ষষ্ঠ ব্যালন ডি’অর প্রাপ্তি হ্যাটট্রিক দিয়ে উদযাপন করেছেন লিওনেল মেসি। বর্ষসেরার এ স্বীকৃতি পাওয়ার পর রবিবার প্রথম মাঠে নেমেছিলেন তিনি। নিজেদের মাঠের সে ম্যাচে তার হ্যাটট্রিকে মায়োর্কাকে ৫-২ গোলে হারিয়েছে বার্সেলোনা। লা লিগায় এটি মেসির ৩৫তম হ্যাটট্রিক। ব্যালন ডি’অর অর্জনে যেমন, হ্যাটট্রিকেও প্রতিদ্বন্দ্বী ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে ছাড়িয়ে গেলেন এলএমটেন। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ২৮৮ ম্যাচে ৩৪ হ্যাটট্রিক করেছিলেন সিআরসেভেন। ৩৫ হ্যাটট্রিকে মেসি ম্যাচ খেলেছেন ৪৬২টি। এই জয়ে ১৫ ম্যাচ শেষে রিয়াল মাদ্রিদের সমান ৩৪ পয়েন্ট বার্সার। গোল গড়ে এগিয়ে শীর্ষে কাতালানরা।
আবার এমএসজি
শনিবার ব্যালন ডি’অর নিয়েই ন্যু ক্যাম্পে এসেছিলেন মেসি। উদ্দেশ্য বার্সা সমর্থকদের দেখানো। হ্যাটট্রিক দিয়ে পূরণ করলেন উদযাপন। এদিন বার্সার হয়ে গোল করেন এমএসজি ত্রয়ী। শুরুটা গ্রিজমানের। ৭ মিনিটে বার্সা গোলকিপার আন্দ্রে তার স্তেগানের লম্বা কিক পেয়ে যান গ্রিজমান। বল নিয়ে ছুটে মায়োর্কা গোলকিপারের মাথার ওপর দিয়ে বল জালে পাঠান। ১৭ মিনিটে গ্রিজমানের পাস থেকেই ২৫ গজ দূর থেকে দারুণ এক শটে গোল করেন মেসি। ৩৫ মিনিটে এক গোল হজম করে বার্সা। ৪১ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোলে ব্যবধান বাড়ান মেসি। এর দুই মিনিট পর ম্যাচের সেরা গোলটি করেন লুইস সুয়ারেজ। ডি ইয়ংয়ের পাস থেকে অবিশ্বাস্য এক ব্যাকহিলে মায়োর্কা গোলকিপার রেইনাকে পরাস্ত করেন সুয়ারেজ। প্রথমার্ধ শেষে ব্যবধান ৪-১। বিরতির পর ৬৪ মিনিটে আরও এক গোল শোধ করে মায়োর্কা। ৮৩ মিনিটে আবারও সুয়ারেজের পাস থেকে গোল করেন মেসি, পূরণ করেন হ্যাটট্রিক। বার্সা কোচ আর্নেস্তো ভালভার্দে বলেন, ‘অবিশ্বাস্য! ও যেন ব্যালন ডি’ওরকেই উদযাপন করল।’ চলতি মৌসুমে ১২ গোল হয়ে গেল মেসির। তিনিই এখন লিগের সর্বাধিক গোলদাতা। যদিও লিগে প্রথম ছয় ম্যাচে খেলেননি মেসি।
রোনালদোর গোল সত্ত্বেও হার জুভেন্তাসের
গোল করেছেন রোনালদোও। তবুও হেরেছে (১-৩) জুভেন্তাস, যা এবারের সিরি আ-তে তাদের প্রথম। লাৎসিও’র মাঠে খেলার ২৫ মিনিটে দলকে এগিয়ে দেন রোনালদো। কিন্তু এরপর আর পেরে ওঠেনি জুভরা। প্রথমার্ধের ইনজুরি সময়, ৭৪ মিনিটে এবং ম্যাচের শেষ ভাগে ইনজুরি সময়ে গোল করে জয় তুলে নেন লাৎসিও। ৬৯ মিনিটে ১০ জনের দলে পরিণত হয় জুভেন্তাস। হুয়ান কদার্দো লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। এই হারে পয়েন্ট টেবিলের দুইয়েই রয়ে গেছে জুভেন্তাস। তাদের পয়েন্ট ৩৬। অন্যদিকে উদিনেসের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করা নাপোলি ৩৮ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে।
