাম গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, বৃহস্পতি ও শুক্রবার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় তেঁতুলিয়ায় ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কিন্তু আজ (শনিবার) তা ৯ ডিগ্রিতে নেমে এসেছে। এটিই এ বছরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। ডিসেম্বরে গড় তাপমাত্রা এমনই থাকতে পারে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, গত বছরের ৮ জানুয়ারি তেঁতুলিয়ায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২ দশমিক ৬ ডিগ্রি রেকর্ড করে; যা ছিল দেশের ৫০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা।

পৌর এলাকার রামেরডাঙ্গার ষাটোর্ধ্ব তমিলা বেওয়া বলেন, ‘বিকেল পর্যন্ত শরীরে তাপ লাগলেও সন্ধ্যা হতেই ঠাণ্ডা লাগা শুরু করে। মনে হচ্ছে শীত নেমে গেছে। ৫ বছর বয়সী এক নাতি ঠাণ্ডার কারণে তিন দিন ধরে সর্দি-জ্বরে ভুগছে। ডাক্তার ওকে সব সময় গরম কাপড় পরাতে বলেছে।’ সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘গ্রামে-গঞ্জে শীতের প্রকোপ দিন দিন বাড়ছে। আমাদের কাছে দুস্থ ও দরিদ্র লোকজন শীতবস্ত্রের জন্য আবেদন জানাচ্ছে। আমরা বেশ কিছু কম্বল বরাদ্দ পেয়েছি। শিগগিরই তা বিতরণ করা হবে।’

শীত মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনও আগাম প্রস্তুতি নিয়েছে। এরই মধ্যে দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে ২১ হাজার কম্বলের বরাদ্দ পাওয়া গেছে। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আবদুল মান্নান জানান, দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দ পাওয়া কম্বল উপজেলাভিত্তিক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। শিগগিরই বিতরণ কার্যক্রম শুরু হবে। প্রয়োজনে আরও কম্বল বরাদ্দের চাহিদা পাঠানো হবে।