পিএসজির জয়ে নেইমারের গোল
আত্মঘাতী গোলে পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত জয় তুলে নিয়েছে প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি)। শনিবার মঁপেলিয়েরের মাঠে ৪১ মিনিটে আত্মঘাতী গোলে পিছিয়ে পড়ে তারা। ৭৩ মিনিট পর্যন্ত পিছিয়েই ছিল। কিন্তু ৭২ মিনিটে ১০ জনের দলে পরিণত মঁপেলিয়েকে পেয়ে বসে নেইমারা। ৭৪ মিনিটে ফ্রি-কিক থেকে দারুণ এক গোলে পিএসজিকে ম্যাচে ফেরান নেইমার। ৭৬ মিনিটে এমবাপে এবং ৮১ মিনিটে গোল করে দলের জয় নিশ্চিত করেন মাউরো ইকার্দি।
ম্যানচেস্টার ডার্বি জিতল রেড ডেভিলরা
ম্যানচেস্টার ডার্বিতে সাম্প্রতিক সময়ে পারফরমেন্সের বিচারে এগিয়ে ছিল ম্যানসিটি। তবে ইতিহাদে জয়ের হাসি হাসল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। ম্যানচেস্টার সিটির সঙ্গে ১-২ গোলের জয় পায় ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। ২৩ মিনিটে ভিএআর থেকে পাওয়া পেনাল্টি কাজে লাগিয়ে ইউনাইটেডকে এগিয়ে দেন মার্কাশ রাশফোর্ড। ২৯ মিনিটে অ্যান্থনি মার্সিয়াল আবারও এগিয়ে দেয় ম্যান ইউনাইটেডকে। বিরতির পর ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করতে থাকে স্বাগতিক ম্যানসিটি। তবে এদিন মাঠে দেখা গেল ভিন্ন এক ম্যান ইউনাইটেডকে। দুই গোলে এগিয়ে থাকার পরও গোল ব্যবধান আরও বাড়ানোর চেষ্টা করে গেল সোলসকায়েরের দল। ম্যাচে বল দখল ও শটে এগিয়ে ছিল ম্যানসিটি। ৮৫ মিনিটে রিয়াদ মাহারেজের কর্নার থেকে এক গোল শোধ দেয় পেপ গার্দিওলার দল। এই হারে লিগ জয়ে আরও পিছিয়ে পড়ল ম্যানচেস্টার সিটি। ১৬ ম্যাচ শেষে ৩২ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে তারা। শীর্ষে থাকা লিভারপুলের চেয়ে পিছিয়ে ১৪ পয়েন্টে। আর ম্যান ইউনাইটেড এই জয়ে ২৪ পয়েন্ট নিয়ে উঠে এসেছে পাঁচে। তবে গতকাল রাতে যদি উলভারহ্যাম্পটন জয় পেয়ে থাকে টপকে যাবে ম্যান ইউনাইটেডকে।
লিভারপুল, টটেনহ্যামের জয়
লিগে নিজেদের অবস্থান শক্ত করছে লিভারপুল। রবিবার রাতে বোর্নমাউথের মাঠ থেকে ০-৩ গোলের জয় নিয়ে ফিরেছে লিভারপুল। অল রেডদের হয়ে গোল করেন অ্যালেক্স ওক্সলেড-চেম্বারলিন, নেবি কেইটা এবং মোহামেদ সালাহ। এই জয়ে ৪৬ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে ইয়ুর্গেন ক্লপের দল। এদিকে একই রাতে টটেনহ্যাম ঘরের মাঠে ৫-০ গোলে হারিয়েছে বার্নলিকে। বড় জয়ে জোড়া গোল করেন অধিনায়ক হ্যারি কেইন। এছাড়া ১টি করে গোল করেন লুকাস মোরা, সন হিয়ুং-মিন এবং মুসা সিসোকো। ১৬ ম্যাচ শেষে ২৩ পয়েন্টে ষষ্ঠ স্থানে টটেনহ্যাম।